


বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী ও প্রীতেশ বসু, কলকাতা: ফ্ল্যাট কিনতে গিয়ে ক্রেতারা যেন ঠকে না যান, তাই গঠন হয়েছে রিয়েল এস্টেট রেগুলেটরি অথরিটি বা রেরা। এবার সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে সেই আইনের ফাঁস আরও কঠোর হচ্ছে। কারণ, রাজ্য সরকারের সঙ্গে মিলিতভাবে ব্যাঙ্কগুলি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যে সব ফ্ল্যাট বা আবাসন প্রকল্পগুলি রেরার আওতায় নথিভুক্ত নয়, সেখানে ব্যাঙ্ক ঋণও হবে না। অর্থাৎ সোজা কথায়, রেরার রেজিস্ট্রেশন বিহীন ফ্ল্যাট কিনতে গেলে গৃহঋণ পাবেন না গ্রাহক। পাশাপাশি স্টেট লেভেল ব্যাঙ্কার্স কমিটি বা এসএলবিসি’র শেষ বৈঠকে এমনও সিদ্ধান্ত হয়েছে, যেসব প্রোমোটার রেরার রেজিস্ট্রেশন ছাড়া আবাসন তৈরি করবেন, তাঁদেরও লোন মঞ্জুর করবে না ব্যাঙ্ক।
ফ্ল্যাট কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে ক্রেতাদের ঠকানোর সংস্কৃতি নতুন নয়। পশ্চিমবঙ্গ তো বটেই, গোটা দেশেই ক্রেতাদের একাংশের অভিযোগ, প্রোমোটাররা বহু প্রতিশ্রুতিই রাখেন না। অধিকাংশ সময়েই নির্দিষ্ট সময়ে ফ্ল্যাটের পজেশন মেলে না। কখনও আবার অগ্রিম নেওয়ার পরও কাজ শেষ হয় না। এমনকী বেআইনি ফ্ল্যাট বিক্রির অভিযোগও কম নয়। প্রোমোটারদের এসব লোক ঠকানো ব্যবসাকে বাগে আনতে কেন্দ্র আইন চালু করে। সেই আইনের বিধি তৈরি করেছে রাজ্য সরকার। কার্যকর হয়েছে রেরা। প্রাথমিকভাবে বড় আবাসনগুলিকেই এই আইনের আওতায় আনার পরিকল্পনা ছিল। সেভাবেই তৈরি হয়েছিল আইন। তারই সুযোগ নিয়ে ছোট আবাসনে লোক ঠকানোর কারবার চলছিলই। তাই সাম্প্রতিককালে আইনে বদল আনা হয়। বলা হয়, যে সব আবাসনের আয়তন ২০০ বর্গমিটারের বেশি এবং তাতে ছ’টির বেশি ফ্ল্যাট আছে, সেই প্রকল্পগুলির রেরা রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক। আবাসন দপ্তরের কর্তাদের দাবি, বাণিজ্যিকভাবে যে সব প্রজেক্ট তৈরি হচ্ছে, অর্থাৎ যেখানে প্রোমোটার সাধারণ ক্রেতাকে ফ্ল্যাট বিক্রি করছেন, সেখানে সাধারণত ছ’টির বেশি ফ্ল্যাট থাকে। তা না হলে এই প্রকল্পগুলি বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হয় না। তাই প্রায় সব আবাসনকেই রেরার আওতায় আসতে হবে। এখানে রেজিস্ট্রেশন করালে, আইন মেনেই আবাসন তৈরি করতে হবে। নিয়ম ভাঙলে আর্থিক জরিমানা সহ অন্যান্য শাস্তির মুখে পড়তে হবে প্রোমোটারকে।
দপ্তরের কর্তাদের কথায়, ছোট আবাসন প্রকল্পগুলিতেই ক্রেতারা সবচেয়ে বেশি অসুরক্ষিত। সেই কারণে সিদ্ধান্ত হয়, রেরার আওতায় আবাসন প্রকল্পগুলিকে আনতে গৃহঋণকে সামনে রাখতে হবে। এসএলবিসি’র বৈঠকে এই প্রস্তাব দেন এরাজ্যের রেরার চেয়ারম্যান জয়ন্তকুমার বসু। সেখানেই সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়, রেজিস্ট্রেশন ছাড়া ক্রেতা ও বিক্রেতার আবাসন সংক্রান্ত ঋণ মিলবে না। রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাঙ্ক মিলিয়ে ২৫টি ব্যাঙ্ক সহমত হয় ওই বৈঠকে।
আবাসন দপ্তরের কর্তারা বলছেন, এরাজ্যে দেরিতে শুরু হয় রেরা। তার উপর ২০২১ সালের মে মাস থেকে ২০২৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন দেওয়া বন্ধ ছিল। তারপরও নথিভুক্তির নিরিখে অন্যান্য বহু রাজ্যের তুলনায় এগিয়ে পশ্চিমবঙ্গ। এখনও পর্যন্ত এখানে রেজিস্ট্রেশন পাওয়া আবাসন প্রকল্পের সংখ্যা ৩ হাজার ৮০৩। তুলনায় অনেক পিছিয়ে ঝাড়খণ্ড, বিহার, ওড়িশা, ছত্তিশগড়, কেরল। দপ্তরের কর্তারা বলছেন, রাজ্যজুড়ে রেরা সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধির জেরেই এই সাফল্য এসেছে। গৃহঋণ সংক্রান্ত নিয়ম চালু হলে আরও বেশি প্রকল্প রেরার আওতায় আসবে।