নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: আগামী দিনে বিশ্বের বাজারে পানের বাজার দখলে কার্গো বিমানের জন্য কেন্দ্রের অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের দ্বারস্থ হবে রাজ্য। পাশাপাশি দূরপাল্লার ট্রেনে অন্তত একটি কামরা যাতে পানের জন্য সংরক্ষিত করা হয় সেই চেষ্টায় রেলমন্ত্রকের দ্বারস্থ হবে রাজ্যের কৃষি-বিপণন দপ্তর। শুক্রবার খেজুরি-১ ব্লকের বারাতলা পঞ্চায়েতের সমিনার হলে পানচাষি, আড়তদার ও পান ব্যবসায়ীদের নিয়ে এক সচেতনতা শিবিরে পান নিয়ে এমনই আশার কথা শোনালেন রাজ্যের কৃষি বিপণন মন্ত্রী বেচারাম মান্না। তিনি আরও বলেন, পান খেলে শরীরে কোনওরকম ক্ষতি হয় না। এনিয়ে সেমিনার আয়োজন করে পানের জনপ্রিয়তা বাড়ানো হচ্ছে। আগামী দিনে উন্নতমানের পানের জন্য ল্যাব তৈরি করে পরীক্ষানিরীক্ষা হবে বলেও কৃষক পরিবার থেকে ওঠে আসা রাজ্যের মন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন। এরাজ্যে পানচাষিদের একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা হল, গুছি এবং নিলামের ডাক। কত সংখ্যক পান নিয়ে এক গুছি হবে তানিয়ে বিতর্ক চলছিল। নিয়ম অনুযায়ী, ৫০টি পানে এক গুছি। কিন্তু, বাজারে পান বিক্রি করার সময় চাষিরা প্রতি গুছিতে একশো, দেড়শো, দু’শো এমনকী আড়াইশো পান দিতে বাধ্য হতেন। এনিয়ে কোনও নির্দিষ্ট নিয়ম ছিল না। পানের চাহিদা অনুযায়ী গুছিতে পানের সংখ্যা কম-বেশি হতো। এনিয়ে পান চাষিদের মধ্যে একটা অসন্তোষ চলছিল। তাছাড়া ব্যবসায়ীরা এই সুযোগ কাজে লাগাতেন বলে অভিযোগ। তাতে ক্ষতি হতো চাষিদের। এছাড়া পানের নিলামে রেট ফিক্সড হওয়ার পরও কখনও কখনও চাষিদের কম টাকা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। গুছিতে নিম্নমানের পান ঢুকিয়ে দেওয়ার অভিযোগে এটা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা পানচাষিদের এই দুই সমস্যা সমাধানে তৎপর হন মন্ত্রী বেচারামবাবু। এজন্য দক্ষিণ ২৪পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে দফায় দফায় মিটিং করছেন। ব্লক ও মহকুমাভিত্তিক পানচাষি, পান ব্যবসায়ী এবং আড়তদারদের নিয়ে সচেতনতা সভা করছেন। এরআগে পূর্ব মেদিনীপুরে তিনি তিনটি সভা করেছেন। শুক্রবার খেজুরিতে তিনি কাঁথি মহকুমা এলাকার পান চাষি, আড়তদার ও পান ব্যবসায়ীদের নিয়ে সভা করেন। সভায় কাঁথির মহকুমা শাসক সৌভিক ভট্টাচার্য, জেলা পরিষদের কৃষি সেচ ও সমবায় স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ মানসকুমার পণ্ডা, খেজুরি-১ ও ২ বিডিও প্রমুখ ছিলেন।



