


সৌরাংশু দেবনাথ, কলকাতা: মাস ছয়েকের ফারাকে নন্দন কাননে ফের বাবা-ছেলে জুটি। গ্যালারিতে লখিন্দর সিং গিল, মাঠে শুভমান। আবহ, আসর— সবই যদিও অন্য!
নভেম্বরের মাঝামাঝি দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট অবশ্য ভারত অধিনায়কের ভালো যায়নি। ব্যাটিংয়ের সময়ে ঘাড়ে চোট পাওয়ায় হাসপাতালে ভরতি হতে হয়েছিল। তিনদিনে টেস্টও হারে ভারত। সেবার ভিআইপি বক্সে উদ্বিগ্ন বাবার সময় কেটেছিল অসহায় ছটফটানিতে। শুক্রবার বিকেলে গুজরাত টাইটান্সের জার্সি পরা ‘সিনিয়র’ গিল যদিও একেবারেই রিল্যাক্সড। ক্লাবহাউসের লোয়ার টিয়ারে ভিজিটিং টিমের ড্রেসিং-রুমের ঠিক উপরে বসে চশমা চোখে মোবাইল ঘাঁটতেই বেশি ব্যস্ত তিনি। ‘জুনিয়র’ গিলও ফুরফুরে মেজাজে। সিএবি সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলির সঙ্গে আড্ডা, প্র্যাক্টিসে ঘাম ঝরানোর পাশাপাশি একফাঁকে বাইশ গজও দেখে এলেন হাসিমুখে। ১২ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট, প্রথম দুই দলের মধ্যে থাকার সম্ভাবনা জোরদার গুজরাতের। বাবা-ছেলে টেনশনহীন তো থাকবেনই!
কলকাতা নাইট রাইডার্সের প্লে-অফের আশা অবশ্য সোনার পাথরবাটির মতোই অলীক দেখাচ্ছে। বাকি তিন ম্যাচে জিতলেও পয়েন্ট থমকে দাঁড়াবে ১৫’তে। বুধবার রায়পুরে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে পরাজয়ই কার্যত দেওয়াললিখন স্পষ্ট করে তুলেছে। বিরাট কোহলির ম্যাচ জেতানো সেঞ্চুরির পর রাচীন রবীন্দ্রকে দেশের হয়ে টেস্ট খেলার জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। নাইট ম্যানেজমেন্টের মানসিকতা এতেই প্রতিফলিত। সিইও ভেঙ্কি মাইসোর সারাক্ষণ বিপক্ষ ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাত মেলানোতেই থাকলেন ব্যস্ত। অ্যাওয়ে ম্যাচেও মাঠে গলা ফাটাতে হাজির সমর্থকরাও এদিন পড়ন্ত বিকেলে প্র্যাক্টিসে গরহাজির। কেমন যেন হাল ছেড়ে দেওয়া সুর। মন ভেঙে গিয়েছে বলেই হয়তো!
অন্যদিকে গুজরাত টগবগ করে ফুটছে। দুই শিবিরের বৈপরীত্য বড্ড ক্যাটক্যাটে। টাইটান্স ব্যাটিংয়ের ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর হল টপ থ্রি। ওপেনিংয়ে গিলের সঙ্গী সাই সুদর্শন। এবং তিনে নামা জস বাটলার। এবারের প্রতিযোগিতায় ইতিমধ্যেই পাঁচশো পেরিয়ে গিয়েছেন সুদর্শন। পাঁচশোর দরজায় কড়া নাড়ছেন গিলও। নাইটদের জিততে হলে পাওয়ার প্লে’তেই ধস নামানো বাধ্যতামূলক। তবেই তুলনায় নড়বড়ে মিডল অর্ডারকে চাপে ফেলা সম্ভব। সেই প্রেক্ষিতে বরুণ চক্রবর্তীকে নেটে বল হাতে আত্মবিশ্বাসী দেখানো সোনালি ইঙ্গিত। সুনীল নারিনের সঙ্গে তাঁর জুটি নির্ঘাত স্পিন-চ্যালেঞ্জ ছুড়বে বিপক্ষকে। কিন্তু বরুণ না খেললে?
নাইট ব্যাটিংয়ের জন্যও থাকছে কঠিন প্রশ্নপত্র। মহম্মদ সিরাজ, কাগিসো রাবাডা, জেসন হোল্ডার, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণাকে নিয়ে গড়া গুজরাত পেস আক্রমণ রীতিমতো বিধ্বংসী। সঙ্গে রশিদ খানের মতো স্পিনার। ফিন অ্যালেন, রিঙ্কু সিংরা এদিন নেটে যতই বল ওড়ান, ম্যাচে ব্যাপারটা সহজ হবে না। গঙ্গাপাড়ে অ্যাসিড টেস্টই অপেক্ষায় রাহানেদের!