সিঁদুর খেলার সঙ্গেই ডান্ডিয়া, বাঙালি ও  অবাঙালি মিশেলে হায়দরাবাদের পুজো,
  • ১১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়: শরতের আকাশ। মাঠের ধারে হাওয়ায় দোল খেতে ব্যস্ত কাশফুলের ঝাড়। মাঝে-মধ্যে বৃষ্টি পড়লেও, মিঠে রোদ গায়ে লাগতেই বাঙালিদের মনে আলাদা একটা উৎসাহ চাগাড় দেয়। পুজো আসছে, এই আহ্বান পেয়ে গিয়েছি আমরা। বাংলার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন রাজ্যেও শেষ পর্বে তুলির টান। 

Advertisement

দক্ষিণের রাজ্যগুলির মধ্যে প্রবাসী বাঙালিদের পুজোয় হায়দরাবাদ এবং বেঙ্গালুরু অন্যতম। হায়দরাবাদের কথা বলতে হলে প্রথমেই আসবে মাসাব ট্যাঙ্কের বেঙ্গলি কালচালার অ্যাসোসিয়েশনের কথা। শহরের বাঞ্জারা হলে দুর্গা আরাধনার আয়োজন করা হয়েছে। থিম বনেদি বাড়ি। ২০ হাজার বর্গফুট জুড়ে বিশাল চত্বরে অনুষ্ঠিত হবে দুর্গোৎসব। দর্শনার্থীদের জন্য মণ্ডপ চত্বরেই থাকছে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা। এছাড়া অজস্র স্টল। মানে একইসঙ্গে ঠাকুর দেখা, সঙ্গে কোনাকাটা ও পেটপুজো। পুজো কমিটির সম্পাদক সঞ্জয় পান জানালেন, প্রতিবারের মতো এবারেও হায়দরাবাদনিবাসী বাঙালিদের কথা মাথায় রেখেই পুজোর আয়োজন করা হয়েছে। পুজোর চারদিনের প্রতিদিনই থাকছে মধ্যাহ্নভোজের ব্যবস্থা। পুজো এবছর পাঁচদিন। তাই তোড়জোড়টাও একটু বেশি। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শিল্পীরা আসছেন কলকাতা ও মুম্বই থেকে। উৎসবের শুরুতে ষষ্ঠীতে রয়েছে আনন্দমেলা। ক্লাবের সদস্যদেরই ঘরে তৈরি খাবার এবং হস্তশিল্পের নানা সম্ভার থাকে সেই মেলায়। দশমীর দিনে রয়েছে বিশেষ অনুষ্ঠান। বাঙালি সিঁদুরখেলার সঙ্গে মিশে যাবে অবাঙালি ডান্ডিয়া। 
সেকেন্দরাবাদের আরটিসি কলোনির জয়লক্ষ্মী গার্ডেনের দুর্গোৎসবের প্রস্তুতিও চলছে জোরকদমে। বেদাঙ্গ সম্মিলনীর আয়োজিত সেই উৎসব চলবে ১৫ অক্টোবর থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত। এখানেও পুজোর আগে রয়েছে আনন্দমেলা। ১৫ তারিখ এই মেলা দিয়েই উৎসবের সূচনা। থাকবেন ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের স্বামী মুনিশ্বরানন্দ। প্রতিমা হবে সাবেকি। আর পুজোর পাশাপাশি চারদিন সন্ধ্যায় থাকবে ক্লাবেরই সদস্যদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নানা অনুষ্ঠান। ১৭ অক্টোবর শ্রুতিনাটক ‘গল্পগুচ্ছ’, তারপর দিন গীতি আলেখ্য ‘বেদাঙ্গ ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস’, আর ১৯ অক্টোবর ‘বেদাঙ্গ বলিউড নাইট’। 
আরও এক দক্ষিণী শহর বেঙ্গালুরুর পুজো মানেই নর্থ ব্যাঙ্গালোর কালচারাল সমিতির উৎসব। হিন্দু সাদারা ক্ষেমাভিবৃদ্ধি সঙ্ঘের পুজোমণ্ডপে নিয়মিত প্রায় ১২০০ থেকে ১৫০০ মানুষের ভান্ডারার আয়োজন করা হয়েছে। পুজো কমিটির সভাপতি কল্যাণ পাঠক জানাচ্ছেন, এ বছর তাঁদের ভাবনায় রয়েছে শতদল দিব্য পদ্ম। এই ফুল পবিত্রতা, আধ্যাত্মিক জাগরণ ও সম্প্রীতির প্রতীক। শত পাপড়ি মিলে যেমন একটি পূর্ণ ফুল হয়, তেমনই তাঁদের এই উৎসব শত শত মানুষের প্রচেষ্টার ফল। এই থিমেই চলছে মণ্ডপসজ্জার কাজ। পুজোর চারদিনই সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিশেষ আকর্ষণ হিসাবে সারেগামা খ্যাত বাংলা ব্যান্ডের গান। তার সঙ্গে স্থানীয় শিল্পীদের কবিতা, শ্রুতি নাটক, নাচ ও গান পরিবেশন। ষষ্ঠীর দিন রয়েছে আনন্দমেলা ও  অষ্টমীতে ডান্ডিয়া। মণ্ডপেই থাকছে নানা ধরনের খাবার ও কেনাকাটার সম্ভার। বাঙালি খাবারের পাশাপাশি থাকবে দক্ষিণী বিভিন্ন খাবার। মিষ্টির স্টল দেবে বর্ধমান জেলা।