মুক্তির অপেক্ষায় অংশুমান প্রত্যুষ পরিচালিত ছবি ‘অন্নপূর্ণা’। তার আগে আড্ডায় মুখ্য অভিনেত্রী অনন্যা চট্টোপাধ্যায়।
মুক্তির অপেক্ষায় অংশুমান প্রত্যুষ পরিচালিত ছবি ‘অন্নপূর্ণা’। তার আগে আড্ডায় মুখ্য অভিনেত্রী অনন্যা চট্টোপাধ্যায়।
‘অন্নপূর্ণা’ মানুষটি কেমন?
অন্নপূর্ণা সম্ভ্রান্ত পরিবারের মা। তবে সাধারণ। ছেলে-মেয়েকে বড় করেছে। বিদেশে থাকে। একাকিত্ব গ্রাস করতে থাকে অন্নপূর্ণাকে। বাধা সত্ত্বেও মহিলা ঘুরে দাঁড়ায়। তার কাছে নিজের অস্তিত্বটা বড় হয়ে দাঁড়ায়। অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ার লড়াই, সংগ্রাম সব মেয়েকেই করতে হয়। আমিও করছি। এই কারণেই আমি চরিত্রটায় অভিনয় করতে রাজি হয়েছি।
পর পর ছবি। তবে কী অনন্যা অভ্যাস পাল্টে ফেললেন?
(হাসি) যখন ছবি আসে না, তার মানে এই নয় যে, আমার অভিনয়ে আগ্রহ নেই। চিত্রনাট্য পছন্দ হয় না।
একসময় ইন্ডাস্ট্রি আপনাকে সমঝে চলত। অতীতের রাগী অনন্যা কতটা বদলেছেন?
(হাসি) এখনও সবাই সমঝে চলেন। কোথাও অপেশাদারিত্ব দেখলে আমি এখনও রেগে যাই। প্রকাশও করে ফেলি। সেটাকে যদি কেউ অন্যায় মনে করেন, করতেই পারেন। আমার তাতে কিছু যায় আসে না। ভুল স্বীকার করে নিলে আবার চট করে আমার রাগ পড়েও যায়।
একটা বড় সময় আপনি শুধু ছোটপর্দাতেই কাটালেন বলে এখন কি আপশোস হয়?
সেসময় তো মেয়েদের মুখ্য ভূমিকায় রেখে কোনও প্রযোজক, পরিচালকই ছবি তৈরি করার সাহস দেখাতেন না!
আপনি কি তথাকথিত মূল বাণিজ্যিক ধারার ছবিতে অভিনয় করতে চাননি?
(ভেবে) হতে পারে। তবে কমার্শিয়াল ছবি একদমই যে করিনি, তা কিন্তু নয়। এমন একটা সময়ে করেছিলাম যখন বাণিজ্যিক ছবি তার ধারা বদলাচ্ছে।
আজকের প্রজন্মের পরিচালক, প্রযোজকরা আপনার ধার ও ভার কতটা বোঝেন?
আমার ধার, ভারের মূল্যায়ন করবেন একমাত্র দর্শক। তবে ক্যামেরার সামনে ও পিছনে এখনকার সবাই জানেন আমি কে, সেই সম্মানটাও আমি তাঁদের কাছ থেকে পাই। অথচ কাজ কেন পাই না, সেটা কেউ জানেন না।
আপনার সাফল্যের সঙ্গী পরিচালকদের মধ্যে আজ অনেকেই প্রয়াত। তবুও তাঁদের মধ্যে কাকে বেশি মিস করেন যিশু দাশগুপ্ত নাকি ঋতুপর্ণ ঘোষ?
খুব সংবেদনশীল জায়গা ছুঁয়ে ফেলছেন। যিশুদার নামে একসময় টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রি কাঁপত। ভীষণ মিস করি যিশুদাকে। আর ঋতুদাকে আমি কেন, প্রত্যেকেই মিস করেন। ওঁর অভাব পূরণ হওয়ার নয়।
এখন কী কাজ করছেন?
হিন্দিতে ওটিটির জন্য একটা কাজ শেষ করে এলাম ‘আপ য্যায়সা কোই’। ডাবিং বাকি আছে।
ইচ্ছে করলে প্রচুর হিন্দি কাজও করতে পারতেন, করলেন না কেন?
এমন ছবি করতে চাইনি যা নিজেরই আর পরে দেখতে ইচ্ছে করবে না। তার চেয়ে সারা জীবনে যদি একটা ‘আবহমান’, একটা ‘সুবর্ণলতা’ থাকে, গর্ব বোধ করব।
প্রিয়ব্রত দত্ত