Bartaman Logo
১৪ আগস্ট, ২০২৬

‘আপনারা না পারলে আমরাই ব্যবস্থা করছি’, খাবারের প্যাকেটে সতর্কবার্তা: মোদি সরকারকে সুপ্রিম-তোপ

‘প্যাকেটজাত খাদ্যসামগ্রীতে মাত্রাতিরিক্ত চিনি, নুন ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকলে তা ক্রেতাকে জানাতে হবে। প্যাকেটের ওপরই স্পষ্টভাবে তার উল্লেখ থাকবে।’

‘আপনারা না পারলে আমরাই ব্যবস্থা করছি’, খাবারের প্যাকেটে সতর্কবার্তা: মোদি সরকারকে সুপ্রিম-তোপ
  • ১৪ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: ‘প্যাকেটজাত খাদ্যসামগ্রীতে মাত্রাতিরিক্ত চিনি, নুন  ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকলে তা ক্রেতাকে জানাতে হবে। প্যাকেটের ওপরই স্পষ্টভাবে তার উল্লেখ থাকবে।’ এই নিয়ম চালু করতে কেন্দ্রকে নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু, তা বাস্তবায়নে গড়িমসি করায় বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালতে ভর্ৎসনার মুখে পড়ল মোদি সরকার ও খাদ্যের গুণমান নিয়ামক সংস্থা ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অব ইন্ডিয়া (ফ্যাসাই)। বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা ও বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের ডিভিশন বেঞ্চের তীব্র কটাক্ষ— ‘কেন্দ্র কি যথাযথ পদক্ষেপ নেবে, নাকি আদালতই যা করার করবে? আপনারা না পারলে আমরা ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।’ বিচারপতিদের মতে, বিষয়টি দেশের জনগণ বিশেষত শিশুদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ যেন বড়ো বড়ো বাণিজ্যিক সংস্থা দ্বারা প্রভাবিত না হয়। 

Advertisement

এদিন কেন্দ্রের তরফে শীর্ষ আদালতে সওয়াল করেন অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল ব্রিজেন্দর চাহার। তাঁর কাছে বিচারপতিরা জানতে চান, শীর্ষ আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়ার পরও সরকার কি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে চাইছে না? জনস্বার্থেই তো ওই বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণের কথা বলা হয়েছে। শীর্ষ আদালতের রোষ থেকে বাঁচতে কেন্দ্রের আইনজীবী জানান, মোদি সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করতে তাঁকে সুযোগ দেওয়া হোক। সেই আরজিতে কোনো গুরুত্বই দিতে চায়নি সুপ্রিম কোর্ট। সওয়াল-জবাবে একাধিক দেশীয় খাবারের কথা উল্লেখ করেন কেন্দ্রের আইনজীবী। তাঁর দাবি, ঐতিহ্যবাহী ওই সব খাবারে সতর্কীকরণ দিলে ভুল বার্তা যেতে পারে। সেই যুক্তিও বিশেষ কাজে আসেনি। এপ্রসঙ্গে আদালতের পর্যবেক্ষণ, সরকার কি দেশবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখতে চাইছে না? নয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী লেবেলিং করলে প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির পছন্দ নাও হতে পারে। কিন্তু, ক্রেতাদের অবশ্যই সেই তথ্যগুলি জানার অধিকার রয়েছে। শুধু তা-ই নয়, নির্দেশ কার্যকরে মোদি সরকারকে দু’সপ্তাহের সময় বেঁধে দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। জানানো হয়েছে, এর মধ্যে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া হলে মামলাটির রায় ঘোষণা করা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ