


সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়, কোচবিহার: কোচবিহার জেলার ন’টি বিধানসভা আসন। এর মধ্যে কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের মধ্যেই রয়েছে রাজার শহর কোচবিহার। এই কোচবিহার শহরের ভোটের উপর অনেকটাই নির্ভর করে এই আসনের জয়-পরাজয়। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে এই আসনে জয়ী হয়েছিলেন বিজেপির নিখিলরঞ্জন দে। ২০২১ সালের ১০ এপ্রিল ভোট হয়েছিল। তারপর তোর্সা নদী দিয়ে প্রচুর জল গড়িয়ে গিয়েছে। আগামী ২৩ এপ্রিল ফের বিধানসভা ভোট। এবার সময় এসেছে বিধায়ক এই পাঁচ বছরে কী কী কাজ করলেন তার হিসাব দেওয়া।
রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস বলছে, এই বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি তেমন উল্লেখযোগ্য কোনো কাজই করতে পারেনি। আর বিধায়ক নিজে দাবি করছেন, বিধায়ক উন্নয়ন তহবিলের প্রায় পুরো টাকাই খরচ করে ফেলেছেন। মাত্র ২০ লক্ষ টাকা খরচ হয়নি। অর্থাৎ তাঁর হিসাব মতো এখানে প্রায় তিন কোটি টাকা তাঁর তহবিল থেকে খরচ হয়েছে।
কি হয়েছে এই টাকায়? বিধায়কের দাবি, বিভিন্ন স্কুলের সীমানা প্রাচীর, রাস্তা, সেতু প্রভৃতির কাজ হয়েছে। তবে শাসকদলের থেকে কাজ করতে দেওয়া হয়নি। কিন্তু শাসকদল তৃণমূল এই যুক্তি মানতে একেবারেই নারাজ। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, গত পাঁচ বছরে এলাকায় বিধায়ক তেমন নজর কাড়া কোনো কাজই করতে পারেননি। তাঁকে এলাকায় এলাকায় সেভাবে দেখাও যায়নি।
কোচবিহারে দক্ষিণের বিধায়ক নিখিলরঞ্জন দে অবশ্য এবার টিকিট পায়নি। তাঁর জায়গায় দল টিকিট দিয়েছে রথীন্দ্রনাথ বসুকে। নিখিলবাবু বলেন, আমার বিধানসভা এলাকায় প্রায় ২০ লক্ষ টাকার কাজের অনুমোদন পাওয়া যায়নি। বাকি প্রায় তিন কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এর মধ্যে একাধিক স্কুলের উন্নয়ন, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করা হয়েছে। পাটছড়ার ঢেপুরঘাটের সেতু করা হয়েছে। তবে সেখানে রাজ্য সরকারের টাকাও রয়েছে। অনেক জায়গায় কাজ করতে দেওয়া হয়নি। তারপরেও নিজের বিধায়ক এলাকায় অনেক বেশি কাজ করেছি।
কোচবিহার দক্ষিণের এবারের তৃণমূল প্রার্থী তথা জেলা তৃণমূল সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক কটাক্ষের সুরে বলেন, কোচবিহারে যা কিছু উন্নয়ন হয়েছে সবই তো ওই টাকায়! কোচবিহার শহরে যে উন্নয়নগুলি হয়েছে সেগুলিও তিনিই করেছেন! আসলে ওঁদের কিছু বলার নেই। তাই এসব কথা বলছে।
রাজ্য সরকারের টাকায় কোচবিহার শহরে সৌন্দর্যায়নের প্রচুর কাজ হয়েছে। গ্রামাঞ্চলে রাস্তা, পানীয় জল, সেতু সহ নানা কাজের পাশাপাশি সরকারের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা বহু মানুষ পাচ্ছে। কিন্তু এই কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক তেমন নজর কাড়া কোনো কাজ গত পাঁচ বছরে এলাকায় করতে পারেননি। আর সেই কারণেই তৃণমূল এখন কটাক্ষের সুরে বলতে শুরু করেছে, সব কাজই ওরা করেছে! • নিখিলরঞ্জন দে।