Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পানীয় জল সরবরাহের অবৈধ ব্যবসা গজিয়ে উঠেছে জেলায়, নেই মিনারেল

পানীয় জল সরবরাহের অবৈধ ব্যবসা গজিয়ে উঠেছে জেলায়, নেই মিনারেল
  • ২৪ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, করিমপুর: একসময় টিউবওয়েলের জল পান করলেও, বর্তমানে কেনা জলই সাধারণ মানুষের একমাত্র ভরসা। আর সেই চাহিদা মেটাতে জেলাজুড়ে গজিয়ে উঠেছে পানীয় জল সরবরাহের অবৈধ ব্যবসা। সেখানে জলে মিশ্রিত মিনারেলের মান পরীক্ষা করা হয় না। ফলে সেই জল পান করলে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা। বিশেষজ্ঞরা জানান, ইতিমধ্যেই নদীয়া জেলার ১০টি ব্লকে তীব্র জল সঙ্কট দেখা দিয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে করিমপুর-১ ও ২ ব্লকও। জেলার বেশকিছু এলাকায় ভূগর্ভস্থ জলে উচ্চমাত্রায় আর্সেনিকের উপস্থিতি রয়েছে। আর্সেনিক থেকে বাঁচতে সাধারণ মানুষ টিউবওয়েল ছেড়ে বিকল্প পানীয় জল পান করতে বাধ্য হচ্ছেন। সেই সুযোগ নিচ্ছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। 

Advertisement

চিকিৎসক তরুণ মজুমদার বলেন, পানীয় জলে নির্দিষ্ট মাত্রায় সোডিয়াম, ক্লোরিন, পটাশিয়াম ও অন্যান্য মিনারেলের উপস্থিতি প্রয়োজন। ব্র্যান্ডেড কিছু বোতলের জলে সেগুলি সঠিক মাত্রায় থাকলেও, এলাকায় গজিয়ে ওঠা জল সরবরাহ কেন্দ্রে সেই নিয়ম আদৌ মানা হয় না। ওই জল পান করলে ডায়ারিয়া, কলেরা ও টাইফয়েডের মতো জলবাহিত রোগ সহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে কিডনির ক্ষতি, লিভারের সমস্যা এমনকী, ক্যান্সারও হতে পারে। এব্যাপারে প্রশাসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
‘জলঙ্গি বাঁচাও’ কমিটির সম্পাদক শঙ্খশুভ চক্রবর্তী বলেন, ভূগর্ভস্থ জল তুলতে সুইড দপ্তরের অনুমতি প্রয়োজন। অথচ জেলাজুড়ে ছত্রাকের মতো গজিয়ে ওঠা পানীয় জল সরবরাহকারী কেন্দ্রের অধিকাংশেরই কোনও অনুমতি নেই। অল্প খরচে স্থানীয়ভাবে তৈরি যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে পানীয় জল উৎপাদনের পরিকাঠামো গড়ে তুলেছে কিছু অসাধু ব্যক্তি। তারা লক্ষ লক্ষ লিটার ভূগর্ভস্থ জলের অপচয় করে ব্যবসা করছে। শুধুমাত্র ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে দিনের পর দিন ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। এদের কাছে ভারতীয় খাদ্য সুরক্ষা ও মান দপ্তরের(FSSAI) বা ভারতীয় মানক দপ্তরের(BIS) কোনও অনুমতি নেই। সঠিক নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির অভাবে জেলার সাধারণ মানুষ দূষিত পানীয় জল কিনে পান করতে একপ্রকার বাধ্য হচ্ছেন। 
নদীয়া জেলা পরিষদের অনুমতিপ্রাপ্ত করিমপুরের জল সরবরাহকারী শিশির দত্ত বলেন, বেশিরভাগ জায়গায় কোনও নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে ব্যবসা চলছে। বাড়িতে বসে জল পাওয়ায় সরকারের বহু টাকা ব্যয়ে তৈরি সজল ধারাগুলিও ব্যবহৃত হচ্ছে না। বেআইনি জল সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
করিমপুরের শিক্ষক দীপক সাহা বলেন, করিমপুর ও আশপাশের এলাকায় প্রায় ৩০টি এমন জল সরবরাহ কেন্দ্র রয়েছে। পরিবেশ ও জনস্বার্থে প্রশাসনের উচিত নিয়মিত জলের গুণমান পরীক্ষা করা ও ভূগর্ভস্থ জলস্তর রিচার্জ করা। পাশাপাশি অনুমতি বিহীন পানীয় জল সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। 
করিমপুর-১ বিডিও দেবদত্ত চক্রবর্তী বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হবে। এব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ