সংবাদদাতা, কান্দি: স্ত্রীর ‘পরকিয়া’ প্রেম সহ্য করা যায়নি। এমন অভিযোগেই ঘুমে আচ্ছন্ন স্ত্রীর মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে খুন করল স্বামী। ভরতপুরের গড্ডা গ্রামের এই ঘটনায় পুলিস অভিযুক্ত স্বামী রবি মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করেছে। আর তারপর পুলিসি জেরায় উঠে এসেছে এই তথ্য। সোমবার ভোরে ওই গ্রামে নিজের বাড়িতেই বন্দনা মণ্ডল (৪০) নামে গৃহবধূর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করেছিল পুলিস।
প্রসঙ্গত, সোমবার ভোরে মৃতার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারের পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী পলাতক ছিল। তবে পুলিসি তল্লাশি শুরু হলে ওইদিন কয়েক ঘণ্টা পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে স্থানীয় তালগ্রাম ক্যানেলপাড়ের রাস্তা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর মঙ্গলবার ধৃতকে কান্দি মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ছয়দিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। হেফাজতে নেওয়ার পর পুলিসের জেরায় উঠে এসেছে ‘পরকিয়া’ প্রসঙ্গ। পুলিসের বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত স্বামী কাজের সূত্রে মুম্বইয়ে থাকত। সেই সময় স্ত্রীর সঙ্গে তার মনোমালিন্য শুরু হয়। আর মনোমালিন্যের কারণ হিসেবে ‘পরকিয়া’ তত্ত্বই সামনে আসে। ধৃত স্বামী পুলিসের কাছে জেরায় জানিয়েছে, গ্রামেরই একজনের সঙ্গে পরকিয়া প্রেমে লিপ্ত হয়ে পড়েছিল স্ত্রী। এমনকী খুনের ঘটনার কিছুদিন আগে স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে কয়েকদিনের জন্য চলেও গিয়েছিল। যদিও পরিবারের লোকজন স্ত্রীকে বুঝিয়ে তাঁকে ফের বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। এই ঘটনা জানার পর অভিযুক্ত স্বামী মুম্বই থেকে বাড়ি চলে আসে। স্বামী জেরায় জানিয়েছে, বারবার সে স্ত্রীকে বোঝানোর চেষ্টা করা সত্ত্বেও তাঁকে বশ মানানো যাচ্ছিল না। এমন অবস্থায় রবিবার রাত ১১টা নাগাদ অভিযুক্ত স্বামী তাঁর নাবালক ছেলেকে শোয়ার ঘর থেকে বের করে দিয়ে দরজা বন্ধ করে দিয়েছিল। এরপর স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে তুমুল ঝামেলা হয়। যদিও স্ত্রী স্বামীর কোনও কথা শুনতে না চেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। তাতে আরও রাগ বাড়ে স্বামীর। এরপর রাত ১টা ২০ নাগাদ অভিযুক্ত রাগ সহ্য করতে না পেরে স্ত্রীর মাথায় হাতুড়ির আঘাত করে। এরপর বালিশের উপরই হাতুড়ি রেখে দেয়। স্ত্রীর মৃত্যু নিশ্চিত জেনে চোখের জলও ফেলে স্বামী। এরপর উপায় নেই দেখে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোরের আগেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় অভিযুক্ত স্বামী। কিন্তু বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েও সে কী করবে, মনস্থির করতে পারছিল না। কখনও ভাবতে থাকে পুলিসে ধরা দেবে, আবার কখনও সিদ্ধান্ত নেয়, দূরে কোথাও চলে যাবে। খুনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পুলিস তাকে গ্রেপ্তার করে। -নিজস্ব চিত্র