


নয়াদিল্লি: টি-২০ হোক কিংবা ওয়ান ডে, দুই ফরম্যাটেই বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছেন তিনি। দু’বার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ী দলের সদস্যও ছিলেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আইপিএল ট্রফির খরাও কেটেছে গত মরশুমে। সত্যি বলতে কী, বাইশ গজে নতুন কিছু পাওয়ার নেই কোহলির। তবুও তিনি দুর্বার, ব্যাট হাতে নেমে ঝড় তুলছেন নিয়মিত। রানের খিদে বিন্দুমাত্র কমেনি। আরসিবি’র জার্সি গায়ে খেতাব ধরে রাখার লড়াইয়েও প্রয়োজনের সময় জ্বলে উঠছেন। বুধবার কেকেআরের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দলকে জিতিয়েছিলেন ভিকে। তবু পরের বছর ওয়ান ডে বিশ্বকাপে তাঁর খেলা নিয়ে ধোঁয়াশা অব্যাহত। আসলে কোচ গৌতম গম্ভীর সিনিয়র ক্রিকেটারদের মাঝে মাঝেই পরীক্ষার মুখে ফেলতে চাইছেন। নতুন নতুন ফরমানে বিরক্ত সিনিয়ররা। এমন আচরণ একেবারেই না-পসন্দ কোহলির। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর পডকাস্টে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ‘কোনো জায়গার জন্য নিজের দক্ষতা ও যোগ্যতার যদি এখনও প্রমাণ দিতে হয়, তাহলে সেটা আমার জন্য নয়। নিজে থেকেই সরে দাঁড়াব। আর যদি মনে হয় আমার উপস্থিতিতে উপকৃত হবে দল, তাহলে আছি।’
কোহলির সাফ বার্তা, তিনি মাথা নত করবেন না। নতুন করে নিজেকে প্রমাণ করতেও চান না। তাতে যদি ২০২৭ বিশ্বকাপ দলে তাঁকে রাখা হয় ভালো, না হলেও কোনো আপশোস নেই। কোহলির এই বার্তা শুধু কোচ গম্ভীর কিংবা নির্বাচকদের জন্য নয়, বিসিসিআই কর্তাদের জন্যও। কারণ, তিনি আগেই টি-২০ ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছিলেন। এরপর টেস্ট ফরম্যাট থেকেও নিজেকে সরিয়ে নেন আচমকাই। এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বলতে শুধুই ওয়ান ডে ফরম্যাটকে আঁকড়ে রয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ‘আমি ২০২৭ বিশ্বকাপে খেলার জন্য প্রস্তুত। তার জন্য মানসিক ও শারীরিকভাবে নিজেকে তৈরি রেখেছি। ক্রিকেট খেলতে ভালোবাসি। সেটা চালিয়ে যেতে চাই সুনামের সঙ্গে। দেশের হয়ে বিশ্বকাপ খেলার অনুভূতি একেবারেই অন্যরকম। আমি একশো শতাংশ উজাড় করে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। তবে যদি দেখি সম্মান নেই, তাহলে নিজেকে সরিয়ে নিতে দু’বার ভাবব না। ক্রিকেট আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। তার জন্য ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ।’
৩৭ বছর বয়সেও প্রচণ্ড ফিট তিনি। এর রহস্য কী? কোহলির উত্তর, ‘অনেকের চেয়েই বেশি পরিশ্রম করি। দলের চাহিদা অনুসারে তৈরি হই। সারা বছর একই ভাবে প্রস্তুতি নিই। আসল লক্ষ্য অবশ্যই পরের বছরের ওডিআই বিশ্বকাপ।’ এরমধ্যেই আইপিএল জেতা নিয়ে উচ্ছ্বসিত শুনিয়েছে তাঁকে। ভিকের গলায় তারই রেশ, ‘আগে কখনো আইপিএল জিতিনি বলেই প্রচণ্ড আনন্দ পেয়েছি। ১৮ বছর ধরে চেষ্টার ফলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। এই স্বাদের তুলনা হয় না।’