Bartaman Logo
১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

আমার নাম করে তোলা চাইলে ছবি তুলে রাখুন, নিদান বিধায়ক রত্নার

পালাবদলের কয়েক মাসের মধ্যে পানিহাটি সহ উত্তর শহরতলিতে তোলাবাজির অভিযোগ নিয়ে গেরুয়া শিবিরের অন্দরে তোলপাড় চলছে।

আমার নাম করে তোলা চাইলে ছবি তুলে রাখুন, নিদান বিধায়ক রত্নার
  • ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: পালাবদলের কয়েক মাসের মধ্যে পানিহাটি সহ উত্তর শহরতলিতে তোলাবাজির অভিযোগ নিয়ে গেরুয়া শিবিরের অন্দরে তোলপাড় চলছে। এবার তোলাবাজি নিয়ে সরব হলেন পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথ। তিনি বলেন, ‘কেউ টাকা চাইলে আপনারা টাকা দেবেন না। টাকা চাইতে এলে মোবাইলে ফটো তুলে রাখুন। যদি আমার নাম করে কেউ কিছু করতে চায়, তাহলে বলবেন বিধায়কের সই করা নথি নিয়ে আসতে। আপনারা কেউ ভয় পাবেন না। আপনারা সাহস করে এগিয়ে আসুন। পানিহাটিতে থ্রেট কালচার চলতে দেব না।’ 

Advertisement

রবিবার সন্ধ্যায় পানিহাটি লোকসংস্কৃতিক ভবনে বন্দেমাতরম গানের দেড়শ বছর পূর্তিতে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানে বিধায়ক রত্না দেবনাথের ওই বক্তব্যকে ঘিরে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। ওইদিন তিনি আরও বলেন, ‘ভয় যেমন ছোঁয়াচে, সাহসও তেমন ছোঁয়াচে। সাহস করে এগিয়ে এসে সবাই মিলে পানিহাটিকে এমন জায়গায় তুলতে হবে, যেখানে তোলাবাজি বা ভয় দেখানোর সংস্কৃতি থাকবে না।’ বিধায়কের এই বক্তব্যকে ঘিরে দলের অভ্যন্তরেও আলোড়ন শুরু হয়েছে।  
পানিহাটিতে গেরুয়া শিবির একাধিক গোষ্ঠীতে বিভক্ত। বিধায়কের পাল্টা আরও দুটি গোষ্ঠী রয়েছে। কয়েক মাস আগে বিধায়ক বনাম জেলা সভাপতি গোষ্ঠীর লড়াইয়ে পুলিশকে বেধড়ক লাঠিচার্জ করতে হয়েছিল। এমনকি, বিভিন্ন জায়গায় তোলাবাজির অভিযোগও ক্রমশ বাড়ছে। এই আবহে বিধায়কের এই বক্তব্য আসলে তোলাবাজির ঘটনাকে কার্যত শিকার করে নেওয়া বলে মানছে রাজনৈতিক মহল। তাহলে কারা পানিহাটিতে তোলাবাজি করছে, কার মদতে এই কারবার চলছে, বিধায়কের নাম ব্যবহার করে টাকা চাওয়ার সাহস কারা পাচ্ছে, সেই প্রশ্ন উঠছে। শুধু তাই নয়, তাঁর নাম করে তোলাবাজি হলে তিনি থানা বা রাজ্যের তৈরি দুর্নীতি দমন শাখায় তা জানিয়েছেন কি না, সেই প্রশ্নও রেখেছেন বিধায়ক। 
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নির্মল ঘোষ ও তাঁর ছেলের প্রসঙ্গে বিধায়ক বলেন, বাবা-ছেলে পানিহাটির এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। অভয়া কেস প্রসঙ্গে কারও নাম না করে রত্নাদেবী বলেন, শুধু ‘শ্মশানবন্ধু’ হিসেবে পাশে ছিলেন দাবি করছেন। অথচ আর জি কর হাসপাতালে গিয়ে প্রিন্সিপালের সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বৈঠক কেন করেছিলেন? কিংবা থানায় বাবা-মা বসে থাকা অবস্থায় তাঁদের মেয়ের মৃতদেহ তড়িঘড়ি বাড়িতে নিয়ে আসার মতো দায়িত্ব পালন করেছিলেন কেন?

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ