Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এলাকার উন্নয়নে কাজ করেছি, বলছেন নানুরের বিধায়ক বিধান

ভোট ঘোষণা হতেই ময়দানে ভোটপ্রচারে নেমে পড়েছে সব রাজনৈতিক দল। নানুর বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে ফের বিধানচন্দ্র মাঝি টিকিট পেয়েছেন।

এলাকার উন্নয়নে কাজ করেছি, বলছেন নানুরের বিধায়ক বিধান
  • ২৪ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুকমল দালাল, বোলপুর: ভোট ঘোষণা হতেই ময়দানে ভোটপ্রচারে নেমে পড়েছে সব রাজনৈতিক দল। নানুর বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে ফের বিধানচন্দ্র মাঝি টিকিট পেয়েছেন। পেশায় শিক্ষক বিধানসবাবু ইতিমধ্যেই এলাকায় প্রচার শুরু করেছেন। তাঁর দাবি, গত পাঁচ বছরে নানুর বিধানসভায় অনেক উন্নয়নের কাজ হয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছে বিভিন্ন পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। যদিও বিরোধীদের অভিযোগ, এখনও বহু কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে। তবে সেইসব অভিযোগকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ বিধানবাবু। তাঁর দাবি, এবার গতবারের চেয়ে বেশি ভোটে জয়ী হবেন। 

Advertisement

গত বিধানসভা নির্বাচনে নানুর কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী বিধানবাবু ৬,৬৭০ ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। জেলা পরিষদ, পঞ্চায়েত সমিতি ও গ্রাম পঞ্চায়েতস্তরে শাসকদলের প্রভাব বজায় রয়েছে। লোকসভা নির্বাচনেও এই কেন্দ্রে এগিয়ে ছিল তৃণমূল। বিধায়কের দাবি, গত কয়েক বছরে এলাকায় বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ হয়েছে। নানুর ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় কমিউনিটি হল তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৬০টি স্কুলে পরিস্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একইসঙ্গে পরিকাঠামোর উন্নয়ন ও স্মার্ট ক্লাসরুম চালু হয়েছে। স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও অগ্রগতি হয়েছে। 
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মোট তহবিলের মধ্যে ২কোটি ১০লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে, যা প্রায় ৬৩.৬৫ শতাংশ। যদিও বিধায়কের দাবি, তিনি পুরো তহবিলই ব্যবহার করেছেন। সব কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট পেতে দেরি হওয়ায় বাকি হিসেব আটকে আছে বলে তাঁর বক্তব্য। এর পাশাপাশি একাধিক ক্ষেত্রে অসন্তোষও স্পষ্ট। স্থানীয় ও বিরোধীদের অভিযোগ, ক্রীড়া ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় বড় ধরনের উন্নয়ন চোখে পড়েনি। নতুন করে কোনও কলেজ তৈরি হয়নি। একাধিক এলাকায় এখনও নিকাশি ব্যবস্থা বেহাল। যারফলে বর্ষাকালে ভোগান্তি বাড়ে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে কয়েকটি এলাকায় গ্রামীণ সড়কের বেহাল অবস্থা। দীর্ঘদিন ধরে বহু রাস্তা সংস্কার হয়নি বলে অভিযোগ।  যদিও বিধায়কের দাবি, সরকারি প্রকল্পে উন্নয়ন অব্যাহত রয়েছে। সব পরিষেবা মানুষের কাছে পৌঁছেছে। বিধানবাবু বলেন, এবার জয়লাভ করলে কীর্ণাহারে একটি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, অজয় নদীর বাঁধ মেরামত, কঙ্কালীতলা উন্নয়ন পর্ষদ ও চণ্ডীদাস মিউজিয়াম গড়া হবে। এই বিধানসভায় শাসকদলের সংগঠন মজবুত হলেও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কাঁটা রয়েছে। নানুর বিধানসভা এলাকায় তেমন উন্নয়নের কাজ হয়নি বলে অভিযোগ সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য তথা এবারের প্রার্থী শ্যামলী প্রধানের। তিনি বলেন, সদ্য শিলাবৃষ্টিতে নানুর বাজারে দোকানে জল ঢুকে যায়। জলনিকাশি ব্যবস্থা নেই। এই এলাকার পরিযায়ী শ্রমিকরা বাইরে কাজের জন্য যাচ্ছে। শিক্ষিত বেকার যুবকরা চাকরি পাচ্ছে না। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাও বেহাল। তৃণমূলের সময়ে আসল উন্নয়নের কাজ কিছুই হয়নি। বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক তথা বিজেপি প্রার্থী খোকন দাস বলেন, নানুরে বিধায়ক কত কাজ করেছেন, মানুষ দেখতে পাচ্ছে। এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়েছে নানুর বাজার। উনি শুধু বালি মাফিয়া ও সিন্ডিকেটকে প্রাধান্য দিয়েছেন। বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটানো হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ