Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিনোদন

‘দেবশ্রী-প্রসেনজিৎ জুটির কামব্যাকের অপেক্ষায় আছি’

৪৫ বছরের বেশি সময় ধরে অভিনয় করছেন চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী। একান্ত সাক্ষাৎকারে বাংলা ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে অকপট অভিনেতা।

‘দেবশ্রী-প্রসেনজিৎ জুটির কামব্যাকের অপেক্ষায় আছি’
  • ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

৪৫ বছরের বেশি সময় ধরে অভিনয় করছেন চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী। একান্ত সাক্ষাৎকারে বাংলা ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে অকপট অভিনেতা।

Advertisement

• দীপক চক্রবর্তী এবং চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী নাম বিভ্রাটে পড়তে হয়েছে?
নাম বিভ্রাটে পড়তে হয়নি। কারণ চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তীর জনপ্রিয়তা অনেক বেশি। তবে ঋতুপর্ণ (ঘোষ), সৃজিত (মুখোপাধ্যায়) বলেছে, দীপক দা’র ছবি। ওরা বলত, আমার ছবিতে কিন্তু চিরঞ্জিৎ অভিনয় করেননি, দীপকদা অভিনয় করেছেন। তখন আমি বলতাম, তাহলে আমার নাম দিয়ে দে ‘নিউ কমার দীপক চক্রবর্তী’! তাহলে একটা নতুন আর্টিস্ট পাওয়া যাবে (হাসি)।
• অভিনয়ের সঙ্গে বিধায়কের দায়িত্ব, কীভাবে সবটা ব্যালেন্স করেন?
নিয়মানুবর্তিতা। পরিকল্পনামাফিক কাজ। এছাড়াও শরীর সুস্থ রাখার জন্য আমি পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিয়মিত যোগাভ্যাস করি। পরিমিত খাবার খাই। ভাত, রুটি প্রায় খাই না।
• নায়ক মাত্রই কি ভাত-রুটি ছেড়ে দিতে হয়?
আমি একা নই। অক্ষয় কুমার প্রচুর নিয়ম মানেন। বুম্বা (প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়) অনেক কিছু মানে। এই ব্যাপারে উত্তমদা খুব সতর্ক ছিলেন। উত্তমদার স্থূলতার পারিবারিক কারণ ছিল। সেই জন্য উত্তমদা নিজের গালে ঠাস ঠাস করে চড় মারতেন! যাতে তাঁর গাল আরও বেড়ে না যায়, ‘ডবল চিন’ না হয়। 
• ‘আমি যখন হেমামালিনী’ ছবিতে আপনি ধর্মেন্দ্র?
পরিচালক পারমিতা মুন্সির চিত্রনাট্য আমার খুব ভালো লেগেছিল। আমার চরিত্রের নাম ধর্মেন্দ্র, একজন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক। কিন্তু, কোনও ভাবেই রুপোলি পর্দার ধর্মেন্দ্রর সঙ্গে আমাকে মেলানো যাবে না।
• দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় দর্শকের দৃষ্টিভঙ্গির কতটা পরিবর্তন হল?
দর্শকের দৃষ্টিভঙ্গি একটুও পাল্টায়নি। একটা সময় আমাদের এখানে জাতীয় পুরস্কার পাওয়া ভালো পরিচালকেরা ভাবলেন ‘কপি ফিল্ম’ আর দর্শক নেবে না। তাঁরা অন্য ধারার ছবি তৈরি করতে থাকলেন। সেই ছবিগুলোও অসাধারণ। কিন্তু, গ্রাম-গঞ্জের দর্শকের কাছে সেই ছবিগুলো মুখ থুবড়ে পড়ল। ফলস্বরূপ একের পর এক সিঙ্গল স্ক্রিন বন্ধ হতে থাকল। 
• এ বিষয়ে আপনার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা হয়েছে?
রায়দিঘিতে দেবশ্রী রায়ের একটি জনসভায় গিয়েছিলাম। তিরিশ হাজার লোকের সামনে আমি একটা এক্সপেরিমেন্ট করেছিলাম। বলেছিলাম, আমার ছবি ‘চতুষ্কোণ’ জাতীয় পুরস্কার পেয়েছে। শহরে ভীষণ হিট। আপনারা দেখেছেন? কেউ সাড়া দেননি। কিন্তু যখনই বললাম ‘কেঁচো খুঁড়তে কেউটে’র একটা ডায়লগ বলি? জনতা হইহই করে উঠল। আমি কুড়ি বছর ধরে বলছি, কমার্শিয়াল ছবি না হলে ইন্ডাস্ট্রি বাঁচবে না। 
• ‘খাদান’, ‘ধূমকেতু’র মতো ছবির ব্যবসায়িক সাফল্যে ইন্ডাস্ট্রি ঘুরে দাঁড়াবে?
আমি দেবকে বলেছিলাম ‘পাগলু’ তোকে বাঁচিয়ে রাখবে। সঙ্গে তুই অন্য ছবি কর। ২০১১ সালে একটি জনসভায় দেবের ‘পাগলু’র গান গাওয়া নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল। সেটা ওকে কষ্ট দিয়েছিল। তখন দেব ‘পাগলু’কে ঘৃণা করতে শুরু করে। ওই ইমেজ থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছিল। ওকে বুঝিয়েছিলাম ‘পাগলু’, ‘খোকাবাবু’র জন্যই তুই স্টার।
• জনপ্রিয় জুটি ছবিকে কতটা সাফল্য দেয়?
বাংলা ছবিতে উত্তম সুচিত্রার জুটি ছিল। বুম্বা-ঋতু জুটির ছবিও অনেকদিন পরে সফল হয়েছিল। দেব-শুভশ্রী জুটিও সফল। দেবশ্রী আর বুম্বা একসঙ্গে ছবি করবে, সেটা দেখার অপেক্ষায় আছি। যেদিন দেবশ্রী-প্রসেনজিৎ জুটির কামব্যাক হবে। --- পূর্বাশা দাস

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ