নয়াদিল্লি: মোদি জমানায় বাড়ছে ঋণমকুবের বহর। ২০১৯ সালের মার্চ পর্যন্ত মোট দেশের বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলির অনাদায়ী ঋণের মোট পরিমাণ ছিল ৯ লক্ষ ৩৩ হাজার কোটি টাকা। আর ফেরত পাওয়া যাবে না ধরে নিয়ে ইতিমধ্যেই ওই বিপুল পরিমাণ অর্থ নন-পারফর্মিং অ্যাসেটস (এনপিএ) বা অনুৎপাদী সম্পদ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, এরমধ্যে প্রায় অর্ধেকই কর্পোরেট ঋণ। আরও ভালো করলে বললে, শুধু মাত্র ১০০ ঋণখেলাপির থেকে ব্যাঙ্কগুলির প্রাপ্য ছিল ৪ লক্ষ ২ হাজার কোটি টাকার বেশি । বিস্তারিতভাবে দেখলে, মাত্র ৩০ ঋণখেলাপি সংস্থার কাছ থেকে ব্যাঙ্কগুলির ২ লক্ষ ৮৬ হাজার কোটি টাকা পাওনা ছিল। যা মোট এনপিএ-র ৩০ শতাংশের বেশি। একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এই তথ্য তুলে ধরে মোদী সরকারের ‘কর্পোরেট প্রেম’ নিয়ে তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ রণদীপ সুরজেওয়ালা। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছেন, ‘সরকার পুঁজিপতিদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে। আর এনপিএ-র চাপে ব্যাঙ্কগুলি ধুঁকছে।’
Advertisement
সুরজেওয়ালার আরও অভিযোগ, মোদি সরকারের ইশারাতেই ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তার বদলে ওই ঋণখেলাপিদের বোঝাপড়া করে দেওয়ার ছাড়পত্র দিয়েছিল বিজার্ভ ব্যাঙ্ক। এরফলে লুটের পথ আরও মসৃণ হয়ে যায়। কংগ্রেস সাংসদ আরও বলেছেন, দেশের কৃষক ও সাধারণ মানুষ ঋণের জালে পড়ে হাঁসফাঁস করছেন। আৗ মোদিজীর ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী বন্ধুরা ছাড় পেয়ে যাচ্ছেন। বেকারত্বে ও মুদ্রাস্ফীতিতে রেকর্ড গড়ে এবং বিদ্বেষের বিষ ছড়িয়ে ধনী ও দরিদ্রদের বৈষম্য বাড়িয়ে চলেছে বিজেপি। সেইসঙ্গে সবাইকে সমানাধিকারের ক্ষমতা প্রদানকারী সংবিধানকে বুলডোজ করা হচ্ছে। তথ্যের অধিকারে আওতায় দেশের শীর্ষ ১০০ ঋণখেলাপির নাম জানতে চেয়ে
আবেদন করা হয়েছিল। দীর্ঘ টালবাহানার পরে ২০২৩ সালে আংশিক তথ্য প্রকাশ করে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। তার থেকেই ঋণখেলাপ সংক্রান্ত তথ্য জানা গিয়েছে বলে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
আবেদন করা হয়েছিল। দীর্ঘ টালবাহানার পরে ২০২৩ সালে আংশিক তথ্য প্রকাশ করে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। তার থেকেই ঋণখেলাপ সংক্রান্ত তথ্য জানা গিয়েছে বলে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।



