


নয়াদিল্লি: গত ১২ জুন আমেদাবাদ থেকে লন্ডন যাওয়ার জন্য টেক অফের কিছু সময়ের মধ্যেই ভেঙে পড়ে এয়ার ইন্ডিয়ার উড়ান। মৃত্যু হয় ২৪১ যাত্রী ও বিমানকর্মী সহ মোট ২৬০ জনের। শুক্রবার মধ্যরাতে সেই দুর্ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করল এয়ারক্র্যাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি)। তা থেকে জানা যাচ্ছে, টেক অফের কিছুক্ষণের মধ্যে বিমানের দু’টি ইঞ্জিনের জ্বালানি সরবরাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। যার ফলে দু’টি ইঞ্জিন অকেজো হওয়ায় মুখ থুবড়ে পড়েছিল বিমানটি। জ্বালানি সরবরাহে সমস্যার কথা ককপিট ভয়েস রেকর্ডিংয়েও ধরা পড়েছে।
বিমান দুর্ঘটনার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হল বিমানের ককপিট ভয়েস রেকর্ডার বা সিভিআর। যেখানে দুই পাইলটের মধ্যে ককপিটে হওয়া কথোপকথন রেকর্ড করা হয়। দুর্ঘটনাগ্রস্ত এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানের সিভিআর বিশ্লেষণ করে ১৫ পাতার রিপোর্ট প্রকাশ করেছে এএআইবি। তাতে দুই পাইলটের শেষ মুহূর্তের চাঞ্চল্যকর কথোপকথন ধরা পড়েছে। সেখানে একজন পাইলট দ্বিতীয়জনকে বলছেন, ‘তুমি কেন জ্বালানির সুইচ বন্ধ করলে?’ উত্তরে দ্বিতীয় পাইলট বলেন, ‘আমি কিছু করিনি।’ এই পরিস্থিতিতে শেষ মুহূর্তে ইঞ্জিন চালুর মরিয়া চেষ্টা করেছিলেন দুই পাইলট। সক্রিয় করেছিলেন বিকল্প এক যন্ত্রও। তাতে দু’টি সুইচ চালুও হয়। কিন্তু লাভ হয়নি। কারণ প্রথম ইঞ্জিন চালু হলেও দ্বিতীয়টিকে আর সচল করা যায়নি। এর কয়েক মুহূর্তের মধ্যে বিমানটি সামনের বহুতলে ধাক্কা মারে।
হঠাৎ কেন ইঞ্জিনের তেল সরবরাহ নিয়ন্ত্রণকারী সুইচ বন্ধ হয়ে গেল সেটাই এখন তদন্তকারীদের নজরে। আরও বেশকিছু বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিমান দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে পাখির সঙ্গে ধাক্কা লাগার বিষয়টিও সামনে এসেছিল। কিন্তু সিসি ক্যামেরার ফুটেজে তার কোনও প্রমাণ মেলেনি বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।