Bartaman Logo
১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভাঙড়ে গত ২০ বছরে এত শান্তিতে ভোট দিইনি!

সকালেই টিভি খুলে দেখছিলাম, ভাঙড়ের কোনও খবর আছে কি না। কিছুই দেখাচ্ছে না। এরকম তো হয় না সাধারণত। তাই কিছুটা আশ্চর্য হয়েই রাস্তায় বের হই। দেখি সব শুনশান।

ভাঙড়ে গত ২০ বছরে এত শান্তিতে ভোট দিইনি!
  • ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০

রশিদুল মোল্লা (ভাঙড়ের নওদাবাদের বাসিন্দা): সকালেই টিভি খুলে দেখছিলাম, ভাঙড়ের কোনও খবর আছে কি না। কিছুই দেখাচ্ছে না। এরকম তো হয় না সাধারণত। তাই কিছুটা আশ্চর্য হয়েই রাস্তায় বের হই। দেখি সব শুনশান। বাড়ির সামনেই নওদাবাদ প্রাথমিক বিদ্যালয়। সেখানেই আমাদের ভোটকেন্দ্র। প্রতিবার ওই ভোটকেন্দ্রে পৌঁছনোর রাস্তায় চাপা উত্তেজনা থাকে। কোনও কোনওবার বোমাও ফেটেছে। এবার দেখলাম ভিন্ন চিত্র। কেউ কোথাও নেই। সব দলের পতাকাও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বারবার টহল দিচ্ছে সেন্ট্রাল ফোর্সের বাইক বাহিনী। আর তাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে যাচ্ছে কলকাতা পুলিশের উত্তর কাশীপুর থানার পুলিশ। 

Advertisement

সকাল সকাল এই ছবিটা দেখেই আশ্বস্ত হলাম। বাড়িতে ৬৩ বছরের মাকে বললাম– ‘চলো, এবার ভোটটা দিতে যাবে। এবার অন্যরকম ভোট।’ প্রথমে মা ভয় পাচ্ছিল। কিন্তু, রাস্তায় বেরতেই মা বলল– ‘বাবা এত শুনশান! আগে তো দেখিনি।’ আমার বয়স ৪৫ বছর। গত ২০ বছরে ভাঙড়ে এতো শান্ত ভোট আমি অন্তত দেখিনি। একুশ সালের ভোটই দিইনি। আমাদের বাধা দেওয়া হয়েছিল। নির্বাচনের আগের দিনই শাসিয়ে গিয়েছিল আইএসএফের লোকজন। তাই বাড়ি থেকে বের হতেই পারিনি। এবার আর তেমনটা হয়নি। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও খুব সাহায্য করেছেন। প্রতিবার তো এমন ভোটই হতে পারে। তাতে মানুষ অন্তত নির্ভয়ে ভোটটা দিতে পারে। এটাই ভাঙড়ের মানুষ চায়। ভাঙড়ের লোকজনও বোমা-গুলি পছন্দ করে না।

সম্পর্কিত সংবাদ