নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: পুজোয় এবার ভিলেন হতে পারে বৃষ্টি। আর বৃষ্টি মানেই হাওড়া শহরে জলযন্ত্রণা। ‘বৃষ্টি অসুর’ দমনে তাই এবার আগেভাগেই তৎপরতা নিচ্ছে হাওড়া পুরসভা। পুজোর সময় ভারী বৃষ্টি হলে কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা হবে, তা নিয়ে সমস্ত দপ্তরের সঙ্গে বৈঠক করলেন পুরসভার মুখ্য প্রশাসক। রাস্তা, নিকাশি, সাফাই, বিদ্যুৎ সহ সব ক্ষেত্রেই নেওয়া হচ্ছে বাড়তি উদ্যোগ। পুজোর সময় প্রতিদিন প্রতিটি দপ্তরের কাজে নজরদারি করবেন একজন করে বিশেষ নোডাল অফিসার।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, পুজোর সময় ভারী বৃষ্টি হলে যাতে দীর্ঘক্ষণ জল জমার মতো পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেজন্য প্রতিটি পাম্প হাউসে ২৪ ঘণ্টা লোক থাকবে। পাশাপাশি প্রতিটি মোবাইল পাম্প যাতে সচল থাকে, সেজন্য এজেন্সিগুলিকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডাবল ব্যারেল চ্যানেল সহ শহরের নিকাশিনালা সাফাইয়ের কাজ আগেভাগে হয়ে যাওয়ায় খানিকটা হলেও স্বস্তিতে রয়েছে পুরসভা। জমা জল দূর করতে পুরসভার তিনটি নিজস্ব জেট কাম সাকশন মেশিন কাজে লাগানো হবে। শহরের প্রতিটি বাতিস্তম্ভের অবস্থা পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগকে। কোনওভাবে যাতে বিদ্যুৎবাহী তার বেরিয়ে না থাকে, সেজন্য সুইচ বক্সগুলি ঢেকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্য প্রশাসক। বিষয়টি নিয়ে সিইএসসির সঙ্গেও আলোচনা করেছে পুরসভা।
পুজোর সময় আবর্জনায় ভরে ওঠে ভ্যাটগুলি। সেগুলি ঠিকমতো সাফ হয় না বলে অভিযোগ ওঠে। হাওড়া পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী বলেন, ‘পুজোর সময় আবর্জনার সমস্যা যাতে মাথাব্যথার কারণ না হয়, সেজন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শহরের ছোট-বড় সব ভ্যাট দু’বেলা পরিষ্কার করা হবে। পাবলিক টয়লেটের সংখ্যাও বাড়ানো হচ্ছে।’ পুজো মণ্ডপগুলির সামনে কোনও ভ্যাট থাকলে, সেগুলি দ্রুত পরিষ্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শহরজুড়ে প্রায় শতাধিক পাবলিক টয়লেটের অধিকাংশই অপরিচ্ছন্ন। অনেক জায়গায় জল থাকে না। বহু টয়লেটে তালা ঝুলছে। প্রতিটি পাবলিক টয়লেট সচল রাখা হবে বলে জানিয়েছে পুরসভা। জানা গিয়েছে, পুজোর সময় যেহেতু পুরসভায় কর্মীর সংখ্যা কম থাকে, তাই পুজোর চারদিন একজন করে ইঞ্জিনিয়ার পদমর্যাদার অফিসার প্রতিটি দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে তদারকির কাজ করবেন। নোডাল পার্সন হিসেবে চারজন অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারকে এই দায়িত্ব দেবে পুরসভা। অন্যদিকে, বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিতে শহরে বেহাল রাস্তা মেরামতি নিয়ে ফাঁপরে পড়েছে পুর কর্তৃপক্ষ। জরুরি ভিত্তিতে রাস্তায় প্যাচওয়ার্কের জন্য সাতটি বরোকে মোট ৬০ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে। -ফাইল চিত্র