Bartaman Logo
১৩ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের জেরে স্বামীকে কুপিয়ে খুন, প্রেমিকের মা গ্রেপ্তার

স্ত্রীর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের প্রতিবাদ করেছিলেন স্বামী। সেই সম্পর্কের জেরেই প্রাণ গেল ২৮ বছরের প্রদীপ হালদারের।

বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের জেরে স্বামীকে কুপিয়ে খুন, প্রেমিকের মা গ্রেপ্তার
  • ১৩ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: স্ত্রীর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের প্রতিবাদ করেছিলেন স্বামী। সেই সম্পর্কের জেরেই প্রাণ গেল ২৮ বছরের প্রদীপ হালদারের। মঙ্গলবার রাতে ধারালো হাঁসুয়া দিয়ে গলায় কোপ মেরে প্রদীপকে খুন করার অভিযোগ উঠল স্ত্রীর প্রেমিক জয়ন্ত পালের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কৃষ্ণগঞ্জ থানার গেদে মোড় এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গেদে মোড় এলাকার বাসিন্দা প্রদীপের বেশ কয়েক বছর আগে বিয়ে হয়েছিল। দম্পতির একটি ছেলে রয়েছে। পেশায় সেন্টারিং শ্রমিক প্রদীপকে কাজের সূত্রে দীর্ঘ সময় বাড়ির বাইরে থাকতে হতো। অভিযোগ, সেই সুযোগেই প্রতিবেশী যুবক জয়ন্ত পালের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। গত কয়েক মাস ধরে সেই সম্পর্ক নিয়ে পরিবারে অশান্তি চলছিল বলে দাবি আত্মীয়দের।

Advertisement

পরিবারের অভিযোগ, ফোনে জয়ন্তের সঙ্গে কথা বলার সময় স্ত্রীর কাছে বিষয়টি জানতে পারেন প্রদীপ। এরপর স্ত্রীকে নিয়ে তাঁর সঙ্গে অশান্তিও হয়। পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছিল। পরিবারের এক সদস্যের দাবি, সম্পর্ক নিয়ে অশান্তির জেরে কয়েকদিন আগে প্রদীপের স্ত্রী কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। হাসপাতালে চিকিৎসার পর তাঁকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
এরই মধ্যে মঙ্গলবার রাতে ঘটে যায় রক্তাক্ত ঘটনা। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রাতে বিড়ি কিনতে বাড়ির বাইরে বেরিয়েছিলেন প্রদীপ। সেই সময় বাড়ি থেকে জয়ন্ত পাল এবং তাঁর মা যমুনা পাল বেরিয়ে আসেন বলে অভিযোগ। এরপর প্রদীপকে পাশের একটি বাগানের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর গলায় কোপ মারা হয় বলে অভিযোগ।
রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা ছুটে আসেন। তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে কৃষ্ণগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেখান থেকে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা প্রদীপকে মৃত ঘোষণা করেন।
অভিযোগ, প্রদীপকে বাঁচাতে এগিয়ে আসা এক স্থানীয় যুবকও হামলার সময় জখম হন। ঘটনার খবর পেয়ে কৃষ্ণগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনায় খুনের প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে জয়ন্তের মা যমুনা পালকে গ্রেপ্তার করেছে কৃষ্ণগঞ্জ থানার পুলিশ। বুধবার তাঁকে কৃষ্ণনগর আদালতে তোলা হলে জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যদিকে, মূল অভিযুক্ত জয়ন্ত পাল পলাতক বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। তাঁর খোঁজে তল্লাশি চলছে।
পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, ‘ঘটনায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্তের মাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মূল অভিযুক্ত পলাতক। প্রাথমিক তদন্তে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের জেরেই এই ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে।’ ঘটনার নেপথ্যে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ