Bartaman Logo
১৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

টাকা দিলেই তারা মাকে বিশেষ দর্শন, অর্থের হিসাব নিতে তদন্ত

রামপুরহাটের তারাপীঠ মন্দিরে বিশেষ দর্শনের নামে টাকা আদায়ের অভিযোগে তদন্ত শুরু। পুণ্যার্থীদের স্বার্থে এই পদক্ষেপ। বিস্তারিত পড়ুন।

টাকা দিলেই তারা মাকে বিশেষ দর্শন, অর্থের হিসাব নিতে তদন্ত
  • ১৯ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: তারাপীঠ মন্দিরের মতো পবিত্র তীর্থক্ষেত্রে দেবীর বিশেষ দর্শনের নামে সাধারণ পুণ্যার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং সেই বিপুল টাকার সঠিক হিসাব না রাখার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।  দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভক্তি ও বিশ্বাস নিয়ে এখানে আসেন। সেখানে এমন অনিয়মের অভিযোগ ভক্তদের আবেগে আঘাত করে। রাজ্যে পালাবদলের পর এবার সেই অভিযোগগুলি ও আর্থিক বেনিয়মের তদন্ত খতিয়ে দেখতে কমিটি গঠন করল জেলা প্রশাসন। বীরভূম জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন) এই তদন্ত কমিটির নেতৃত্ব দেবেন। এই কমিটিতে রামপুরহাট কোষাগারের হিসাবরক্ষক, মহকুমা শাসক, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সহ মোট আট জন সদস্য রয়েছেন। লক্ষ্য, সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ কত, তার সঠিক ব্যবহার এবং হিসাবের স্বচ্ছতা খতিয়ে দেখে প্রকৃত সত্য সামনে আনা। দেরিতে হলেও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই কড়া ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করায় আশার আলো দেখছেন সাধারণ পুণ্যার্থীরা। তাঁদের মতে, এর ফলে মন্দিরে আসা সাধারণ মানুষের হয়রানি কমবে এবং ধর্মীয় স্থানের পবিত্রতা ও স্বচ্ছতা বজায় থাকবে।

Advertisement

টাকা দিলেই চটজলদি মিলছে মা তারার দর্শন। সাধারণ লাইনের পুণ্যার্থীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করিয়ে রাখা হচ্ছে। এই অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এর আগে পূর্বতন জেলাশাসক বিধান রায় সেবাইতদের নিয়ে মিটিং করে বলেছিলেন, এমনটা হতে থাকলে ট্রাস্টি করে দেওয়া হবে। ঠিক হয়, প্রথম এক ঘণ্টা সাধারণ লাইনের ও তারপর বিশেষ লাইনে থাকা ভক্তদের প্রবেশ করানো হবে। এভাবেই নির্দিষ্ট সময় অন্তর সাধারণ ও বিশেষ লাইন চলবে। বিশেষ লাইনে পুজো দিতে ৫০০ টাকার কুপন সংগ্রহ করতে হবে। কিছুদিন এই নিয়মে চলার পর ফের টাকার খেলা শুরু হয়ে যায়। অভিযোগ, পান্ডারা দেবী দর্শনের বিনিময়ে নিজেদের ইচ্ছেমতো টাকা দাবি করছেন। পুণ্যার্থীদের বক্তব্য ছিল, জনগণের করের টাকায় ভক্তদের সুবিধার্থে মন্দিরের ভোল পাল্টেছে। পান্ডাদের একাংশ সেই জনগণের থেকেই দেবী দর্শন ও পুজোর বিনিময়ে টাকা দাবি করছে। ফুলেফেঁপে উঠছে তারা। অথচ সরকার এখান থেকে একটাকাও রাজস্ব পাচ্ছে না। এই অনিয়ম বন্ধ হওয়া উচিত। 
রাজ্যে পালাবদলের পর রামপুরহাট বিধায়ক ধ্রুব সাহা ও অনেকে জেলাস্তরে এই সংক্রান্ত অভিযোগ করেন। বর্তমানে টিআরডিএর দায়িত্বে খোদ জেলাশাসক। তিনি অভিযোগগুলির তদন্ত শুরুর নির্দেশ দেন এবং মন্দিরে দেবীর বিশেষ দর্শনের নামে তীর্থযাত্রীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং সেই কোটি কোটি টাকার হিসাব রক্ষণাবেক্ষণে চরম গাফিলতি ও অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে কমিটি গঠন করে দেন। সেবাইত সূত্রে জানা গিয়েছে, কুপনের মাধ্যমে যে ৫০০ টাকা করে নেওয়া হয়, তার মধ্যে ২০০ টাকা করে পায় পান্ডা ও পালাদার সেবাইত। বাকি ১০০ টাকা মন্দির কমিটির। এই ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত কমিটি দ্বারা রক্ষণাবেক্ষণ করা রেজিস্টার, রসিদ, ক্যাশ বই, ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট, ভাউচার ও অন্যান্য আর্থিক নথি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন জেলাশাসক। প্রয়োজনে যে কোনো বিভাগের সহয়তা চাইতে পারে কমিটি বলে নির্দেশে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও এ ব্যাপারে মন্দির কমিটির উপদেষ্টা বামাপদ চট্টোপাধ্যায় বলেন, অভিযোগ সঠিক নয়। কোনো বেনিয়ম হয়নি। আমরা তদন্তের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ