রঞ্জন চৌধুরি: বাঙালি বরাবরই তুলনা টানায় বিশ্বাসী। উত্তম-সৌমিত্র থেকে ঘটি-বাঙালের লড়াই চায়ের কাপে তুফান তুলেছে। ফুটবল মাঠও ব্যতিক্রম নয়। আসলে টিমগেমের পাশাপাশি আমরা দ্বৈরথ দেখতে ভালোবাসি। শনিবার রাত আড়াইটেয় এমনই এক ডুয়েলের অপেক্ষা। হ্যারি কেন বনাম আর্লিং হালান্ড। বিশ্বকাপের শেষ আটে ইংল্যান্ড বনাম নরওয়ে ম্যাচ ছাপিয়েও দুই স্ট্রাইকারের দ্বন্দ্বযুদ্ধ ঘিরে উত্তাল মায়ামি। হয়তো ম্যাচের রংও এই সমীকরণের উপর নির্ভরশীল।
১৯৬৬’র বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। এরপর দু’বার সেমি-ফাইনালে পৌঁছালেও থ্রি লায়ন্স কাপ জিততে ব্যর্থ। জনপ্রিয়তায় বিশ্বের অন্যতম সেরা ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ। তুলনায় জাতীয় দলের সাফল্য কম। দীর্ঘ ছ’দশক পর ফের আশা জাগাচ্ছে ইংল্যান্ড। হ্যারি কেন ও জুড বেলিংহ্যাম দুরন্ত ফর্মে। এখনো পর্যন্ত চলতি টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ডের গোলসংখ্যা ১১। হ্যারি কেনের নামের পাশে হাফ ডজন লক্ষ্যভেদ। কঙ্গোর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় গোলটির মুহূর্ত মনে আছে তো? মাথা নীচু করে, বিপক্ষ গোলের দিকে প্রায় না তাকিয়েই শট নিয়েছিল কেন। গোলরক্ষক নড়ার আগেই বল জালে। ছোট্ট টাচেই স্পষ্ট, বিধ্বংসী ফর্মে রয়েছে অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার। কোচ টুচেলের মাঝমাঠও অনেক গোছানো। পাশাপাশি ইংল্যান্ড ফুটবলারদের ইস্পাতকঠিন মানসিকতার প্রশংসা করতে হবে। গত ম্যাচে অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকোকে বশ মানায় ইংল্যান্ড। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেকটাই উঁচুতে স্টেডিয়াম। তার উপর দ্বিতীয়ার্ধে বেশিরভাগ সময় ১০ জনে খেলে টুচেল ব্রিগেড। তবে ম্যাচ জিততে অসুবিধা হয়নি। ব্যক্তিগত মত, মানসিকভআবে চনমনে থেকেই নরওয়ের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে তারা। ডাগ-আউটে কোচ টুচেলের উপস্থিতিও বড় ফ্যাক্টর। ৪-২-৩-১ ফর্মেশন তাঁর প্রিয়। প্রয়োজনে ম্যাচ চলাকালীন তাতে ফাইন টিউন করেন এই জার্মান কোচ। র্যাশফোর্ড, ডেকলান রাইস, বুকায়ো সাকাদের দিকেও নজর রাখতে হবে।
সোলবাকেনের নরওয়ে এবারের কালো ঘোড়া। হালান্ড যে কোনো রক্ষণের ত্রাস। স্রেফ ১০ মিনিটের স্পেলে ব্রাজিলের মতে হেভিওয়েট দলকে জমি ধরিয়েছে দীর্ঘদেহী এই স্ট্রাইকার। ইতিমধ্যেই নামের পাশে ৭ গোল। সর্বাধিক গোলদাতার তালিকায় মেসি ও এমবাপের (দুজনেরই ৮ গোল) পরেই রয়েছে হালান্ড। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ম্যান সিটিতে খেলার সুবাদে ইংল্যান্ড রক্ষণের দুর্বলতা ওর অজানা নয়। পাশাপাশি হালান্ডকে যোগ্য সঙ্গত করছে নুসা। এই প্রথম বিশ্বকাপের শেষ আটে পৌঁছেছে নরওয়ে। এবার ইংল্যান্ডকে বশ মানাতে পারলে সেমি-ফাইনালে পৌঁছানোর সুযোগ সোলবাকেন ব্রিগেডের সামনে। মায়ামিতে ভাইকিংরা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে। অভিজ্ঞতায় হয়তো সামান্য এগিয়ে ইংল্যান্ড। কিন্তু নরওয়ে টাট্টু ঘোড়ার মতোই টগবগে।