Bartaman Logo
২৯ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

স্ত্রীর সঙ্গে কোনও সম্পর্ক রাখব না: খগেন নিজের ঘর সামলান সাংসদ, কটাক্ষ তৃণমূলের

‘আজ থেকে ওঁর সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক কোনও সম্পর্কই থাকবে না’। স্ত্রী অরুণা মার্ডি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদানের পর এমনই প্রতিক্রিয়া জানালেন মালদহ উত্তরের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু।

স্ত্রীর সঙ্গে কোনও সম্পর্ক রাখব না: খগেন নিজের ঘর সামলান সাংসদ, কটাক্ষ তৃণমূলের
  • ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৬:০১
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ:  ‘আজ থেকে ওঁর সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক কোনও সম্পর্কই থাকবে না’। স্ত্রী অরুণা মার্ডি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদানের পর এমনই প্রতিক্রিয়া জানালেন মালদহ উত্তরের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু।

Advertisement

বুধবার কলকাতায় তৃণমূল ভবনে খগেন জায়ার হাতে তৃণমূলের দলীয় পতাকা তুলে দেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু ও বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা। বিজেপির সাংসদের স্ত্রীর তৃণমূলের যোগদান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মালদহ জেলা যুব তৃণমূল সভাপতি প্রসেনজিৎ দাসও।

এদিন কলকাতায় যখন অরুণা বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করছেন, সেই সময় দিল্লিতে ছিলেন খগেন মুর্মু। ফোনে তাঁর প্রতিক্রিয়া, তৃণমূল কংগ্রেস নোংরা রাজনীতি করছে। ভারতীয় জনতা পার্টির একজন কর্মী হিসেবে তৃণমূল এবং স্ত্রীর বিরুদ্ধে যেভাবে লড়াই করার করব। তৃণমূল যদি এটাকে আমার দুর্বলতা ভাবে, তাহলে ভুল করবে। আমাদের পুরো পরিবার তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়বে। আরও জোরদার হবে রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে লড়াই।

রাজনৈতিক মহলের একটি অংশ আবার বলছে, স্ত্রীকে তৃণমূলে পাঠিয়ে আসলে নিজের পথ প্রশস্ত করলেন বিজেপি সাংসদ। এর উত্তরে খগেন বলেন, এসব চক্রান্ত করে তৃণমূল হালে পানি পাবে না। আমার তৃণমূলে যাওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই।

এদিকে, অরুণা বিজেপির সাধারণ সদস্য ছিলেন। তাঁর প্রাথমিক সদস্যপদ বাতিল করে বহিষ্কার করা হবে বলে জানিয়েছেন খগেন।

অরুণার তৃণমূলে যোগদান প্রসঙ্গে দলের মালদহ জেলার মুখপাত্র আশিস কুণ্ডুর মন্তব্য, স্ত্রীর কাছেই ব্রাত্য খগেন মুর্মু।  সাংসদ বাইরে না ঘুরে নিজের ঘর সামলান।

বিজেপির সাংসদের স্ত্রীর তৃণমূলের যোগদান ঘিরে নানা সমীকরণের সম্ভাবনা দেখছে রাজনৈতিক মহল। এনিয়ে সকাল থেকেই মালদহের রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। উঠে আসছে রাজনীতির একাধিক অঙ্ক। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, হবিবপুর বিজেপির শক্ত ঘাঁটি। সেখানে তৃণমূল কংগ্রেস যে খুব একটা সুবিধা করতে পারবে না, তা দলের অনেকেই স্বীকার করে নেন। এক সময়ের বাম দুর্গ এখন বিজেপির শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে মুলত আদিবাসী ভোটারদের কাঁধে চড়ে। এবার খগেন পত্নীকে তৃণমূল সেখানকার বিধায়ক পদপ্রার্থী করতে পারে বলেও অনেকে আলোচনা শুরু করেছেন। এক্ষেত্রে অঙ্ক স্পষ্ট। খগেন একটা সময় হবিবপুরের সিপিএম বিধায়ক ছিলেন। ফলে খগেনের পরিবার থেকে কাউকে এই বিধানসভায় প্রার্থী করা হলে বিজেপির ভোট কেটে জয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল করতে চায় তৃণমূল। গত বিধানসভা নির্বাচনে এই আসনে ১৯ হাজার ৫১৭ ভোটে জিতেছিলেন বিজেপির জোয়েল মুর্মু। এবার একাধিক অঙ্কে বাজিমাত করতে মরিয়া তৃণমূল। এপ্রসঙ্গে খগেন বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস ওঁকে প্রার্থী করার টোপ দিয়েছে। হবিবপুরে জেতার অলীক স্বপ্ন দেখছে তৃণমূল। • নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ