Bartaman Logo
১৭ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আদ্রায় অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর আত্মহত্যা করার পরই আত্মঘাতী হলেন স্বামী, মাত্র চার মাসের দাম্পত্য স্ত্রীকে সন্দেহ করা নিয়ে অশান্তি

আদ্রায় অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর আত্মহত্যার পর স্বামীও আত্মঘাতী হন। দাম্পত্য জীবনে সন্দেহের কারণে ঘটেছে এই মর্মান্তিক ঘটনা। বিস্তারিত পড়ুন।

আদ্রায় অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর আত্মহত্যা  করার পরই আত্মঘাতী হলেন স্বামী, মাত্র চার মাসের দাম্পত্য স্ত্রীকে সন্দেহ করা নিয়ে অশান্তি
  • ১৭ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: মাত্র চার মাসের দাম্পত্য। অন্তঃসত্ত্বা হন স্ত্রী। কিন্তু, তার মধ্যেই স্ত্রীকে সন্দেহ শুরু করেন স্বামী। তা নিয়েই দু’জনের মধ্যে অশান্তির সূত্রপাত হয়। প্রায়ই স্বামী ও স্ত্রীর বিবাদ লেগেই থাকত। সোমবার দুপুরেও অশান্তির পর স্বামী বাড়ি থেকে কাজে বেরিয়ে যান। তারপরেই স্ত্রী কীটনাশক খেয়ে নেন বলে দাবি পরিবারের। স্ত্রীকে হাসপাতাল নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। স্ত্রীর দেহ হাসপাতালে রেখেই বাড়িতে এসে গলায় দড়ি নিয়ে আত্মঘাতী হন স্বামী। সোমবার মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে পুরুলিয়া জেলার আদ্রা থানার পলাশকোলা গ্রামে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতেরা হলেন সুশান্ত গোস্বামী(৩০) ও অনুসা ঘোষ(২৫)। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

Advertisement

পুলিশের একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, সুশান্তবাবু আদ্রায় একটি ঠেলা গাড়িতে তেলেভাজা ভেজে বিক্রি করতেন। বাবা, মা ও স্ত্রীকে নিয়ে ছিল সংসার। চার মাস আগে বাঁকুড়া শহরের মেয়ে অনুসার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। অনুসা অন্তঃসত্ত্বা হন। তবে, প্রায় দু’মাস ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সন্দেহ দানা বাঁধে। সুশান্তবাবু তাঁর স্ত্রীকে সন্দেহ করতেন বলে অভিযোগ। আর তা নিয়ে শুরু হয় বিবাদ। ঘটনার দিন বিকালে তাঁদের মধ্যে অশান্তি হয়। তারপর সুশান্তবাবু কাজে বেরিয়ে যান। বাড়িতে একাই ছিলেন অনুসাদেবী। তিনি কীটনাশক খেয়ে নেন। বাবার কাছ থেকে এই খবর পেয়ে সুশান্তবাবু বাড়িতে আসেন। বাবাকে সঙ্গে নিয়ে স্ত্রীকে গাড়িতে করে রঘুনাথপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা অনুসাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। স্ত্রী মৃত্যুর পর সুশান্তবাবু নিজেকে ঠিক রাখতে পারেননি। বাবাকে হাসপাতালে রেখে বাড়ি থেকে কাগজপত্র আনতে যাচ্ছি বলে বের হন। কিন্তু আর ফেরেনি। পুলিশের কাছে খবর আসে সুশান্তবাবু বাড়িতে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন। রঘুনাথপুর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক রোহেদ শেখ, আদ্রা থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যায়। সুশান্তবাবুকে উদ্ধার করে রঘুনাথপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকেও মৃত বলে ঘোষণা করেন।
মহকুমা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, স্ত্রীকে সন্দেহের জেরে ঝামেলার সূত্রপাত হয়। আর সেই থেকে করুণ পরিণতি। ঘটনার পরে মেয়ের বাপের বাড়িতে খবর দেওয়া হয়। তবে, বাপের বাড়ি থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো অভিযোগ জানানো হয়নি। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। 
পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, আপাতত অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে। তবে বধূর মৃত্যুর কারণ বিষপান নাকি অন্যভাবে মারা গিয়েছেন, তা জানা যাবে ময়নাতদন্তের পর। মঙ্গলবার ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ে অনুসার দেহ সুরতাহাল করা হয়। এদিন দেহ দু’টি পুরুলিয়ায় ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ