Bartaman Logo
১২ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হার্মাদদের গুলিতে নিহত আদিবাসী শহিদদের স্মৃতি তর্পণের প্রস্তুতি খাসজঙ্গলে  

হার্মাদদের গুলিতে নিহত আদিবাসী শহিদদের স্মৃতি তর্পণের প্রস্তুতি খাসজঙ্গলে
 
  • ২৯ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম: পুলিসকে আটকাতে গ্রামের সিধো-কানহো চকে জমায়েত করেছিল আদিবাসীরা। সেই জমায়েতের উপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছিল সিপিএমের হার্মাদ বাহিনী। প্রাণ গিয়েছিল তিন আদিবাসীর। তার একদিন পর ট্রাক্টরের ডালায় চেপে ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রতিবাদ সভা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই শহিদ আদিবাসী পরিবারগুলি সরকারি চাকরি পেয়েছেন। এলাকায় শান্তি ফিরেছে। ১৬ বছর আগের হাড় হিম করা সেই ঘটনা এখনও মনে রেখেছে লালগড়বাসী। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি ‘খাসজঙ্গল শহিদ স্মৃতি রক্ষা কমিটি’-র উদ্যোগে শহিদ তর্পণ করা হবে।
Advertisement
২০০৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি এই গুলি চালনার ঘটনা ঘটে লালগড়ের রামগড় গ্রাম পঞ্চায়েতের খাসজঙ্গল গ্রামের চকে। সে সময়ে ১ ফেব্রুয়ারি মুড়ার গ্রামের সিপিএম নেতা নন্দ পালকে খুন করে মাওবাদীরা। মেদিনীপুর হাসপাতালের মর্গ থেকে একটি গাড়ি করে নন্দর মৃতদেহ গ্রামে আনা হচ্ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, হার্মাদরা মুখে গামছা বেঁধে জমায়েতের সামনে শূন্যে গুলি চালাতে শুরু করে। পরে জমায়েত লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়া হয়। গুলিতে  গোপালনগর গ্রামের রাজারাম মান্ডি ও তার ছেলে লখিন্দর ও লালডাঙা গ্রামের গোপীনাথ সোরেনের মৃত্যু হয়। 
খবর পেয়ে ছুটে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। খাসজঙ্গল গ্রামে গিয়ে সভা করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জনসাধারণের কমিটির নেতা ছাত্রধর মাহাত। রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূলের উদ্যোগে দলীয় পতাকা ছাড়া সেখানে শহিদ তর্পণ করা হয়। ২০১৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সেখানে শহিদ তর্পণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঝাড়গ্রামের তৎকালীন সাংসদ উমা সোরেন, প্রতিমন্ত্রী সন্ধ্যারানি টুডু, তৃণমূল ব্লক নেতৃত্ব শ্যামল মাহাত সহ অনেকেই। এবারে ছত্রধর মাহাতর উপস্থিতিতে খাসজঙ্গল শহিদ স্মৃতি রক্ষা কমিটির উদ্যোগে সেখানে বড় আকারে শহিদ তর্পণ হবে। 
শহিদ রাজারাম মান্ডির মেয়ে টুসুমণি বলেন, ঘটনার সময় বাইরে কাজে গিয়েছিলাম। গুলির আওয়াজে  সবাই ছোটাছুটি করছে। বলছে হার্মাদরা গুলি চালিয়েছে। মা অসুস্থ হয়ে বাড়িতেই ছিলেন। শুনলাম বাবার পেটে ও ভাইয়ের বুকে গুলি লেগেছে। তারা দুজনেই  মারা যায়। সে সময়ে আমার ভাইয়ের বউ দু’ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। গত ৬ বছর হল আমরা সরকারি চাকরি পেয়েছি। পুরানো ঘর, থাকতে অসুবিধা হয়। আমাদের ঘর তৈরি করে দিলে খুবই ভালো হতো। বাবা ও ভাইয়ের স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করলেও ভালো হয়।
ছত্রধর মাহাত বলেন, আন্দোলনে যাঁরা শহিদ হয়েছেন, তাঁদের সবাইকে এখনও আমরা সম্মান জানাতে পারিনি। আস্তে আস্তে সবাইকে সম্মান জানানো হবে। এই শহিদ তর্পণ অরাজনৈতিকভাবেই হচ্ছে। ওখানকার স্থানীয় ছেলেদের নিয়ে গঠিত হয়েছে শহিদ স্মৃতি রক্ষা কমিটি। তাঁদের উদ্যোগেই  শহিদ তর্পণ হবে। সে সময়ে বামবিরোধী, তৃণমূল সমর্থিত জনসাধারণের কমিটির যাঁরা শহিদ হয়েছিলেন— পলাশী গ্রামের শহিদ ইন্দ্রজিৎ সহিস, জনসাধারণের কমিটির সভাপতি লালমোহন টুডুর পরিবারের লোকজন এই অনুষ্ঠান উপস্থিত থাকবেন।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ