Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কথা দিচ্ছি মোদি এবারও হারবেন বাংলায়: মমতা

আর ৪৮ ঘণ্টা পর রাজ্যে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। এই দফার ১৫২টি কেন্দ্রের ভোটপ্রচার শেষ হয়ে যাবে তারও আগে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায়।

কথা দিচ্ছি মোদি এবারও হারবেন বাংলায়: মমতা
  • ২১ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

রাহুল চক্রবর্তী ও বলরাম দত্তবণিক, কলকাতা, রামপুরহাট: আর ৪৮ ঘণ্টা পর রাজ্যে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। এই দফার ১৫২টি কেন্দ্রের ভোটপ্রচার শেষ হয়ে যাবে তারও আগে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায়। এমনই সন্ধিক্ষণে বাংলার অগ্নিকন্যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দৃপ্ত ঘোষণা, ‘কথা দিচ্ছি, মোদি এবারও হারবেন বাংলায়।’ গত ১৫ মার্চ রাজ্যে বিধানসভা ভোটের দিনক্ষণ প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। কার্যত সেদিন থেকেই শুরু হয়ে যায় প্রচার। প্রথম দফার ভোটের প্রচার শেষের আগে সোমবার তৃণমূল নেত্রীকে দৃশ্যতই অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী দেখিয়েছে। খোলা মঞ্চ থেকে হাজার হাজার জনতাকে সাক্ষী রেখে তিনি আগাম ঘোষণা করেছেন তৃণমূলের বিজয়বার্তা।

Advertisement

এদিন বীরভূম জেলার মুরারই, উত্তর ২৪ পরগনার খড়দহ, উত্তর কলকাতার বেলেঘাটা ও মানিকতলা কেন্দ্রের দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে জনসভা করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তারপর নিজের ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে শেক্সপিয়র সরণিতে সভা করেন। বাড়ি ঢোকার আগে ভবানীপুরের একাধিক আবাসনের বাসিন্দাদের সঙ্গে ঘরোয়া আলাপচারিতা সেরে নেন তিনি। প্রত্যেকটি সভায় ছিল উপচে পড়া ভিড়। সভাস্থল তো বটেই, মমতাকে এক ঝলক দেখার জন্য হেলিপ্যাড এবং রাস্তার দু’ধারে বহু মানুষ দাঁড়িয়ে ছিলেন। এই বিপুল সমর্থনকে পুঁজি করে মমতার দাবি, ‘যে বিজেপি নেতারা বাংলায় এসে বড়ো বড়ো কথা বলছেন, তাঁরা হারবেন। তারপর দিল্লি থেকেও হেরে বিদায় নেবেন। এবার হবে গণতান্ত্রিকভাবে বদলা। বাংলা বদলা নেবে বিজেপিকে বদলে।’ 
বাংলা দখল করতে বিজেপি সব কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে ময়দানে নামিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ। নির্বাচন কমিশন বিজেপির সহকারী সংস্থা হিসাবে কাজ করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে মমতার সাফ বক্তব্য, ‘জোরজবরদস্তি করেও বিজেপি জিততে পারবে না। বাংলা জেতার পর আমাদের লক্ষ্য দিল্লি। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, কেন্দ্র থেকে বিজেপির সরকার চলে গেলে সাধারণ মানুষের উপর কেন্দ্রীয় এজেন্সির জুলুম আর হবে না।’
অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন করতে কমিশন যেভাবে কলকাতার রাস্তায় সাঁজোয়া গাড়ি নামিয়ে দিয়েছে, তা নিয়েও সভামঞ্চ থেকে তোপ দাগেন মমতা। বলেন, ‘পুরো যুদ্ধজাহাজ নিয়ে এসেছে! পহেলগাঁওতে জঙ্গি হানা আটকাতে পারে না, বাংলার লোক কি টেররিস্ট? আমার প্রশ্ন ভারত সরকারের কাছে, কেন মিলিটারি ব্যবহার করছ? তোমরা কি মানুষকে হত্যা করতে চাও, না শান্তিতে নির্বাচন করতে চাও? আমরা শান্তিতে নির্বাচন করব। ওদের বন্দুক আর এজেন্সির জোর বড়ো না মানুষের ক্ষমতা বড়ো, দেখা যাবে। বাংলা যদি আমি বুঝে থাকি, তবে বলছি, ওদের জেতার কোনো ক্ষমতা নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখানে নাকি বিজেপির কোনো এক কেউটে এসেছেন, তিনি নাকি বিরাট নেতা! আজকে এত ঔদ্ধত্য! ৪ তারিখের পর মানুষ ভোটবাক্সে এই অহংকারের বিষদাঁত ভেঙে দেবে।’
আকাশপথে তাঁকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন নেত্রী। তাঁর অভিযোগ, ‘রানওয়েতে আমাকে আধ ঘণ্টা আটকে রাখল। ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে সব প্লেন নামাল, অথচ আমাকে দেরি করিয়ে দিল। কাল হেমন্ত সোরেনের প্লেন-কপ্টারও ৪০ মিনিট আটকে রেখেছিল। এয়ারপোর্টে বিজেপির লোকগুলো বসে আছে।’ ঝাড়গ্রামে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঝালমুড়ি খাওয়ার বিষয়টি ‘সাজানো’ বলেই দাবি করেন তিনি। বলেন, ‘পকেটে ১০ টাকা নেই, অথচ প্লেন চড়ে এসে মুড়ি খাচ্ছেন! আমি বলি, একটু মাছ-মাংস-ডিম খেয়ে দেখবেন? আমরা তো ছাতু, ধোকলা সব খাই। তোমরা কেন মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ করবে?’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ