বিয়ের এক মাস পার হয়ে গেল, জীবন কতটা বদলেছে?
বিয়ের এক মাস পার হয়ে গেল, জীবন কতটা বদলেছে?
সত্যি বলতে খুব বেশি বদল আসেনি। কারণ আমরা আগে থেকেই একে অপরকে ভালোভাবে চিনতাম। বাড়ি সাজানোর কাজটাও আমি নিজেই করেছি। তাই আগেই নিজেকে এ বাড়ির একজন বলে মনে হয়েছে। ছোটোবেলা থেকেই আমি স্বনির্ভর, অল্প বয়সে বোর্ডিং স্কুলে যাওয়া, তারপর কলেজ। আর ১৮ বছর বয়স থেকে কাজ করছি, তাই একা থাকা বা বাড়ি সামলানো নতুন নয়। এখন সেটা আমার প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে করছি, তাই সবকিছু আরও সহজ, এবং খুব সুন্দর লাগছে।
আপনারা দু’জনেই ‘সেল্ফ-মেড’। তাই কি আপনাদের মধ্যে বোঝাপড়া বেশি ভালো?
ঠিক বলেছেন। এটা আমাদের বন্ডিংয়ের অন্যতম বড়ো কারণ। অল্প বয়সে মুম্বইয়ে এসে এত প্রতিযোগিতামূলক ক্ষেত্রে নিজের জায়গা তৈরি করা সহজ ছিল না। আমরা দু’জনেই স্বনির্ভর, নিজের কাজকে ভীষণ ভালোবাসি, তাই বিয়ের আগের এক সপ্তাহ পর্যন্ত কাজ করেছি। আবার বিয়ের এক সপ্তাহ পরেই ও আইপিএল আর আমি ‘মটকা কিং’-এর প্রচারের কাজ শুরু করেছিলাম।
‘মটকা কিং’-এ আপনার লুকটা একেবারে আলাদা...
এখানে আমি একটি পার্সি মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছি, যা আগে কখনো করিনি। ৬০-৭০-এর দশকের ফ্যাশন আর হেয়ারস্টাইল নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতাটা দারুণ ছিল। আমার আগের কাজগুলোতে লুক বেশ স্বাভাবিক ছিল, কিন্তু এখানে একটু গ্ল্যামারাস, তাই এক্সপেরিমেন্ট করতে পেরেছি। প্রতিদিন শ্যুটের জন্য তৈরি হতে অনেক সময় লাগত। ঠিক কতটা পার্সি উচ্চারণ রাখা উচিত, তা নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত মনে হয়েছে, যেহেতু এটি একটি প্যান-ইন্ডিয়া শো এবং চরিত্রটি মুম্বইয়ের মতো বহুসাংস্কৃতিক শহরে থাকে, তাই তার কথাবার্তায় খুব বেশি প্রচলিত পার্সি টান থাকবে না। দর্শকরা সিরিজটি উপভোগ করছেন জেনে ভালো লাগছে।
টেলিভিশন ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাহলে সঠিক ছিল?
পুরোপুরি ছেড়ে দিয়েছি, এমন নয়। তবে টেলিভিশনের নিরাপদ জায়গা ছেড়ে ঝুঁকি নিয়েছিলাম। নিজের ওপর বিশ্বাস ছিল, তাই আমি সেই ঝুঁকিটা নিতে পেরেছি। আজ ফিরে তাকালে দেখি, সেই সিদ্ধান্তই আমাকে নানা ধরনের কাজের সুযোগ এনে দিয়েছে।
এত অনিশ্চিত পেশায় আপনি কতটা সুরক্ষিত বোধ করেন?
পেশাগতভাবে পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হওয়া সম্ভব নয়। তবে এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই এক ধরনের উত্তেজনা আছে, আর এতদিনে সেটার সঙ্গে মানিয়ে নিতে শিখেছি। এখনও মনে হয় অনেক কিছু করার বাকি, তাই নিজেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত ভাবি না। তবে একটা বিশ্বাস আছে, আমার কাজ মানুষের কাছে পৌঁছেছে, আর সেই ভিত্তিতেই আমি এগিয়ে যেতে পারব।
দেবারতি ভট্টাচার্য • মুম্বই