Bartaman Logo
১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

প্রাচীন হরিসভা মন্দিরে বজরংবলির মূর্তি, বেলঘরিয়ায় শুরু তীব্র বিতর্ক, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ-বিজেপির বিরুদ্ধে প্রতিবাদীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ

প্রাচীন হরিসভা মন্দির। সারা বছর সেখানে বৈষ্ণব ভক্তদের ভিড় লেগেই থাকে। হরিসভা লাগোয়া অংশে শিবের মন্দির তৈরি হয়েছিল বছর খানেক আগে।

প্রাচীন হরিসভা মন্দিরে বজরংবলির মূর্তি, বেলঘরিয়ায় শুরু তীব্র বিতর্ক, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ-বিজেপির বিরুদ্ধে প্রতিবাদীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ
  • ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: প্রাচীন হরিসভা মন্দির। সারা বছর সেখানে বৈষ্ণব ভক্তদের ভিড় লেগেই থাকে। হরিসভা লাগোয়া অংশে শিবের মন্দির তৈরি হয়েছিল বছর খানেক আগে। অভিযোগ, মাস খানেক আগে মন্দির কমিটির সদস্যদের একাংশ চুপিসাড়ে সেই দেবস্থানে বজরংবলির মূর্তি ঢুকিয়ে দিয়েছে প্রতিষ্ঠা করার জন্য। স্থানীয় মানুষের প্রতিবাদে বজরংবলি মূর্তির অভিষেক হয়নি। বৈষ্ণবদের আরাধনাস্থলে বজরংবলির মূর্তি বসানোর প্রতিবাদে এলাকাবাসী থানায় স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পাশাপাশি পোস্টার ও ব্যানার লাগিয়েছে৷ এই বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব প্রতিবাদীদের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ। এনিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। 

Advertisement

কামারহাটির ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের রানিপার্ক এলাকায় ৮০-৮৫ বছরের প্রাচীন এই হরিসভা মন্দিরে রাধামাধব ছাড়াও গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু ও নিত্যানন্দ মহাপ্রভুর মূর্তি রয়েছে। নিত্যপুজো হয় সেখানে। একাদশী ও দ্বাদশীতে পাটবাড়ি থেকে বৈষ্ণব সন্ন্যাসীরা এসে নামগান-কীর্তন করেন। এছাড়াও দোল, জন্মাষ্টমী সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে জাঁকজমকের সঙ্গে পুজোপাট হয়। বছর খানেক আগে মন্দির কমিটির উদ্যোগে হরিসভার পাশের জায়গায় শিব মন্দির তৈরি করা হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাসখানেক আগে সবার অজ্ঞাতে শিবের মন্দিরে বজরংবলির মূর্তি বসিয়ে দেওয়া হয়। তা নিয়ে এলাকাবাসীর ক্ষোভ চরমে ওঠে। পরে ওই বজরংবলি মূর্তি অভিষেকের দিনক্ষণ নিয়ে আলোচনা আর এগয়নি। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী, মন্দির কমিটি ও ভক্তদের একাংশ থানায় গণদরখাস্ত  দেওয়ার পাশাপাশি এলাকায় ব্যানার ও পোস্টার লাগিয়ে হরিসভা মন্দির চত্বরে বজরংবলির মূর্তি স্থাপনের বিরোধিতা করেন। অভিযোগ, এরপরই আসরে নামে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বিজেপি নেতৃত্ব। রানীপার্কের বাসিন্দা শুভাশিষ পোদ্দার বলেন, মন্দিরের ভক্ত, কমিটির একাংশ ও এলাকাবাসী হরিসভায় বজরংবলির মূর্তি বসাতে চাইছে না। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা আমার কাছে এসে বজরংবলির মূর্তি বসানোর কথা বলেছিলেন। আমি না করায়, আমার ধর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। শুধু তাই নয়, বাইক বাহিনী এলাকায় ঘুরে হুমকি দিয়েছে৷ এমনকি, বিজেপির মণ্ডল সভাপতি পরিচয় দিয়ে ফোন করে মহিলাদেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই ধরণের গা জোয়ারি মানুষ সহ্য করবে না। হরিসভা মন্দির কমিটির সম্পাদক সমরেন্দ্র রুদ্র বলেন, বৈষ্ণব মন্দিরে বজরংবলির মূর্তি বসুক, এটা চাই না। কিন্তু এত বিতর্ক ও ঝামেলায় জড়াতেও চাইছি না। মন্দির কমিটির সভাপতির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছি। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বেলঘরিয়া প্রখণ্ডের সভাপতি সুভাষ কর্মকার বলেন, দুই ভাইয়ের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির খবর পেয়ে সমস্যা মেটাতে গিয়েছিলাম। আমরা তো সবাই এক। হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন। কামারহাটির ২ নম্বর মণ্ডল সভাপতি গৌতম বিশ্বাস বলেন, হুমকি দেওয়ার কোনও প্রশ্ন নেই। আমি চাই এলাকাবাসীর আবেগ ও মতামত নিয়েই সমস্ত কিছু হোক। তাছাড়া এই ঘটনার সঙ্গে দলের কোনো যোগও নেই।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ