Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বেআইনি নির্মাণে জল-বিদ্যুৎ বন্ধ হচ্ছে, ঢুকছে বুলডোজার

যোগীরাজ্যের মতোই বাংলায় বিজেপি সরকার আসার সঙ্গে সঙ্গে মহানগরী কলকাতায় শুরু হয়ে গেল ‘বুলডোজার ডোজ’! মঙ্গলবার তপসিয়ায় এক বহুতলে বিধ্বংসী আগুনে মৃত্যু হয়েছিল দু’জনের।

বেআইনি নির্মাণে জল-বিদ্যুৎ বন্ধ হচ্ছে, ঢুকছে বুলডোজার
  • ১৪ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যোগীরাজ্যের মতোই বাংলায় বিজেপি সরকার আসার সঙ্গে সঙ্গে মহানগরী কলকাতায় শুরু হয়ে গেল ‘বুলডোজার ডোজ’! মঙ্গলবার তপসিয়ায় এক বহুতলে বিধ্বংসী আগুনে মৃত্যু হয়েছিল দু’জনের। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বুলডোজার চলল সেই অবৈধ বহুতলে। কোনো বিল্ডিং প্ল্যান ছাড়াই সেটি তৈরি হয়েছিল। বুধবার বিকেলে কেএমডিএ এবং কলকাতা পুরসভা যৌথভাবে ওই অবৈধ বহুতল ভেঙে ফেলার কাজ শুরু করেছে। তার আগেই অবশ্য ভবনটির জল-বিদ্যুৎ সংযোগও স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন করা হয়। বেআইনি নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেককে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি— ‘সতর্ক হয়ে যান।’

Advertisement

তপসিয়ার ৫০/১বি/১ নম্বরের ওই বহুতলে একটি চামড়ার কারখানা ছিল। মঙ্গলবার দুপুরে সেখানে আগুন লাগে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ওই অগ্নিকাণ্ডের তদন্তে চারটি দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে তৈরি হয়েছিল একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি। মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের তরফে জারি করা নির্দেশনামায় বলা হয়েছিল, বুধবার সকাল ১১টার মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে হবে কমিটিকে। এদিন জমা পড়া সেই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়— তপসিয়ার ওই বহুতলের কোনো বিল্ডিং প্ল্যান নেই। অর্থাৎ অবৈধ নির্মাণ এটি। এমনকি সেখানে নেই অগ্নিনির্বাপণের কোনো ব্যবস্থা। তার জেরেই ওই ঘটনা। এমএসএমই দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব, দমকল দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব, কলকাতার পুলিশ কমিশনার এবং কলকাতা পুরসভার মিউনিসিপাল কমিশনারকে নিয়ে গঠিত ওই কমিটির রিপোর্ট জমা পড়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। এরপরই আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বেআইনি ওই নির্মাণ ভাঙার নির্দেশ দেন তিনি। সেইমতো কলকাতা পুরসভা ও কেএমডিএ’র আধিকারিকরা বুলডোজার, গাঁইতি, হাতুড়ি সহ একদল শ্রমিককে নিয়ে পৌঁছে যান তপসিয়ার জি জে খান রোডে। সঙ্গে কলকাতা পুলিশ, র‌্যাফ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর বড়ো টিম। গোটা এলাকা ঘিরে বহুতল ভাঙার কাজ শুরুর সময় কিছু বাসিন্দা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পুলিশ অবশ্য তাঁদের সরিয়ে দেয়। 
এদিনই শহর তথা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের অবৈধ বহুতল ও কারখানা নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিভাগীয় কমিটি যে রিপোর্ট জমা দিয়েছিল, তা রাজ্য বা কলকাতার ক্ষেত্রে অশনি সংকেত! তাই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কসবা, তিলজলা, মোমিনপুর, একবালপুর এলাকায় ইন্টারনাল অডিট করে সব বেআইনি নির্মাণের বিদ্যুৎ সংযোগ ছিন্ন করা হবে। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল অবশ্য জানিয়েছেন, এরকম নির্মাণ চিহ্নিত করে প্রথমে তাদের নোটিস পাঠানো হবে। সংশোধন করার একবার সুযোগ দেওয়া হবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ