২৬ বছর পর বাংলা ছবির পরিচালনায় অনুপম খের। সৌজন্যে ‘শুরু থেকে শুরু’। কলকাতায় এসে নানা কথা শেয়ার করলেন অভিনেতা-প্রযোজক।
২৬ বছর পর বাংলা ছবির পরিচালনায় অনুপম খের। সৌজন্যে ‘শুরু থেকে শুরু’। কলকাতায় এসে নানা কথা শেয়ার করলেন অভিনেতা-প্রযোজক।
২৬ বছর পর বাংলা ছবি প্রযোজনা, কেন?
একটা ভীষণ ভালো গল্প পেলাম। সম্পূর্ণ বাংলা আর বাঙালির গল্প। এখানে বলে রাখি, ঋতুপর্ণ ঘোষের আর একটা ছবি আমার প্রযোজনা করার কথা হয়েছিল। দুর্ভাগ্যবশত প্রজেক্টটা আর হয়নি। দ্বিতীয়ত, এখানকার সাংস্কৃতিক তথা সিনেমার ঐতিহ্য। তা ভেবেই ফের বাংলা ছবির প্রযোজনা।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কী কথা হল?
উনি আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন, এখানে শ্যুটিং করার জন্য যখন যা দরকার, সব আমি পাব।
গল্পটা পেলেন কীভাবে?
প্রায় দু’বছর। ছবির পরিচালক শমীক বন্দ্যোপাধ্যায় আমায় এক রাতে দু’প্যারাগ্রাফে একটা আইডিয়া টেক্সট করেন। আমি জানতে চাই, এটা কি কোনও শর্ট ফিল্মের কনসেপ্ট? শমীক আমাকে জানায়, পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি। আমার গল্পটা ভালো লেগে গেল। ওঁর সঙ্গে চিত্রনাট্য নিয়ে আদাজল খেয়ে লেগে পড়লাম। এমন সময় ফিরদৌসুল সাহেবের সঙ্গে আলাপ হল। তারপরই ঠিক করলাম, বাংলা ছাড়া অন্য কোনও ভাষায় এই ছবিটা করব না।
অনেক বাঙালির ইনপুট নিয়েছেন নিশ্চয়ই?
একটা মজার কথা বলি?
নিশ্চয়ই...
নিউ ইর্য়কের একটি গবেষণাগারে আমার ডিএনএ টেস্ট করতে দিয়েছিলাম। সম্প্রতি তার রিপোর্ট এসেছে। সেখানে লেখা আছে আমি পঁচানব্বই শতাংশ কাশ্মীরী, পাঁচ শতাংশ বাঙালি। (হাসি)
ছবির গল্পের বিষয় নিয়ে যদি একটু আভাস দেন...
পটভূমি বাংলার হিল স্টেশন। ছবির সিংহভাগ গল্পের শ্যুটিং হবে উত্তরবঙ্গে। বিষয় মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক। প্রেম, মান-অভিমান, দ্বন্দ্ব।
বাড়িওয়ালি ছবিতে কিরণ খেরের কণ্ঠস্বর ডাবিং করা আপনি মেনে নিতে পারেননি...
পাস্ট ইজ পাস্ট। অতীতে কী হয়েছিল আজ আর মনে করতে চাই না। আমি আবার ‘শুরু থেকে শুরু’ করতে চাই। (হাসি)
মায়ের জন্য অট্টালিকা তৈরি করলেও আপনি মুম্বইয়ে ভাড়া বাড়িতে থাকেন।
(হাসি) ভাড়া বাড়িতে থাকার যে স্বাধীনতা সেটা নিজের তৈরি বা কেনা বাড়িতে নেই। মালিকানাধীন বাড়িতে থাকার প্রচুর টেনশন। বাংলা ছবি যখন প্রযোজনা করছি, এখানেও তাই একটা বাড়ি ভাড়া করব ভাবছি।
বাংলা ফিল্ম ও টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রি এখন একটা নতুন অধ্যায়, সম্ভাবনার সামনে দাঁড়িয়ে। আপনার পরামর্শ কী?
দেখুন আমি মনে করি, হিন্দি হোক বা বাংলা ফিল্ম বলুন বা টিভি, ওটিটি শো... ফর্মুলার বাঁধা গতে চললে একটা সময়ের পর গতি রুদ্ধ হতে বাধ্য। সবাই মিলে খোলা মনে কাজ করতে হবে।
প্রিয়ব্রত দত্ত