নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ঘাটজুড়ে আবর্জনার স্তূপ, দেবদেবীর ভাঙা মূর্তি ছড়িয়ে ছিটিয়ে। বাড়ছে দূষণ। দৃশ্যদূষণও হচ্ছে। সর্বত্র পড়ে রয়েছে মানুষের বর্জ্য। দুর্গন্ধে হারিয়ে যায় গঙ্গার নির্মল বাতাস। হাওড়া শহরের গঙ্গার ঘাটগুলির এই বেহাল ছবি দীর্ঘদিনের। তবে এবার তা বদলাতে চলেছে। রাজ্য সরকার ও পোর্ট ট্রাস্ট পরিকল্পনা করেছে, ঘাট সংস্কার করা হবে। পাশাপাশি কলকাতার স্ট্র্যান্ড রোডের আদলে নতুন রূপ দেওয়া হবে গ্র্যান্ড ফোরশোর রোডের। প্রকল্পের প্রথম ধাপেই রামকৃষ্ণপুর ঘাটের কাছে গড়ে উঠবে দুর্গার ৬০ ফুট উচ্চতার ধাতব মূর্তি ‘দুর্গা শক্তি’। খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রামকৃষ্ণপুর ঘাট এলাকা পরিদর্শনে যান পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পোর্ট ট্রাস্ট ও ন্যাশনাল বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশন লিমিটেডের (এনবিসিসি) আধিকারিকরা। জানা গিয়েছে, হাওড়া ব্রিজ থেকে বিদ্যাসাগর সেতু পর্যন্ত গঙ্গার ঘাটগুলিকে আধুনিক ধাঁচে সাজিয়ে তোলা হবে। সে কাজ হবে একাধিক পর্যায়ে। প্রথম পর্যায়ে গঙ্গার উপরে তৈরি হবে ৬০ ফুট উঁচু ‘দুর্গা শক্তি’। দু’পাশে থাকবে প্রায় ২০ ফুট উচ্চতার দু’টি ধাতব ধুনুচি। নির্মাণ সংস্থার দাবি, জোয়ার-ভাটা ও বর্ষাকালে প্রবল স্রোতের কারণে গঙ্গার উপর কাঠামো তৈরি চ্যালেঞ্জিং। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে হবে সেই কাজ।
দুর্গাপুজোর আগেই এই কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘হাওড়া শহর এতদিন আবর্জনার ও মোটবাহকদের শহর হিসেবে পরিচিত ছিল। গঙ্গার ওপারে কলকাতার স্ট্র্যান্ড রোডের ঝাঁ চকচকে চেহারা দেখতাম। এবার হাওড়ার গঙ্গার পাড়ও একইভাবে সেজে উঠবে। হাওড়াকে ঝাঁ-চকচকে করে তোলার যে শপথ নিয়েছি তা পূরণ করবই।’ পোর্ট ট্রাস্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, গঙ্গার ধার ঘেঁষে তৈরি হবে অত্যাধুনিক হোটেল, রেস্তরাঁ, শপিং মল, পার্ক ও হাসপাতাল। ভবিষ্যতে লন্ডন আইয়ের ধাঁচে বিশালাকার ক্যান্টিলিভার অবজারভেশন হুইল তৈরির পরিকল্পনাও আছে। পাশাপাশি পোর্ট ট্রাস্টের জমি দখল করে গড়ে ওঠা বেআইনি দোকান উচ্ছেদ করা হবে। গ্র্যান্ড ফোরশোর রোড লাগোয়া পোর্ট ট্রাস্টের পরিত্যক্ত গুদাম ভাঙার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।