Bartaman Logo
১৯ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ইমারতি দ্রব্যের দাম দ্বিগুণ, ফাঁপরে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের উপভোক্তারা

ইমারতি দ্রব্যের দাম দ্বিগুণ, ফাঁপরে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের উপভোক্তারা
  • ২০ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, কাটোয়া: বাংলার বাড়ি প্রকল্পে গরিব মানুষদের মোট এক লক্ষ ২০ হাজার টাকা দেবে রাজ্য সরকার। যার মধ্যে অ্যাকাউন্টে ৬০ হাজার টাকা ইতিমধ্যেই দিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাড়ি তৈরির জন্য এখন হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছে উপভোক্তাদের মধ্যে। তবে, দ্বিগুণ হয়েছে ইমারতি দ্রব্য। রাতারাতি দাম বেড়ে যাওয়ায় ফাঁপরে পড়েছেন উপভোক্তারা। কেন রাতারাতি দাম বাড়ল তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই ইমারতি দ্রব্য কিনতে ঋণ নেওয়া শুরু করে দিয়েছেন। দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ দাবি করছেন উপভোক্তারা। 
Advertisement
বাংলার বাড়ি প্রকল্পের টাকা ঢুকতেই চাহিদা বেড়েছে ইমারতি দ্রব্যের। মাত্র একমাস আগে এক ট্রাক ইটের দাম সাড়ে ১১ হাজার টাকা ছিল। তা বেড়ে ১৪ থেকে ১৬ হাজার টাকা চাওয়া হচ্ছে। বালি সাড়ে চার হাজার টাকা দাম ছিল। এখন এক ট্রাক বালির দাম বেড়ে সাড়ে পাঁচ হাজার থেকে ছ’হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। রড আগে ছিল ছ’হাজার টাকা। এখন ক্যুইন্টাল প্রতি ৭ হাজার ২০০ টাকা দাম পড়ছে। ইমারতি দ্রব্য কিনতে নাজেহাল হচ্ছেন উপভোক্তারা। কাটোয়ার বাসিন্দা মানিক শেখ বলেন, এক মাস আগে যা দাম ছিল এখন সেটা বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে। সামান্য ভিত তৈরি করতেই সব টাকা শেষ হয়ে যাবে বলে মনে হচ্ছে। বাড়ি উঠবে কি না চিন্তা হচ্ছে। আর এক উপভোক্তা ধানু শেখ বলেন, ধার করতে হচ্ছে ইট, বালি কিনতে। এখন সিমেদ্টের বস্তা পিছু ৩২০ টাকা থেকে বেড়ে গিয়ে ৩৬০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। 
কাটোয়া ব্রিকস ফিল্ড অ্যাশোসিয়েসানের সম্পাদক মণিরুল ইসলাম বলেন, এখন মূল সমস্যা উৎপাদন হচ্ছে না। তাই দাম বেড়ে যাচ্ছে। প্রথমত প্রয়োজনীয় শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। আচমকা ইটের চাহিদা বেড়ে যাওয়াতেই এই সমস্যা হয়েছে। তাছাড়া ইট তৈরি করতে গঙ্গার সাদা পলিমাটি পাচ্ছি না। আমরা প্রশাসনকে বারবার লিখিতভাবে জানিয়েও কোনও ফল পাইনি। কাটোয়ার এক ইমারতি ব্যবসায়ী বলেন, এখন বালি পাওয়া যাচ্ছে না। সব বালির ঘাট বন্ধের জন্য সাপ্লাই নেই। তাই বেশি দাম দিয়ে মজুত বালি কিনতে হচ্ছে।
কাটোয়া মহকুমাজুড়ে কয়েক হাজার সরকারি বাড়ি তৈরি হচ্ছে। তাই অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, আচমকা কোনও অসাধু চক্র ক্রাইসিস তৈরি করে বেশি মুনাফা লাভের জন্য এমনটা করছে কি না প্রশাসনকে তা দেখা দরকার। তা নাহলে সরকারি বাড়ি তৈরি করতে গিয়ে বহু গরিব মানুষকে হিমশিম খেতে হবে।
কাটোয়ার এক ইটভাটার মালিক বলেন, ইটের দাম ঠিক হয় দূরত্ব অনুযায়ী। ভাটার দাম সাড়ে ১০ হাজার টাকা ট্রাক পিছু হলেও বেশি দূরে গেলে গাড়ি ভাড়া বাবদ তার দাম অনেকটাই বেড়ে যায়। কিন্তু চাহিদা এসময় এতটাই বেড়ে গিয়েছে যে কেউ কেউ ইচ্ছা করে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। প্রশাসন তদন্ত করলেই সব বের হতে পারে। এ প্রসঙ্গে বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমরা বিষয়টি খোঁজ নেব ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করব।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ