নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: উত্তরবঙ্গ থেকে লাগাতার গাঁজা পাচার চলছে। ফের সড়কপথে এই গাঁজা পাচার শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার ও বুধবার পরপর দু’দিন এক কুইন্টালের বেশি গাঁজা উদ্ধার করল বহরমপুর ও সাগরদিঘি থানার পুলিস। বুধবার ভোরে ১২নম্বর জাতীয় সড়কে বহরমপুরের বলরামপুর বাইপাসে নাকা তল্লাশি চালায় পুলিস। সেসময় একটি গাড়ি থেকে ৯১ কিলোগ্রাম গাঁজা উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় পাচারকারী এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতের নাম নারায়ণ মণ্ডল। তার বাড়ি বহরমপুরের হাতিনগরে।
জানা গিয়েছে, নাকা তল্লাশি চলছে দেখে একটি ছোট ট্রাক থেকে ড্রাইভার ও খালাসী দু’দিকের দরজা খুলে পালায়। মাঝখানে বসেছিল নারায়ণ। সে পালানোর চেষ্টা করলেও পুলিস তাকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতকে বুধবার বহরমপুর জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিসি জেরায় ওই বৃদ্ধ জানিয়েছে, সে মূলত অল্প পরিমাণে গাঁজা নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে। এদিন পাচারের উদ্দেশ্যে আনা ওই ট্রাকের গাঁজার সঙ্গে তার কোনও যোগ নেই। গাড়ি চালক ও খালাসী তাকে নিজেদের সঙ্গে যেতে বলে। কলকাতার দিকে গাঁজা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে ধৃত জানিয়েছে। বহরমপুর থানার এক পুলিস আধিকারিক বলেন, গোপন সূত্রে গাঁজা পাচারের খবর পেয়ে আমরা নাকা তল্লাশি শুরু করি। বলরামপুর বাইপাসে আসতেই আমরা গাড়িটিকে আটকাই। চালক ও খালাসী পালিয়ে গেলেও গাড়ির ভিতর থেকে একজনকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি। গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৯১ কিলোগ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
এদিকে, মঙ্গলবার সাগরদিঘিতে প্রায় ১৪ কিলোগ্রাম গাঁজা উদ্ধার করে পুলিস। উত্তরবঙ্গ থেকে ওই গাঁজা আনা হচ্ছিল বলে জানা গিয়েছে। পুলিস এই ঘটনায় এক পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতের নাম সেন্টু মহলদার। তার বাড়ি সাগরদিঘি থানার পোপড়া গ্রামে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, কোচবিহার থেকে দক্ষিণবঙ্গগামী বাসে করে এই গাঁজার বস্তা আনা হচ্ছিল। এদিন সেন্টু সাগরদিঘির মোড়গ্রামে নেমে নলহাটি যাওয়ার জন্য গাড়ির খোঁজ করছিল। সেই সময় পুলিস তাকে পাকড়াও করে। ধৃতকে গ্রেপ্তার করে জেরা শুরু করেছে পুলিস।