Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ইদের পরই নন্দীগ্রামে বুলডোজার অভিযান, বাসস্ট্যান্ড, হাসপাতাল চত্বর থেকে স্টল সরাতে মাইকিং

নন্দীগ্রাম জেলা হাসপাতাল ও বাসস্ট্যান্ড চত্বরের সরকারি জায়গা থেকে সমস্ত দোকান, স্টল, নির্মাণ ভেঙে ফেলতে হবে।

ইদের পরই নন্দীগ্রামে বুলডোজার অভিযান, বাসস্ট্যান্ড, হাসপাতাল চত্বর থেকে স্টল সরাতে মাইকিং
  • ২৭ মে, ২০২৬ ১৫:০৫

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: নন্দীগ্রাম জেলা হাসপাতাল ও বাসস্ট্যান্ড চত্বরের সরকারি জায়গা থেকে সমস্ত দোকান, স্টল, নির্মাণ ভেঙে ফেলতে হবে। এনিয়ে বিজেপি পরিচালিত নন্দীগ্রাম-১ পঞ্চায়েত সমিতি থেকে মাইকিং শুরু হয়েছে। আজ, বুধবারও এনিয়ে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মাইকিং হবে। আগামী তিনদিনের মধ্যে সব ধরনের নির্মাণ না সরিয়ে না নিলে ইদের পরই বুলডোজার দিয়ে সাফ করা হবে এলাকা। এমনটাই জানিয়েছেন বিজেপি পরিচালিত নন্দীগ্রাম-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শ্যামল সাউ। নির্বাচনের পর উচ্ছ্বাস, উন্মাদনার মধ্যেই দোকানঘর, স্টল ভাঙার খবরে ছোট দোকানদার, ব্যবসায়ীদের মন খারাপ। 

Advertisement

নন্দীগ্রাম-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শ্যামল সাউ বলেন, পঞ্চায়েত সমিতির সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত ও মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের অভিযোগের ভিত্তিতে হাসপাতাল চত্বর দখলমুক্ত করা হবে। নন্দীগ্রাম জেলা হাসপাতাল চত্বরে প্রায় ২৩টি দোকান ও স্টল আছে। সাতদিনের মধ্যে সেসব খালি করার নোটিস দিয়েছি। এছাড়া, নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ড এবং সেখান থেকে টেঙ্গুয়া পর্যন্ত রাস্তার দু’ধারে সরকারি জায়গায় সব দোকানঘর সরানো হবে। তারপর জল প্রকল্পের পাইপলাইন পাতা হবে। আমরা মাইকে প্রচার করছি। এজন্য তিনদিন সময় দিয়েছি। ইদের পর এলাকা পরিষ্কার করা হবে।
নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ড এবং সেখান থেকে টেঙ্গুয়া পর্যন্ত একশোর বেশি দোকানপাট, স্টল আছে। অনেকেই গত ৩০-৪০বছর ধরে ব্যবসা করছেন। ২০২১সালে একবার তাদের সরে যাওয়ার জন্য তোড়জোড় শুরু হয়েছিল। সেই সময় ৮৭জন দোকানদারের একটা লিস্ট তৈরি হয়েছিল। ওই ব্যবসায়ী ও দোকানদাররা সরকারের সঙ্গে সংঘাতে যেতে চান না। পঞ্চায়েত সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরে যেতে চান। তবে, পুনর্বাসনের আর্জি জানিয়েছেন। সোমবার নন্দীগ্রাম বাজার ব্যবসায়ী সমিতির এক প্রতিনিধি দল থানার আইসির সঙ্গে দেখা করে পুনর্বাসনের আর্জি জানান। তাঁদের বক্তব্য, বাসস্ট্যান্ড থেকে পূর্বদিকে পূর্তদপ্তরের অনেকটা জায়গা পড়ে আছে। ঝোপঝাড় গজিয়ে উঠেছে। সেই জায়গায় সরকারিভাবে স্টল বানিয়ে ভাড়ার ভিত্তিতে দোকান দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক। 
বটতলার শেখ সাবির বাসস্ট্যান্ডে ফলের দোকান চালান। বটতলার বাহাল শেখ মাংসের দোকান চালিয়ে সংসার চালান। গদাইবলবাড়ের আবেদ আলি চায়ের দোকান ও সফি মল্লিক খাওয়ার দোকান করেই দিন গুজরান করেন। ইদের মুখে দোকানঘর ভাঙার নোটিসে প্রত্যেকেই মনমরা। মঙ্গলবারও তাঁরা প্রত্যেকে দোকান খুলেছেন। তবে, এখান থেকে পাততাড়ি গোটাতে হবে সেটা সকলেই বুঝতে পারছেন। তাঁরা চাইছেন, রুজিরুটির কথা ভেবে একটা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক।
নন্দীগ্রাম বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শেখ শাহিদুজ্জামান বলেন, আমরা সকলেই উন্নয়নের পক্ষে। জলপ্রকল্পে পাইপলাইন পাতার কাজে বাধা দেওয়া আমাদের উদ্দেশ্য নয়। তবে, ৩০-৪০বছর ধরে যাঁরা ব্যবসা করে খাচ্ছেন তাঁদের একটা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা হলে ভালো হয়। এখানকার ভূমিপুত্র শুভেন্দু অধিকারী এখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি চাইলে এই গরিব অসহায় দোকানদারদের জন্য কিছু করতে পারেন বলে আমরা বিশ্বাস করি। নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ড ও কলেজের সামনে বসা ব্যবসায়ীদের একাংশ পূর্ত দপ্তরের জায়গায় ব্যবসা করার জন্য প্রতি মাসে তৃণমূল নেতাদের মাসোহারা দিতেন বলে জানিয়েছেন। কীভাবে এই টাকা আদায় হত এবং কাদের পকেটে সেই টাকা যেত সেটা নিয়ে তদন্ত হবে বলেও পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শ্যামলবাবু জানিয়েছেন। চলছে মাইকিং।

সম্পর্কিত সংবাদ