নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ‘কোম্পানির (একটি বেসরকারি ব্যাঙ্ক) অ্যাকাউন্টে মোট কত ফান্ড রয়েছে? ছবি তুলে আমাকে পাঠান।’ হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠিয়ে হিসেব চেয়েছেন ব্যাঙ্কের ‘ম্যানেজিং ডিরেক্টর’ (এমডি) স্বয়ং! কার কাছে এসেছে এই মেসেজ? যিনি সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের ফিনান্স ও অ্যাকাউন্টের দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁর কাছে! যে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে মেসেজটি এসেছে, তার প্রোফাইল পিকচারে ছিল এমডি’র ছবি। কিন্তু মেসেজ পাওয়া ব্যক্তি ভালো করেই জানেন, নিরাপত্তার স্বার্থে ব্যাঙ্ক কোনওভাবেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এভাবে কারও সঙ্গে ‘শেয়ার’ করে না। স্বাভাবিকভাবে তিনিও ওই পথে হাঁটেননি। স্পষ্ট বুঝতে পারেন, যিনি হিসেব চাইছেন, তিনি এমডি নন। সবটাই প্রতারকদের কারসাজি। তৎক্ষণাৎ তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের তরফে সল্টলেক সেক্টর ফাইভে ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিসের অনুমান, প্রতারকরা বড় ধরনের ফাঁদ পেতেছিল। এই তথ্য তারা জানতে পারলে বড়সড় জালিয়াতি করতে পারত।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিসের অনুমান, পূর্ব পরিকল্পনা করেই প্রতারক এই হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজটি করেছিল। কারণ, প্রতারক প্রথমে ওই বেসরকারি ব্যাঙ্কের এমডি’র প্রোফাইল পিকচার হোয়াটসঅ্যাপ ডিপিতে লাগিয়েছে। তারপর গত ১৬ জুন সন্ধ্যায় প্রথমে ব্যাঙ্কের ফিনান্স ও অ্যাকাউন্টের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিককে হোয়াটসঅ্যাপ করে জানায়, তিনি ম্যানেজিং ডিরেক্টর বলছেন। তাঁর পুরনো মোবাইল নম্বরটি আর নেই। এটি তাঁর নতুন নম্বর। পরদিন অর্থাৎ ১৭ জুন সকালে ফের হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ করে কোম্পানির অ্যাকাউন্টে মোট কত টাকা রয়েছে, সেই হিসেব চেয়ে পাঠায়। কিন্তু ওই আধিকারিক কোনও তথ্য শেয়ার করেননি। তারপর বেসরকারি ব্যাঙ্কের এক রিজিওনাল ম্যানেজার গত ১৮ জুন ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিস।
পুলিস ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের দাবি, আগেও দেখা গিয়েছে, প্রতারকরা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীদের নামে একাধিক ভুয়ো ফেসবুক প্রোফাইল বানিয়েছে। তারপর বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে মেসেঞ্জারে তাঁর পরিচিত, সহকর্মী ও আত্মীয়দের কাছ থেকে টাকা আদায়েক ধান্দা করছে। সম্প্রতি, হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজেও একই ঘটনা ঘটছে। প্রতারকরা বড় কোনও পদাধিকারী পরিচয় দিয়ে ইন্টারনেট থেকে তাঁর ছবি নিয়ে প্রোফাইল পিকচার করছে। তারপর একই কায়দায় নানা অজুহাত দিয়ে টাকা দাবি করছে তারা। তাই সন্দেহজনক কেউ যদি ফেসবুক মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপে কোনও তথ্য বা টাকা চায়, সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানানো যাবে না। যাচাই করে তবেই পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় পড়তে হবে প্রতারকদের খপ্পরে।