নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: মহিলাদের জন্য সরকারি বাসে বিনা ভাড়ায় যাতায়াতের কথা ঘোষণা হয়েছে এক মাস আগে। জেলায় জেলায় রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের ডিপোতে ঘটা করে প্রকল্পের সূচনাও হয়। কিন্তু, মহিলাদের দেখে বাস দাঁড়াচ্ছে না বলে অভিযোগ। এনিয়ে সরব হচ্ছেন মহিলা যাত্রীরা। কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ করে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। কেউ আবার রাগের মাথায় কন্ডাক্টরের উপর চড়াও হচ্ছেন।
দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের বাঁকুড়া ডিপোর এক আধিকারিক বলেন, আমাদের কাছেও মহিলা যাত্রীদের অভিযোগ এসেছে। সেসব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে মহিলা যাত্রীদের কেউ কেউ ধৈর্য হারিয়ে বাস কর্মীদের উপর চড়াও হচ্ছেন। শুক্রবার এক যাত্রী বাঁকুড়া ডিপোয় এসে বাসের কন্ডাক্টরকে হেনস্তা করেছেন। যদিও পরে ওই মহিলা যাত্রী ক্ষমা চেয়ে নেওয়ায় বিষয়টি মিটমাট হয়ে গিয়েছে।
কী হয়েছিল ওই মহিলা যাত্রীর সঙ্গে? ওই মহিলা অনলাইনে করুণাময়ী-বাঁকুড়া রুটের একটি বাসের টিকিট বুক করেন। শুক্রবার ডানকুনি থেকে তাঁর বাসে ওঠার কথা ছিল। তিনি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই ডানকুনি এলাকার বাস স্টপে এসে হাজির হয়েছিলেন। অভিযোগ, তিনি হাত দেখানো সত্ত্বেও বাসটি থামেনি। পরে ওই মহিলা বেসরকারি ভলভো বাসে চেপে প্রথমে দুর্গাপুরে নামেন। পরে সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে সটান বাঁকুড়া ডিপোয় এসে হাজির হন। কিছুক্ষণ পর বাসটি ডিপোয় ঢুকলে তিনি কন্ডাক্টরে হেনস্তা করেন বলে অভিযোগ। বিষয়টি থানা পর্যন্ত গড়ায়। শনিবার ওই মহিলা ডিপোয় গিয়ে কন্ডাক্টরের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন। তিনি মুচলেকাও দেন। ফলে বিষয়টি মিটে যায়।
কয়েকদিন আগে বড়জোড়া বাসস্টপ থেকে এক যুবতী সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ করে সরকারি বাস পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি জানান, দুর্গাপুর থেকে সকালে ছেড়ে আসা একটি বাস ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুর পর্যন্ত যায়। জরুরি প্রয়োজনে ওই বাসে চেপে তাঁর যাওয়ার কথা ছিল। হাত দেখানোর পরেও চালক বড়জোড়া স্টপে বাস থামাননি। তার ফলে তিনি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছতে পারেননি। ফ্রিতে মহিলাদের বাসে নিয়ে যেতে না পারলে কেন সরকার সে কথা ঘোষণা করেছে, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। তারপর তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।