নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: হাসপাতাল চত্বরে বিভিন্ন দেওয়ালে ‘নো পার্কিং’ লেখা রয়েছে। অথচ তার সামনেই বছরের পর বছর ধরে রয়েছে অবৈধ বাইক ও সাইকেল স্ট্যান্ড। দিনভর বহিরাগত অ্যাম্বুলেন্স ও দালালচক্রের দৌরাত্ম্য, রাতে রোগীর পরিজনদের ভিড়ে চোর-পকেটমারদের আনাগোনা, হাসপাতালের সর্বত্র ধূমপান ও পান-তামাকের পিক ফেলার মতো ঘটনা কার্যত নিত্যদিনের ছবি হয়ে উঠেছে হাওড়া জেলা হাসপাতালে। সেই চিত্র বদলাতে এবার স্পেশাল ড্রাইভে নামছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাওড়া সিটি পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে এই স্পেশাল ড্রাইভ চালানো হবে। ফলে হাসপাতাল চত্বরকে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল করে তোলা সম্ভব হবে বলেই দাবি কর্তৃপক্ষের।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম পর্যায়ে হাসপাতাল চত্বরকে অবৈধ পার্কিং ও বহিরাগত অ্যাম্বুলেন্স মুক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের নিজস্ব গাড়ি, চিকিৎসক ও আধিকারিকদের গাড়িতে বিশেষ ধরনের স্টিকার লাগানো হবে। শুধুমাত্র সেই স্টিকারযুক্ত গাড়িকেই নির্দিষ্ট পার্কিং এলাকায় প্রবেশ ও গাড়ি রাখার অনুমতি দেওয়া হবে। হাসপাতালের ভিতরে কোনো বহিরাগত অ্যাম্বুলেন্স বা অন্য গাড়ি ঢুকতে পারবে না। এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই হাওড়া থানার সঙ্গে বৈঠক করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল সূত্রের দাবি, নিয়ম ভেঙে কোনো বহিরাগত অ্যাম্বুলেন্স বা গাড়ি হাসপাতাল চত্বরে ঢুকলে সরাসরি মোটা অঙ্কের জরিমানা করা হবে।
নিরাপত্তা জোরদার করতেও একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। রাতে বহিরাগতদের আনাগোনা রুখতে ইতিমধ্যেই হাওড়া থানার তরফে নাইট পেট্রলিং শুরু হয়েছে। ধরপাকড় চলছে। পাশাপাশি হাসপাতালের পিছনের দিকে সীমানা প্রাচীরে ফেন্সিং বসানোর কাজ চলছে, যাতে রাতের অন্ধকারে চোর-ছিনতাইবাজ ও নেশাগ্রস্তদের প্রবেশ বন্ধ করা যায়। হাসপাতাল চত্বরে দীর্ঘদিনের নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ অনেকটাই কাটবে।
অন্যদিকে, হাসপাতালের মতো নো স্মোকিং জোনে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য সেবনের বিরুদ্ধেও কড়া অভিযান শুরু হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, শুধু রোগীর পরিজনরা নয়, নজরদারির অভাবে হাসপাতালের কর্মীদের একাংশের মধ্যেও এই প্রবণতা দেখা গিয়েছে। তাই হাসপাতালের নিজস্ব কর্মীদের দিয়েই প্রথমে তামাকবিরোধী অভিযান শুরু করা হবে। হাসপাতাল চত্বরে ধূমপান বা তামাকজাত দ্রব্য সেবন করতে গিয়ে ধরা পড়লে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সরাসরি জরিমানাও করা হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, এই স্পেশাল ড্রাইভের ফলে আগামী ৬ মাসের মধ্যেই হাওড়া জেলা হাসপাতালকে আরও পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল করে তোলা সম্ভব হবে।