সংবাদদাতা, কান্দি: স্ত্রীর সঙ্গে প্রতিবেশী যুবকের প্রেমের সম্পর্ক দুই বছর পেরিয়েছে। ইতিমধ্যে প্রেমের টানে স্ত্রী চারবার ঘর ছেড়েছেন। কিন্তু মঙ্গলবার রাতে পঞ্চমবারের জন্য স্ত্রী ঘর ছাড়তেই, তাঁকে প্রেমিকের হাতে তুলে দিলেন স্বামী। বুধবার অনুষ্ঠান করে স্ত্রীর বিয়ে দিলেন প্রেমিকের সঙ্গে। ঘটনাটি ভরতপুর থানার পল্লিশ্রী গ্রামের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই গ্রামের রবীন সরকারকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন বিচিত্রা সরকার। প্রায় সাতবছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়েছিল। দম্পতির একটি পাঁচবছরের পুত্র সন্তানও রয়েছে। কিন্তু বছরদুয়েক হল স্ত্রী বিচিত্রা প্রতিবেশী দেওর অমিয় সরকারের প্রেমে পড়েন। সেই প্রেমের টানে ইতিমধ্যে বিচিত্রা চারবার স্বামীকে ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন। বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার পর চারবারই গ্রামের লোকজন সালিশি করে ফের স্বামীর ঘরে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন বিচিত্রাকে। কিন্তু পঞ্চমবারে অঘটন ঘটল। স্ত্রীকে প্রেমিকের হাতে তুলে দিনেল স্বামী। বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাত ১১টা নাগাদ বিচিত্রা ফের অমিয়র কাছে চলে আসে। এবার বাড়ির মধ্যে ঢুকে জেদ ধরে বসে যে তাঁকে বিয়ে করবে। ততক্ষণে গ্রামে হুলস্থুল পড়ে গিয়েছে। খবর পেয়ে সেখানে চলে আসেন স্বামী রবীন। তিনি সকলের সামনে কথা দেন, বুধবার নিজে দাঁড়িয়ে থেকে প্রতিবেশী যুবকের সঙ্গে নিজের স্ত্রীর বিয়ে দেবেন। বুধবার বিকেলে হলও তাই। স্বামী ওই প্রতিবেশী যুবকের বাড়ির সামনে রীতিমতো অনুষ্ঠান করে পুরোহিত ডেকে নিজের স্ত্রীর বিয়ে দিলেন। নিজে থেকে চারহাত এক করলেন। আর পাঁচবছরের ছেলেকে নিজের কাছে রেখে বললেন, তোমরা সুখে থাক, ভালো থাক। সংসারে কিছু দরকার হলে আমাকে একবার বোলো। গ্রামের মানুষ ভিড় করে এসব দেখলেন।
স্বামী রবীন বলেন, প্রেমের বাধা হতে পারিনি। প্রেমের সম্পর্ককে মর্যাদা দিয়েছি। তাই ওদের এক করে দিলাম। স্ত্রীর কাপড়চোপড়, গয়না, আসবাবপত্র যা কিছু ছিল সব দিয়ে দিয়েছি। নববধূ বিচিত্রা বলেন, ওকে আমি দু’ বছর ধরে ভালোবাসি। ওকে ছাড়া বাঁচতে পারতাম না। তাই স্বামী দাঁড়িয়ে থেকে আমাদের বিয়ে দিয়েছেন। বধূর নতুন স্বামী অমিয় সরকার বলেন, ও কালরাতে বাড়িতে এসে জেদ ধরে বসে বিয়ে করবে বলে। গ্রামের সকলকে বিষয়টি জানাই। এরপর এদিন আমাদের বিয়ে হল। গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা দিলীপ রাজবংশী বলেন, ওদের কোনওভাবে আটকানো যেত না। ওই মেয়েটির স্বামী নিজে থেকে বিয়ে দিয়ে মহানুভবতার পরিচয় দিল। -নিজস্ব চিত্র