Bartaman Logo
৬ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পকেটমানির টোপ দিয়ে নাবালকদের রক্ত লুট, দুর্গাপুরে অবৈধ ব্ল্যাড র‌্যাকেটের সন্ধান

রক্তের অবৈধ কারবার নিয়ে রাজ্য জুড়ে অভিযানের মাঝেই নাবালকদের রক্ত লুটের অভিযোগ উঠল দুর্গাপুরে।

পকেটমানির টোপ দিয়ে নাবালকদের রক্ত লুট, দুর্গাপুরে অবৈধ ব্ল্যাড র‌্যাকেটের সন্ধান
  • ৬ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: রক্তের অবৈধ কারবার নিয়ে রাজ্য জুড়ে অভিযানের মাঝেই নাবালকদের রক্ত লুটের অভিযোগ উঠল দুর্গাপুরে। ৩০০ টাকা পকেটমানি দেওয়ার টোপ দিয়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে স্কুলপড়ুয়াদের রক্তদান করানো হচ্ছে বলে অভিযোগ। রক্ত পাচার চক্রের এক দালালকে পাকড়াও করে দুর্গাপুরের বেসরকারি স্কুলের অভিভাবকরা মঙ্গলবার দুর্গাপুর থানায় আসেন। অভিভাবকদের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, নাবালকদের টাকার লোভ দেখিয়ে রক্ত লুট করার অভিযোগ পেয়েছি। দোষীদের সাংঘাতিক শাস্তি দেওয়া হবে। আমি পুলিশকে বলেছি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত করতে। পুলিশ কমিশনার প্রণব কুমার বলেন, একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করা হচ্ছে।

Advertisement

অভিযোগ, রীতিমতো মানি মার্কেটিংয়ের কায়দায় নাবালকদের কাছ থেকে রক্ত লুটের র‌্যাকেট গজিয়ে উঠেছে। গত সপ্তাহে দুর্গাপুরের রানাপ্রতাপের একটি স্কুলে বিষয়টি জানাজানি হয়। সেখানকার অষ্টম, নবম ও দ্বাদশ শ্রেণির কিছু পড়ুয়া এই চক্রের ফাঁদে পড়ে রক্ত দিয়েছে। মঙ্গলবার স্কুল কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের নিয়ে আলোচনায় বসে। জানা যায়, বিভিন্ন স্কুলে এ঩জেন্ট তৈরি করছে এই রক্ত পাচার চক্রের দালাল। যার নিজেরও বয়স মাত্র ১৮বছর। সেও এই স্কুলে পড়ত। তার এজেন্টও স্কুলপড়ুয়ারা। তাদের কাজ, সহপাঠীদের টাকার টোপ দিয়ে রক্তদানে উৎসাহিত করা। কখনও কারও অসুস্থতার নাম করেও রক্তদানে রাজি করানো হত। রক্ত দিলে পড়ুয়াপিছু সেই এজেন্ট পেত ১০০টাকা। দালাল বিভিন্ন সময়ে স্কুলের আশপাশে থেকে নিজের নেটওয়ার্ক সক্রিয় রাখত। স্কুলে মিটিং চলার মা঩ঝেই খবর আসে, অভিযুক্ত দালাল স্কুলের বাইরে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এরপরই অভিভাবক ও স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে পাকড়াও করে দুর্গাপুর থানায় নিয়ে যায়। অভিভাবকরা অভিযোগ জানানোর পর পুলিশ তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। 
জানা গিয়েছে, এভাবে বিভিন্ন স্কুলে রীতিমতো র‌্যা঩কেট তৈরি করা হয়েছে। অনেক সময়ে অভাবেব জন্য টাকার বিনিময়ে রক্ত বিক্রি করছে পড়ুয়ারা। আবার নেশার টাকা জোগাড় করতেও অনেকে রক্ত দিচ্ছে। অভিযোগ, এই চক্র দুর্গাপুরের একটি নামী বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গেও সেটিং করেছে। যারা নাবালকদের রক্ত সংগ্রহ করছে। 
বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন দুর্গাপুরের অভিভাবক মহল থেকে রক্তদানের সঙ্গে যুক্ত মানুষজন। যেভাবে ১৩-১৪ বছর বয়সি পড়ুয়াদের কাছ থেকে রক্ত সংগ্রহ করা হয়েছে তাতে তাদের শারীরিক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্কুলপড়ুয়াদের দেখেও সেই বেসরকারি হাসপাতালে রক্ত নিয়েছে। ওয়েস্ট বেঙ্গল ভলান্টিয়ারি ব্লাড ডোনার্স সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক কবি ঘোষ বলেন, নাবালকদের রক্তদান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আমরা এর নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। অভিযুক্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অর্থের বিনিময়ে কোনো রক্ত সংগ্রহ করা হয় না। কোনো জায়গাতেই রক্তদানের আগে রক্তদাতার ডুকমেন্ট ভেরিফিকেশন করা হয় না। তবে এবার থেকে তা করা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ