নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামে পাঁচ হাজার লোধা শবরের আধার কার্ড নেই। ফলে অন্নপূর্ণা যোজনা সহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তাঁরা। জেলার আদিম জনগোষ্ঠী সরকারি নানান সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই লোধা শবর সম্প্রদায়ের দাবি দাওয়া পূরণে এবার আন্দোলনে নামছে শবর উন্নয়ন সমিতি।
ঝাড়গ্রামের অধিকাংশ লোধা-শবর আদিম জনজাতি গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। জেলার ৮টি ব্লকে ২৩ হাজার লোধা শবর জনগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করেন। জঙ্গল থেকে শালপাতা, গাছের শুকনো ডালপালা, কন্দ সংগ্ৰহ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। লোধা শবরদের একাংশ জঙ্গল এলাকার জমি পরিষ্কার করে চাষাবাদ করতেন। সেই জমিও নাকি দখল করে নেওয়া হয়েছে। জঙ্গল অধ্যুষিত নয়াগ্ৰাম ও বিনপুর-২ ব্লকের অধিকাংশ লোধা শবর গোষ্ঠীর মানুষের আধার কার্ড নেই। বেলপাহাড়ীর আমলাশোলেই ৬০ শতাংশ লোধা শবর সম্প্রদায়ের আধার কার্ড হয়নি। ঝাড়গ্রাম শহর লাগোয়া ছোটো টিয়াকাঠি ও বেলপাহাড়ী এলাকায় লোধা শবরদের চাষযোগ্য জমি হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। জমির পাট্টা না থাকায় লোধা শবররা কিছু করতে পারছেন না।
বিনপুর-২ ব্লকের চিন্তামণি শবর, শ্রাবণী শবর, অশোক দেউরি বলেন, আমাদের আধার কার্ড নেই। সরকারি সুযোগ সুবিধাও পাই না। আমলাশোল গ্ৰামের সনাতন শবর, বুদ্ধেশ্বর শবর বলেন, আধার করার জন্য ব্লক অফিসে একাধিকবার গিয়েছি। কোনো সুরাহা হয়নি। আমাদের পূর্বপুরুষরা জঙ্গল পরিষ্কার করে চাষের জমি তৈরি করেছিল। বাইরের লোকজন এসে জোর করে জমি দখল করে নিচ্ছে। বিনপুর-২ ব্লকের শালপাতর, পূর্ণাপানি কদমকুণ্ডি, শিমুলপাল, ভুলাভেদা ও বিনপুর-১ ব্লকের বাদরবনী সহ একাধিক গ্ৰামের লোধা শবররা আধার কার্ড না থাকায় চরম সমস্যায় পড়ছেন। নয়াগ্ৰামের পাতিনা এলাকার জামশোলা ও সিংঘুই গ্ৰামের ১৫০ ছেলেমেয়ের আধার কার্ড ছিল না। আধার কার্ডের জন্য বাবা-মায়েদের ৩০০ টাকা চাওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। সেই টাকা অনেকে দিতে পারেননি। ঝাড়গ্রামের বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ বলন, জেলায় তিন হাজারের উপর লোধা-শবরের আধার কার্ড নেই। সকলের আধার কার্ড যাতে হয়, তার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জেলা শবর উন্নয়ন সমিতির উপদেষ্টা দীনেশ মাহাত বলেন, জেলার বড়ো সংখ্যক লোধা শবর গোষ্ঠীর মানুষের কাছে এখনো আধার কার্ড নেই। অন্নপূর্ণা যোজনা থেকে অন্য সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। লোধা-শবরদের চাষের জমি বেহাত হয়ে যাচ্ছে। এই নিয়ে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। শবরদের একাধিক দাবি দাওয়া পূরণের দাবিতে আমরা আন্দোলনে নামতে চলেছি।