


সংবাদদাতা, ঝালদা: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে এবার স্বাস্থ্য পরিষেবায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। দীর্ঘদিনের ‘স্বাস্থ্য সাথী’ প্রকল্পের পাশাপাশি বা তার পরিবর্তে ধাপে ধাপে চালু হতে পারে কেন্দ্রের ‘আয়ুষ্মান ভারত’। যা নিয়ে পুরুলিয়া জেলা সহ ঝালদা মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। কবে মিলবে নতুন কার্ড, কীভাবে আবেদন করতে হবে এবং কোথায় পাওয়া যাবে চিকিৎসা পরিষেবা-তা নিয়ে এখন কৌতূহল তুঙ্গে।
কেন্দ্রীয় সরকারের আয়ুষ্মান ভারতে একটি পরিবার বছরে সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা পেতে পারে। সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই জেলার ব্লকস্তরে বিশেষ শিবিরের মাধ্যমে উপভোক্তাদের নাম যাচাই ও কার্ড তৈরির কাজ শুরু হতে পারে। প্রাথমিকভাবে আধার কার্ড ও রেশন কার্ড বাধ্যতামূলক হতে পারে বলেও জানা যাচ্ছে। পরিবারভিত্তিক তথ্য যাচাইয়ের পর সিএসসি কেন্দ্র, ব্লক অফিস অথবা বিশেষ স্বাস্থ্য শিবিরে আবেদন করা যেতে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। মোবাইল নম্বর যুক্ত থাকলে ওটিপি যাচাইয়ের মাধ্যমে ডিজিটাল কার্ড ডাউনলোডের ব্যবস্থাও থাকতে পারে।
ঝালদা, বাঘমুণ্ডি, জয়পুর সহ আশপাশের গ্রামীণ এলাকার বহু মানুষ এখন এই প্রকল্পের অপেক্ষায় রয়েছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলির কাছে এই স্বাস্থ্য পরিষেবা বড় স্বস্তি এনে দিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। পুরুলিয়া জেলার হাসপাতালগুলি ছাড়াও নির্দিষ্ট তালিকাভুক্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে এই পরিষেবা চালুর সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও এর মাধ্যমে রাজ্য ছাড়িয়ে ভিনরাজ্যের হাসপাতালেও পরিষেবা পাবে মানুষ। গুরুতর অসুখ, অপারেশন সহ একাধিক পরিষেবা এই প্রকল্পের আওতায় আসতে পারে বলে সূত্রের দাবি।
পুরুলিয়ার বাসিন্দা প্রদীপ কুণ্ডু বলেন, আয়ুষ্মান ভারত চালু হলে সাধারণ মানুষের সুবিধা হবে। তবে সারা দেশে যাতে একইভাবে কার্যকর হয় সেটাই চাই। কারণ শোনা যাচ্ছে বিভিন্ন নন বিজেপি রাজ্যে এই পরিষেবা পাওয়া যাচ্ছে না।
নারায়ণ চন্দ্র হাজরা বলেন, স্বাস্থ্যসাথীর থেকেও বেশি সুবিধা পাওয়া যেতে পারে, কারণ দেশের বিভিন্ন জায়গায় এই কার্ড ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
বাঘমুণ্ডির বিজেপির জেলা পরিষদের সদস্য রাকেশ মাহাতর দাবি, খুব তাড়াতাড়িই পশ্চিমবঙ্গে এই প্রকল্প চালু হবে। জুন মাসের শুরু থেকেই প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
তবে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অশোককুমার বিশ্বাস বলেন, ‘এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে প্রশাসনিকভাবে কোনো সরকারি চিঠি আসেনি।’ ফলে স্বাস্থ্য সাথী সম্পূর্ণ বন্ধ হবে নাকি কিছুদিন দুই প্রকল্প একসঙ্গে চলবে, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে নতুন স্বাস্থ্য প্রকল্প ঘিরে জেলার সাধারণ মানুষের আগ্রহ ও আলোচনা ক্রমশ বাড়ছেই।