Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

কর্মকুশলতা বৃদ্ধি: কেন্দ্রীয় কর্মসূচির দুরবস্থা প্রকাশ্যে

ফের প্রকাশ্যে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মসূচির বেহাল দশা। গত তিনটি আর্থিক বছরে কর্মকুশলতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত কর্মসূচিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়েছেন প্রায় ২৮ লক্ষ।

কর্মকুশলতা বৃদ্ধি: কেন্দ্রীয় কর্মসূচির দুরবস্থা প্রকাশ্যে
  • ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: ফের প্রকাশ্যে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মসূচির বেহাল দশা। গত তিনটি আর্থিক বছরে কর্মকুশলতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত কর্মসূচিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়েছেন প্রায় ২৮ লক্ষ। কিন্তু তাঁদের মধ্যে সার্টিফায়েড হয়েছেন মাত্র ২০ লক্ষ। এখানেই শেষ নয়। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে উল্লিখিত কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মসূচিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তের সংখ্যা ১৭ লক্ষ থেকে কমে হয়েছে মাত্র এক লক্ষ। বৃহস্পতিবার সংসদে এমনই খতিয়ান পেশ করেছে শ্রমমন্ত্রক। স্বাভাবিকভাবেই একে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। 

Advertisement

বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় তরুণ-তরুণীদের মধ্যে বেকারত্বের হার নিয়ে লিখিত প্রশ্ন করেন ডিএমকে সাংসদ কেআরএন রাজেশকুমার। তারই লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী কৌশল বিকাশ যোজনা (পিএমকেভিওয়াই) কর্মসূচির উল্লেখ করেন কেন্দ্রীয় শ্রম রাষ্ট্রমন্ত্রী শোভা করন্দলাজে। প্রসঙ্গত, ২০১৫ সাল থেকে স্কিল ডেভেলপমেন্ট মন্ত্রকের আওতায় ওই কর্মসূচির রূপায়ণ হচ্ছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এক্ষেত্রে উল্লিখিত কর্মসূচির স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত যে খতিয়ান পেশ করেছেন, তা চমকে ওঠার মতো। দেখা যাচ্ছে, ২০২৩-২৪, ২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরে প্রধানমন্ত্রী কৌশল বিকাশ যোজনা কর্মসূচিতে মোট ২৮ লক্ষ ২৪ হাজার ৭০২ জন প্রশিক্ষিত হয়েছেন। কিন্তু তাঁদের মধ্যে সার্টিফায়েড হয়েছেন ২০ লক্ষ ৬৫ হাজার ৫৭২ জন। অন্যদিকে রাজ্যসভায় পেশ করা ওই খতিয়ান থেকে দেখা যাচ্ছে যে, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে উল্লিখিত কর্মসূচিতে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন ১৭ লক্ষ ৩৩ হাজার ৫০৩ জন। অথচ ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরে তা কমে হয়েছে মাত্র ১ লক্ষ ২০ হাজার ৯৬৫। যদিও শ্রমমন্ত্রকের ব্যাখ্যা, ২০২৫-২৬ আর্থিক বছর এখনও শেষ হয়নি। ফলে এই পরিসংখ্যান বদলে যাবে। কিন্তু মাত্র দেড় মাস সময়ের মধ্যে এক লক্ষ থেকে বেড়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তের সংখ্যা ১৭ লক্ষেরও বেশি হয়ে যাবে? এই প্রশ্ন ঘিরে শুরু হয়েছে চর্চা। 
রাজ্যসভায় শ্রমমন্ত্রকের লিখিত জবাব থেকে জানা যাচ্ছে, ২০২৩-২৪ আর্থিক বছরে দেশে বেকার স্নাতকদের হার দাঁড়িয়েছে ১৩ শতাংশ। স্নাতকোত্তর এবং তারও বেশি শিক্ষাগত যোগ্যতার তরুণ-তরুণীদের মধ্যে বেকারত্বের হার ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে এসে ঠেকেছে ১২.৪ শতাংশ। দু’টো হারই ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষের তুলনায় কম বলেই লিখিত জবাবে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় শ্রম রাষ্ট্রমন্ত্রী। অন্যদিকে, এদিন লোকসভা এবং রাজ্যসভা সংসদের দু’কক্ষেই পাস হয়েছে ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিলেশনস কোড (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’। রাজ্যসভায় বিল পাস করানোর সময় কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য বলেছেন, সংশ্লিষ্ট শ্রম কোডে আইনি স্বচ্ছতা আনার জন্যই সংশোধনী আনা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এব্যাপারে কোনো ধোঁয়াশার সৃষ্টি না হয়। কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, শ্রমিক-কর্মচারীদের নাকি ১২-১৪ ঘণ্টা কাজ করতে হবে। এর কোনো ভিত্তি নেই। কারণ আইএলওর নিয়ম অনুসারে সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করানো যাবে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ