সংবাদদাতা, বনগাঁ: তিনদিনের পুলিস হেফাজত শেষে রবিবার হুমায়ুন কবীরকে আদালতে পেশ করে বনগাঁ থানার পুলিস। এদিন থানার লকআপ থেকে সে পুলিসকে জানায়, মিডিয়া তার ভালো লাগে না। তাই মিডিয়াকে যেন সামনে আনা না হয়। কড়া পুলিসি পাহারায় এদিন তাকে লকআপ থেকে গাড়িতে তোলা হয়। গাড়িতে তোলার সময় সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্ন এড়িয়ে যায় হুমায়ূন। একটিও কথা বলতে শোনা যায়নি তাকে। এদিন বনগাঁ আদালতের বিচারক তাকে ১২ জুন পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। গত বুধবার বাড়িতে বাবা-মাকে খুন করে বনগাঁর এক মাদ্রাসায় হামলা চালিয়ে চারজনকে জখম করে মেমারির কাশিয়ারার বাসিন্দা হুমায়ুন। বনগাঁ থানার পুলিস তাকে গ্রেপ্তার করে। আদালত তিনদিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দেয়। সেই মেয়াদ শেষে রবিবার তাকে ফের আদালতে তোলা হয়। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, হেফাজতে থাকাকালীন জেরায় তার কথায় একাধিক অসঙ্গতি পেয়েছেন তদন্তকারীরা। অভিযোগ, বারবার পুলিসকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে হুমায়ুন। পুলিসের এক কর্তা বলেন, ‘বাবা-মাকে নৃশংসভাবে খুন করেও তার মধ্যে এতটুকু আপশোশ দেখা যায়নি।’ এমনকী পুলিস লকআপে সিসি ক্যামেরা সহ একাধিক জিনিস ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে যাদবপুর থেকে পাশ করা এউ ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধে। তাঁকে জেরা করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়েছে পুলিসকে। কখনও মাথা দিয়ে পুলিস আধিকারিকের মাথায় আঘাত করেছে। কখনও কোর্ট লকআপে ঢোকার সময় পুলিসকর্মীকে ঘুসি মেরেছে। এমনকী পুলিস হেপাজতে তাকে হাসপাতালে শারীরিক পরীক্ষা করাতে নিয়ে গেলে সেখানে এক চিকিৎসককে ঘুষি মারে বলেও অভিযোগ। বাড়িতে বাবা-মাকে খুন। তারপর মাদ্রাসায় ঢুকে চারজনকে খুনের চেষ্টা। এই নৃশংস ঘটনার পরও তার মধ্যে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা লক্ষ্য করা যায়নি। তার আচরণের মধ্যে নানা খামখেয়ালিপনাও রয়েছে বলে জানাচ্ছেন তদন্তকারীরা। কখনও নিজেই চিৎকার করে উঠছে। কখনও চুপ করে বসে থাকছে। হেফাজতে থাকাকালীন তার কাছ থেকে ছুরি, ব্লেড ও একটি ছোট লোহার রড উদ্ধার হয়েছে বলে খবর।



