Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

হিসেব নেই! প্রবীণ যাত্রী থেকে আয় জানাতেই নারাজ রেল

হিসেব নেই! প্রবীণ যাত্রী থেকে আয় জানাতেই নারাজ রেল
  • ১৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: সঠিক হিসেবই নেই! নাকি তথ্য গোপনের মরিয়া চেষ্টা? প্রবীণ যাত্রী সংক্রান্ত এক আরটিআইয়ের জবাবে রেলের ‘স্পিকটি নট’ অবস্থান ঘিরে এই ‘তত্ত্ব’ই জোরালো হয়ে উঠল। 
Advertisement
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত কত প্রবীণ সফর করেছেন? রেলমন্ত্রকের কাছে এবিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়ে ১৩ নভেম্বর আরটিআই করেছিলেন মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা চন্দ্রশেখর গৌড়। কিন্তু জবাবে অদ্ভুত যুক্তি খাড়া করেছে রেল। জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই সংক্রান্ত তথ্য নাকি তারা সংগ্রহই করে না! খুব স্বাভাবিকভাবে প্রবীণ রেলযাত্রীদের টিকিট বিক্রি করে উল্লিখিত সময়সীমায় মোট কত টাকা আয় হয়েছে, সেই পরিসংখ্যান নিয়েও মুখে কুলুপ রেলের। 
আর এহেন জবাবে চোখ কপালে উঠেছে ওয়াকিবহাল মহলের। কারণ, ২০২০-২১ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষ পর্যন্ত একাধিক দফায় এই সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করেছে রেল বোর্ডই। এবং তা করা হয়েছে বিভিন্ন আরটিআইয়ের জবাবে। সেইসব তথ্যে স্পষ্ট হয়েছিল, কনসেশন বন্ধ হওয়ার পর হু হু কমে কমছে প্রবীণ যাত্রীদের রেল-সফর। সাম্প্রতিকতম আরটিআইয়ের জবাবে রেল জানিয়েছিল, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিক অর্থাৎ ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে জুন—এই খাতে রেলের আয় ছিল প্রায় ১ হাজার ৪০৭ কোটি ৮৯ লক্ষ টাকা। দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর, ২০২৩) তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৯১ কোটি ৩২ লক্ষ টাকা। প্রবীণ রেলযাত্রীর সংখ্যা কমেছে প্রায় ন’লক্ষ। আর স্বাভাবিক নিয়মে হ্রাস পাচ্ছে এই খাতে রেলের আয়ও। অর্থাৎ প্রবীণদের ‘বঞ্চিত’ করে বেকায়দায় রেলের তহবিল। ফল? প্রবীণ রেলযাত্রীদের টিকিটে ছাড় ফেরানোর ব্যাপারে চাপ প্রবল হচ্ছে সরকারের অন্দরেই। তাই কি মরিয়া হয়ে এই সংক্রান্ত তথ্য লুকোতে ব্যস্ত রেল? তাই কি এই ‘মিথ্যাচার’? আপাতত এই প্রশ্নেই তুঙ্গে জল্পনা। 
অবশ্য রেল সূত্রের দাবি, কোনও তথ্য গোপন করা হচ্ছে না। একটি দপ্তরের কাছে সব তথ্য থাকে না সবসময়। অন্য ডিপার্টমেন্ট থেকে তা সংগ্রহ করে জানানো হয়। তাই বিষয়টি সময়সাপেক্ষ।
সম্পর্কিত সংবাদ