নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: সন্তান প্রসবের কয়েকঘণ্টা পরই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিলেন এক পরীক্ষার্থী। মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বেডে বসেই শুক্রবার শিক্ষাবিজ্ঞানের পরীক্ষা দেন জিয়াগঞ্জের সদ্য মা হওয়া ওই পরীক্ষার্থী। পরীক্ষা শুরুর আধঘণ্টা পর একবার জ্ঞানও হারান ওই পরীক্ষার্থী। চিকিৎসা করে কিছুটা সুস্থ করে তোলেন চিকিৎসকরা। শরীর দুর্বল থাকায় পরীক্ষার্থীকে বারবার বিশ্রাম নেওয়ার কথা বললেও তিনি হার মানেননি। প্রায় ২ ঘণ্টা লিখে অধিকাংশ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। তারপর ফের পেটে যন্ত্রণা শুরু হওয়ায় খাতা জমা দিয়ে দেন ওই ছাত্রী।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার ভোর রাতে ওই পরীক্ষার্থীর প্রসব যন্ত্রণা ওঠে। জিয়াগঞ্জ থেকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হচ্ছিল। পথেই গাড়ির মধ্যে তিনি সন্তান প্রসব করেন। হাসপাতালে ভর্তি করার পর সন্তান ও মা দু’জনেরই চিকিৎসা করা হয়। সকাল ৮টা নাগাদ ওই প্রসূতি পরীক্ষা দেওয়ার আবেদন করেন।
জিয়াগঞ্জ আরডিএ গার্লস হাইস্কুলের ওই পড়ুয়ার পরীক্ষাকেন্দ্রে ছিল জিয়াগঞ্জ রাজা বিজয় সিংহ বিদ্যামন্দির। ওই বিদ্যালয়ের তরফ থেকে হাসপাতালের সুপারের কাছে আবেদন করা হয়। পর্ষদের নিয়ম অনুযায়ী উচ্চ মাধ্যমিকের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাডভাইসারি কমিটির সাহায্যে সুষ্ঠভাবে পরীক্ষা নেওয়া হয় মাতৃমা বিভাগে।
হাসপাতালের সুপার অনাদি রায়চৌধুরী বলেন, এদিন ভোরে ওই ছাত্রীকে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা তাঁর উপর নজর রেখেছিলেন। সকালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে আমরা সমস্ত ব্যবস্থা করে দিই। পরীক্ষা শুরুর পর অচৈতন্য হয়ে যায়। তারপর ফের ওঁর চিকিৎসা করে সুস্থ করা হয়। আমরা ওঁকে বিশ্রাম নিতে বললেও ওঁর অদম্য ইচ্ছা শক্তির জোরে ফের পরীক্ষা দিয়েছে। নিজস্ব চিত্র