


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চন্দ্রনাথ খুনের মামলায় বড় সাফল্য পুলিশের। অবশেষে উত্তরপ্রদেশ থেকে গ্রেপ্তার করা হল তিন দুষ্কৃতীকে। এই তিন জনের মধ্যেই রয়েছে শার্প শ্যুটারও। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চন্দ্রনাথের ‘পথ আটকানো’ গাড়িতে লাগানো ফাস্ট্যাগ ট্র্যাক করেই তাদের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। ১০০’র বেশি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখেছিলেন তদন্তকারীরা। তার মধ্যে রয়েছে নিবেদিতা সেতু, ডানকুনি ও দ্বিতীয় হুগলি সেতুর মতো টোল গেটও। সেখানকার ক্যামেরায় এই গাড়িটির গতিবিধি ধরা পড়ে। সেইসঙ্গে টোল প্লাজাগুলি থেকে পেমেন্টের ডিটেইলস হাতে আসতেই তদন্তে নয়া মোড় আসে।
চলতি মাসের ৬ তারিখ, রাতে মধ্যমগ্রামে নৃশংসভাবে গুলি করে খুন করা হয় চন্দ্রনাথ রথকে। ঘটনার পরপরই তদন্তে নামে পুলিশের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম। প্রাথমিক তদন্তেই উঠে এসেছিল ভিন রাজ্যের যোগসূত্র। তদন্তকারীরা নিশ্চিত হন যে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ককে হত্যার জন্য দুষ্কৃতীরা বাইরের রাজ্য থেকেই এসেছিল। এরপরই তদন্তের স্বার্থে দু’টি পৃথক টিম পাঠানো হয় উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে। সেই অভিযানেই অবশেষে উত্তরপ্রদেশ থেকে গ্রেপ্তার করা হল তিন সন্দেহভাজনকে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই অভিযুক্তদের মধ্যে একজন যার নাম বিশাল। তাকে জেরা করতেই উঠে আসে আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যায়, এই চন্দ্রনাথ খুনের মূল সার্প শ্যুটার ছিল আরও একজন যার নাম রাজ সিং। সেইদিন প্রথম গুলি চালিয়েছিল এই রাজ সিং। উত্তরপ্রদেশের বালিয়ার বাসিন্দা রাজ। ঘটনার পরেই সে অযোধ্যা পালায়। সেখানেই গা ঢাকা দিয়েছিল কয়েকদিন। তার আসল বাড়ি বিহারের বক্সারে। পরে ধৃত ক্রমিনাল বিশাল তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে জানায়। তারপরেই অভিযান চালিয়ে তাকেও গ্রেপ্তার করে তদন্তকারীরা। প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে ঘটনায় মোট আটজন জড়িত।
অপরদিকে, বিহারের বক্সার থেকেও আরও দু'জনকে এই খুনের সঙ্গে যুক্ত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের নাম মায়াঙ্ক মিশ্রা ও ভিকি মৌর্য। তাদেরকে কলকাতা আনা হচ্ছে বলে খবর। তার মধ্যে মায়াঙ্ক মিশ্রা বিহারের বাকশারের কুখ্যাত সুপারি কিলার চন্দন মিশ্রার গ্যাং মেম্বার বলেও জানা গিয়েছে। এই সমগ্র ঘটনার নেপথ্যে কে বা কারা তা এখনও তদন্ত চলছে। কে এই খুনের সুপারি দিয়েছিল, চন্দ্রনাথ হত্যাকাণ্ডের আসল উদ্দেশ্য এবং এর সঙ্গে জড়িত আরও অন্যান্য ব্যক্তিদের পরিচয় খুব তাড়াতাড়ি প্রকাশ্যে আসবে এমনটাই জানা গিয়েছে তদন্তকারীদের তরফে।