Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হাসপাতালে অপারেশন করুন ব্যবসা করতে হলে চাকরি ছাড়ুন! বনগাঁ হাসপাতালের চিকিৎসকদের কড়া বার্তা মন্ত্রীর

মন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়েছেন রাজ্যের খাদ্য সরবরাহ ও সমবায় দপ্তরের মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া। এবার বনগাঁ হাসপাতালের পরিকাঠামো ও নাগরিক পরিষেবা নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন মন্ত্রী।

হাসপাতালে অপারেশন করুন ব্যবসা করতে হলে চাকরি ছাড়ুন! বনগাঁ হাসপাতালের চিকিৎসকদের কড়া বার্তা মন্ত্রীর
  • ২৫ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বনগাঁ: মন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়েছেন রাজ্যের খাদ্য সরবরাহ ও সমবায় দপ্তরের মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া। এবার বনগাঁ হাসপাতালের পরিকাঠামো ও নাগরিক পরিষেবা নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন মন্ত্রী। শনিবার বনগাঁয় এক অনুষ্ঠানে এসে হাসপাতালের রেফার রোগ সারাতে পরিকাঠামো উন্নয়নের আশ্বাস দেন তিনি। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া বলেন, আমি হাসপাতালের সুপারকে বলেছি, বনগাঁর মানুষকে বনগাঁতেই চিকিৎসা করতে হবে। পরিকাঠামো বৃদ্ধির জন্য যা যা লাগবে, আমাকে বলুন। চিকিৎসকদের কড়া বার্তা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, হাসপাতালেই অপারেশন করুন। যদি ব্যবসা করতে হয়, তাহলে চাকরি ছাড়ুন।

Advertisement

প্রায়ই অভিযোগ ওঠে, রোগীকে হাসপাতালে বাইরে নার্সিংহোমে ভরতি করিয়ে মোটা টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন অপারেশন করেন সরকারি চিকিৎসকরা। যেকারণে বনগাঁয় ফুলেফেঁপে উঠেছে নার্সিংহোম ব্যবসা। এদিন চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক, যাঁরা বাইরে বিভিন্ন অপারেশন করছেন, সেসব বন্ধ করুন। সরকারি হাসপাতালেই অপারেশন করুন। ব্যবসা করতে চাইলে চাকরি ছাড়ুন। আমি মানুষকে সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হতে দেব না।
মহকুমা হাসপাতাল থেকে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে রূপান্তরিত হলেও বনগাঁ হাসপাতালের পরিকাঠামোর কোনো উন্নয়ন হয়নি বলে দাবি বাসিন্দাদের। অভিযোগ, সামান্য সমস্যা হলেই রোগীকে নিয়ে কলকাতায় ছুটতে হয়। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। চিকিৎসার আধুনিক সরঞ্জাম আনা হলেও সেগুলি ব্যবহার না করে দীর্ঘদিন ফেলে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ। যে চিকিৎসকরা ব্যক্তিগত চেম্বার করেন, তাঁরা হাসপাতালের তুলনায় সেখানেই বেশি সময় দেন। ফলে আউটডোরের রোগীদের দীর্ঘক্ষণ লাইন দিয়ে অপেক্ষা করতে হয়। তাঁদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হয় বলে অভিযোগ। এক্স-রে কিংবা আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করাতে এক মাসের বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয় রোগীদের। বাসিন্দাদের দাবি, নামেই সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল। কাজের কাজ কিছুই হয়না। বাস্তবে বনগাঁ হাসপাতাল একটি গ্রামীণ হাসপাতালের সমতুল্য। এবিষয়ে হাসপাতাল সুপার ডাঃ কৃষ্ণচন্দ্র বড়াই বলেন, হাসপাতালের পরিষেবার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী পরিকাঠামো উন্নয়নে কী কী প্রয়োজন, তা জানতে চেয়েছেন। পরিকাঠামো উন্নয়নে কিছু চিকিৎসা সরঞ্জামের কথা আমরা দ্রুত মন্ত্রীকে জানাব।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ