নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামে হাতির হানায় মৃত্যু ঘটছেই। শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার সময় বাঁদরভুলা রেঞ্জে হদহদি গ্ৰামে হাতির পালের আক্রমণে এক ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মৃতের নাম ধনঞ্জয় মাহাত (৪৮)। হাতির পালের আক্রমণে সুষনিগেড়িয়ার বাসিন্দা ভরত মল্লিক গুরুতর জখম হয়ে ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ঘটনাকে ঘিরে বনবিভাগের ভূমিকা নিয়ে গ্ৰামবাসীরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
Advertisement
ঝাড়গ্রামে হাতির পাল জঙ্গল থেকে লোকালয়ে নিয়মিত ঢুকে পড়ছে। বাড়িঘর ভাঙচুর করছে। ফসল নষ্ট হচ্ছে। প্রাণহানির ঘটনাও বাদ যাচ্ছে না। অভিযোগ উঠেছে, হাতির পালের গতিবিধি বনবিভাগ ঠিকমতো জানতে পারছে না। গ্ৰামবাসীদের সতর্ক করার ক্ষেত্রে গাফিলতি থেকে যাচ্ছে। তার জেরে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঘটনা ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। গত শনিবার রাত সাড়ে আটটার সময় ওই ব্যক্তি নিজের মুদিখানার দোকান বন্ধ করে বাইকে বাড়ি ফিরছিলেন। আসার পথে ১৪ থেকে ১৫টি হাতির সামনে পড়ে যান। বাইক থেকে নেমে তিনি পালানোর চেষ্টাও করছিলেন। হাতির দলটি তাঁকে তাড়া করে এসে আক্রমণ করে। দলবদ্ধ হাতির হানায় ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। হাতির দলের চিৎকার শুনে গ্ৰামবাসীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। দলটি এরপর নিকটবর্তী সুষনিগেড়িয়া এলাকার দিকে চলে যায়। সেখানে দলটির সামনে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি পড়ে যান। এলাকার বছর চল্লিশের ভরত মল্লিক পালাতে গিয়ে রাস্তায় পড়ে যান। হাতির দলটি ছুটে এসে তাঁকেও আক্রমণ করে। একটি হাতি শুঁড়ে করে পাশের জমিতে ছুড়ে ফেলে দেওয়ায় তিনি বেঁচে যান। স্থানীয় গ্ৰামবাসীরা জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রাতেই ভর্তি করেন। বাঁদরভুলা বিট ও ঝাড়গ্রাম রেঞ্জের অফিসাররা খবর পেয়ে এলাকায় ছুটে যান।
ঘটনায় বনবিভাগের গাফিলতি নিয়ে গ্ৰামের মানুষ প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন। হদহদি গ্ৰামের বাসিন্দা রাজীব মাহাত বলেন, দলবদ্ধ হাতির দলবদ্ধ আক্রমণে গ্ৰামের এক বাসিন্দার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গ্রামে হাতির দলের পৌঁছে যাওয়ার খবর বনবিভাগ আমাদের জানায়নি। বনবিভাগের কোনও কর্মী বা হুলা টিম ওই সময় এলাকায় উপস্থিত ছিলেন না। এলাকায় চব্বিশ ঘণ্টা হাতির পালের ওপর তারা নজরদারি রাখে বলে দাবি করা হয়। বারবার এই ধরনের ঘটনা প্রমাণ করছে যে, সেই দাবির কোনও সারবত্তা নেই। অপর এক বাসিন্দা শ্যামাপদ মাহাত বলেন, সঞ্জয়বাবু প্রতিদিনের মতো গতকালও দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন। হাতির পালের আসার খবর কারও কাছে ছিল না। রাতে টর্চ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। বাইক থেকে কিছুটা দূরে দেহটা পড়ছিল। আমরা চাইছি সরকারের তরফে একজনকে চাকরি ও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক। হাতির নজরদারিতে বনবিভাগ ঠিকঠাক পদক্ষেপ নিক সেটাই চাইছি। ধনঞ্জয় মাহাতর স্ত্রী সঞ্চিতা মাহাত বলেন, দোকান থেকে বাড়ি ফেরার সময় ঘটনাটি ঘটে। সংসারে উনিই একমাত্র উপার্জনক্ষম ছিলেন। সংসার কীভাবে চালাব জানি না। ঝাড়গ্রাম রেঞ্জের এক আধিকারিক বলেন, জঙ্গল লাগোয়া এলাকার আশপাশে বনবিভাগের কর্মীরা ছিলেন। তারপরেও এই ঘটনা অবশ্যই দুঃখজনক। ঝাড়গ্রামের ডিএফও উমর ইমাম বলেন, হাতির হানায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। আরও একজন জখম হয়েছেন। এই ধরনের ঘটনা রুখতে যথাসাধ্য চেষ্টা করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী সরকারি সুযোগ সুবিধা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা পাবেন।
ঘটনায় বনবিভাগের গাফিলতি নিয়ে গ্ৰামের মানুষ প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন। হদহদি গ্ৰামের বাসিন্দা রাজীব মাহাত বলেন, দলবদ্ধ হাতির দলবদ্ধ আক্রমণে গ্ৰামের এক বাসিন্দার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গ্রামে হাতির দলের পৌঁছে যাওয়ার খবর বনবিভাগ আমাদের জানায়নি। বনবিভাগের কোনও কর্মী বা হুলা টিম ওই সময় এলাকায় উপস্থিত ছিলেন না। এলাকায় চব্বিশ ঘণ্টা হাতির পালের ওপর তারা নজরদারি রাখে বলে দাবি করা হয়। বারবার এই ধরনের ঘটনা প্রমাণ করছে যে, সেই দাবির কোনও সারবত্তা নেই। অপর এক বাসিন্দা শ্যামাপদ মাহাত বলেন, সঞ্জয়বাবু প্রতিদিনের মতো গতকালও দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন। হাতির পালের আসার খবর কারও কাছে ছিল না। রাতে টর্চ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। বাইক থেকে কিছুটা দূরে দেহটা পড়ছিল। আমরা চাইছি সরকারের তরফে একজনকে চাকরি ও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক। হাতির নজরদারিতে বনবিভাগ ঠিকঠাক পদক্ষেপ নিক সেটাই চাইছি। ধনঞ্জয় মাহাতর স্ত্রী সঞ্চিতা মাহাত বলেন, দোকান থেকে বাড়ি ফেরার সময় ঘটনাটি ঘটে। সংসারে উনিই একমাত্র উপার্জনক্ষম ছিলেন। সংসার কীভাবে চালাব জানি না। ঝাড়গ্রাম রেঞ্জের এক আধিকারিক বলেন, জঙ্গল লাগোয়া এলাকার আশপাশে বনবিভাগের কর্মীরা ছিলেন। তারপরেও এই ঘটনা অবশ্যই দুঃখজনক। ঝাড়গ্রামের ডিএফও উমর ইমাম বলেন, হাতির হানায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। আরও একজন জখম হয়েছেন। এই ধরনের ঘটনা রুখতে যথাসাধ্য চেষ্টা করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী সরকারি সুযোগ সুবিধা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা পাবেন।



