Bartaman Logo
৫ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

টুলু সিন্ডিকেটের অবৈধ খাদানের জেরে বিপুল অংকের রাজস্ব ক্ষতি, তৃণমূল জমানায় কী ব্যবস্থা গ্রহণ, চলছে খোঁজখবর

বীরভূমে অবৈধ পাথর খাদান নিয়ে পুলিশের জমা দেওয়া রিপোর্ট তৃণমূল জমানায় গুরুত্ব পায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে

টুলু সিন্ডিকেটের অবৈধ খাদানের জেরে বিপুল অংকের রাজস্ব ক্ষতি, তৃণমূল জমানায় কী ব্যবস্থা গ্রহণ, চলছে খোঁজখবর
  • ৫ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: বীরভূমে অবৈধ পাথর খাদান নিয়ে পুলিশের জমা দেওয়া রিপোর্ট তৃণমূল জমানায় গুরুত্ব পায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। সেখানে টুলুর সিন্ডিকেট কীভাবে মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে এবং কীভাবে প্রতিদিন  সরকারের বিপুল রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে, এই সংক্রান্ত বিষয়ের উল্লেখ করা হয়েছিল। তদানীন্তন সরকার এই রিপোর্ট ধামাচাপা দিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। পালাবদলের পর তা নিয়ে এবার নাড়াচাড়া শুরু হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে। একইসঙ্গে তৃণমূল আমলে রাজারহাটের নারায়ণপুর এলাকায় গাড়ি থেকে টুলু মণ্ডলের কয়েক কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত হওয়ার পরেও কেন তদন্ত এগয়নি, তাই নিয়েও এবার খোঁজখবর শুরু হয়েছে।

Advertisement

বীরভূমের অবৈধ খাদান নিয়ে বিভিন্ন মহলে অভিযোগ উঠেছে। লরি লরি পাথর প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গায় পাচার হওয়া সত্ত্বেও স্থানীয় থানা কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। মাসোহারার বিনিময়ে তৃণমূল জমানায় এই অবৈধ কারবার চালিয়ে আসছিলেন টুলু ওরফে নিজামউদ্দিন সহ পূর্বতন শাসক দলের ঘনিষ্ঠ একাধিক  পাথর ব্যবসায়ী। পুলিশের শীর্ষস্তরেও এই নিয়ে বারবার অভিযোগ আসছিল। কিন্তু অভিযোগ এলেওঽ নবান্নের এক প্রশাসনিক কর্তা বিষয়টি নিয়ে বেশি দূর এগতে দিতেন না বলে অভিযোগ। এতকিছুর পরেও রাজ্য পুলিশের তরফে একটি সার্ভে করানো হয়। যার মূল উদ্দেশ্য ছিল, এখানে ঠিক কতগুলি বৈধ ও অবৈধ খাদান চলছে। পুলিশের সার্ভেতে ধরা পড়ে একটি খাদানই বৈধ। সেখানে সরকারি সমস্ত নিয়মকানুন মানা হচ্ছে। বাকি ২৪৬টি পাথর খাদানই অবৈধ। প্রতিদিন সেখান থেকে কয়েকশো লরি পাথর নিয়ে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে যাচ্ছে।  সঙ্গী ভুয়ো ডুপ্লিকেট কার্বন রিসিপ্ট (ডিসিআর)।  রাজস্ব বাবদ সরকারি খাতে কোনও টাকাই জমা পড়ছে না। প্রতিদিন কোটি টাকার ব্যবসা হচ্ছে এক একটি খাদান থেকে। যে কারণে সরকারের বিপুল রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে।  
এমনকি পুলিশের একাংশের মদতে যে এই কারবার চলছে, তাও ঘুরিয়ে ওই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছিল বলে খবর। এই রিপোর্ট নবান্নে এসে পৌঁছলেও, তা আর আলোর মুখ দেখেনি। সরকারের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে জেনেও, কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এবং কার নির্দেশে রিপোর্ট ধামাচাপা পড়েছিল, এবার তার খোঁজখবর শুরু হয়েছে। কারও গাফিলতি পাওয়া গেলে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে রাজ্য প্রশাসন সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ