


নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: গৌড়বঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় রামনবমীর শোভাযাত্রায় অস্ত্র হাতে দেখা গেল ছোটদেরও! শোনা গেল রাজনৈতিক স্লোগান। অস্ত্র দিয়ে ছেঁড়া হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূলের বিদায়ী বিধায়কের পোস্টারও।
শুক্রবার ইংলিশবাজার শহরে রামকৃষ্ণ পল্লির মাঠের সামনে শোভাযাত্রা শুরু হয়ে সুকান্ত মোড়, বিএস রোড, ফোয়াড়া মোড় হয়ে শোভাযাত্রা শহর পরিক্রমা করে। তবে,নিষেধ সত্বেও নানা ধরনের ধারাল অস্ত্রের প্রদর্শনী দেখা গিয়েছে এদিন। অস্ত্র হাতে রীতিমতো দাপাদাপি করতে দেখা যায় যুবকদের। ছোটদের হাতেও ছিল অস্ত্র। শহরের ফোয়াড়া মোড়ে অস্ত্র নিয়ে খেলাও দেখায় ছোটরা। গাড়ির উপর দাঁড়িয়ে দু’হাতে অস্ত্র নাচাতে দেখা যায় এক যুবককে। অস্ত্র ‘প্রদর্শনী’ প্রসঙ্গে ইংলিশবাজার কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী অম্লান ভাদুড়ি বলেন, রামনবমীর শোভাযাত্রায় অন্যান্য বছরের তুলনায় উৎসাহ, উদ্দীপনা অনেক বেশি। উৎসাহে কিছু বাচ্চা ছেলে অস্ত্র হাতে নিয়েছিল। কিন্তু কাউকে ভয় দেখানো, আঘাত করার জন্য নয়। আমাদের দেবতাদের হাতে যে অস্ত্র থাকে, সেই ধরনের অস্ত্রই ছিল। যদিও বিজেপির এই যুক্তি মানতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস। দলের মালদহ জেলার মুখপাত্র শুভময় বসুর মন্তব্য, এটা বাংলার সংস্কৃতি নয়। ভোট এসেছে বলে অস্ত্রের দাপাদাপিও বেড়েছে। ভগবান রাম এই অস্ত্র প্রদর্শনী চান না। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ ধর্মীয় অনুশাসন মানেন, কিন্তু ধর্মান্ধতা মেনে নেন না।
মানিকচকে রামনবমীর শোভাযাত্রা থেকে আবার শোনা যায় রাজনৈতিক স্লোগান। ছিঁড়ে ফেলা হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রাক্তন বিধায়কের পোস্টার। মানিকচক বাসস্ট্যান্ডে নেতাজির প্রতিকৃতিতে ধর্মীয় ঝান্ডা লাগিয়ে দেন এক যুবক। পরে সেটি খুলে লাগানো হয় জাতীয় পতাকা। বিজেপি প্রার্থী গৌরচন্দ্র মণ্ডল বলেন, এটি একটি ধর্মীয় মিছিল। এখানে অনেকে অংশগ্রহণ করেছেন। কে কী করেছেন, আমার জানা নেই।
শোভাযাত্রায় অস্ত্র হাতে দাপাদাপির দৃশ্য ধরা পড়ে দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলি এবং বোল্লাতেও। হরিশ্চন্দ্রপুরে আবার অন্য ছবি দেখা গিয়েছে। শোভাযাত্রায় গেরুয়া পাগড়ি পড়ে জল, শরবত নিয়ে সম্প্রীতির বার্তা দিলেন হরিশ্চন্দ্রপুর বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী মতিবুর রহমান।
গড়গড়ি মাঠ থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে সেখানেই শেষ হয়। মাঝে রাস্তায় গেরুয়া পাগড়ি পড়ে রামভক্তদের জল, শরবত দেন তৃণমূল প্রার্থী।