ফ্রান্স-২ : মরক্কো-০
ফ্রান্স-২ : মরক্কো-০
‘সিংহ নাম রাখলেই কী আর সিংহ হওয়া যায়!’— মরক্কোও ঠিক তাই। গতবারের সেমি-ফাইনালিস্ট। ফ্রান্সের কাছে হেরেই স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল। ভেবেছিলাম, বৃহস্পতিবার বোস্টনে আটলাসের সিংহরা গর্জন করবে। তাদের প্রতিশোধের আগুনে পুড়বে ফরাসি অহংকার। কিন্তু কোথায় কী! সিংহ এল ঠিকই, কিন্তু গর্জন শোনা গেল না। ল্যাজ গুটিয়ে ঢুকে পড়ল খাঁচায়। অবশ্য এই ফ্রান্সের সামনে দাঁড়ানোর ক্ষমতাও ছিল না আচরাফ হাকিমিদের। ফরাসি আক্রমণভাগের চতুর্ভুজ এমবাপে-ডেম্বেলে-ওলিসে-ডুয়ে ডানা মেলতেই ভেঙে পড়ল মরক্কোর রক্ষণ। অঘটন না ঘটলে এই ফ্রান্সের হাতেই ট্রফি দেখছি।
অসাধারণ এমবাপে। বিশ্বকাপে ২০টি গোল করে ফেলল। তালিকায় তাঁর সামনে কেবল মেসি (২১)। বৃহস্পতিবার তো শুরুতে পেনাল্টি মিস এমবাপের। এমন ঘটনার হতাশায় অনেক ফুটবলারই খেলা থেকে হারিয়ে যায়। কিন্তু, তারপরেও কীভাবে নায়ক হয়ে ওঠা যায়, তার নিখুঁত উদাহরণ কিলিয়ান। ৬০ মিনিটে বক্সের সামান্য ভিতর থেকে অসাধারণ বাঁক খাওয়ানো শটে জাল কাঁপাল রিয়াল মাদ্রিদের তারকা (১-০)। তার ৬ মিনিট পর আবার এমবাপে ম্যাজিক। এবার তার ভূমিকা প্লে-মেকারের। লক্ষ্যভেদে ভুল হয়নি ডেম্বেলের (২-০)। একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট — ফিনিশ মরক্কো। সেই সুবাদে চলতি বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুটের তালিকায় শীর্ষে উঠে এল কিলিয়ান (৮টি গোল ও ৩টি অ্যাসিস্ট)। আর একটা প্লেয়ারকে আমি যত দেখছি মুগ্ধ হচ্ছি— মাইকেল ওলিসে। ফিডারের ভূমিকায় অসাধারণ। গত বিশ্বকাপের ফ্রান্স টিমের থেকেও এবারের দলটা বেশি বিপজ্জনক।
দু’গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ভেবেছিলাম, আটলাসের সিংহরা জেগে উঠবে। কিন্তু ব্রাহিম ডিয়াজ ছাড়া ফরাসি বক্সে কেউ ঢুকতেই পারছিল না। ৮৩ মিনিটে ফ্রান্সের গোলের লক্ষ্যে প্রথম শট নেয় তালবিরা। অথচ বল পজেশন ফ্রান্সের থেকে বেশি! এমবাপেদের বিরুদ্ধে খেলতে হলে রক্ষণ জমাট রাখতেই হবে। তাতে ডাহা ফেল মরক্কোর কোচ মোহামেদ ওয়াহবি। ফ্রান্সের দ্রুতগতির ট্রানজিশনের বিপক্ষে রক্ষণে ফাঁক থেকে যাচ্ছিল মরক্কোর। দিনের আলোর মতো একটা বিষয় পরিষ্কার, গত বিশ্বকাপের হার থেকে এতটুকুও শিক্ষা নেয়নি হাকিমিরা।