Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

ওবিসি নিয়ে স্থগিতাদেশ সত্ত্বেও হাইকোর্ট নির্দেশ দেয় কীভাবে, প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও কীভাবে কলকাতা হাইকোর্ট অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি) শংসাপত্র ইস্যুতে জয়েন্ট এন্ট্রাসের ফল প্রকাশে শর্ত চাপাতে পারে?

ওবিসি নিয়ে স্থগিতাদেশ সত্ত্বেও হাইকোর্ট নির্দেশ দেয় কীভাবে, প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের
  • ১৩ আগস্ট, ২০২৫ ১৭:০৮
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও কীভাবে কলকাতা হাইকোর্ট অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি) শংসাপত্র ইস্যুতে জয়েন্ট এন্ট্রাসের ফল প্রকাশে শর্ত চাপাতে পারে? মঙ্গলবার এই প্রশ্ন তুলল খোদ সুপ্রিম কোর্ট। উপরন্তু রাজ্য সরকার মনে করলে হাইকোর্টের নির্দেশের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলাও করতে পারে বলে শুনানির পর্যবেক্ষণে মন্তব্য করলেন দেশের প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাই। রাজ্য সরকার জানাল, সে ব্যাপারে বিবেচনা করব। তবে জয়েন্টের ফলপ্রকাশ সংক্রান্ত যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে আলাদা (ইন্টারলোকিউটরি অ্যাপ্লিকেশন) দায়ের করেছি। সেটির দ্রুত শুনানির আর্জি জানাচ্ছি। আদালত জানিয়েছে, আগামী কাল, বৃহস্পতিবার শুনানি হবে। 

Advertisement

ওবিসি শংসাপত্র সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশের উপর আবার গত ২৮ জু঩লাই স্থগিতাদেশ দেয় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিরই বেঞ্চ। সেদিন বিচারপতি গাভাই মন্তব্য করেছিলেন, ‘উই আর সারপ্রাইজড! কীভাবে হাইকোর্ট এই মামলায় স্থগিতাদেশ দিতে পারে? সংরক্ষণ তো এগজিকিউটিভ সিদ্ধান্তের অংশ। ইন্দিরা সাহানি মামলায় ন’জন বিচারপতির রায়েই তা স্পষ্ট।’
এরপরও গত বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্ট পুরনো সংরক্ষণ মেনেই জয়েন্টের মেধা তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে। ২০১০ সালের আগে তৈরি ৬৬টি গোষ্ঠীর ওবিসি সংরক্ষণের ভিত্তিতেই মেধা তালিকা প্রকাশের শর্ত চাপিয়েছে হাইকোর্ট। আর সেটাই মানতে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। তাই সুপ্রিম কোর্টে এসেছে। মঙ্গলবার সেই মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন করে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে ‘উল্লেখ’ (মেনশন) করা হয়। রাজ্যের পক্ষে বলা হয়, কলকাতা হাইকোর্ট একের পর এক নির্দেশের জেরে জয়েন্ট এন্ট্রান্স সহ অন্যান্য পরীক্ষার ফল প্রকাশে জটিলতা বাড়ছে। সরকারি নিয়োগেও খুব সমস্যা হচ্ছে। তা শুনে বিচারপতি বিনোদ চন্দ্রন এবং বিচারপতি এন ভি আনজারিয়াকে পাশে রেখে প্রধান বিচারপতি গাভাইয়ের মন্তব্য, ‘ওবিসি নিয়ে আমরা তো ইতিমধ্যেই স্থগিতাদেশ জারির নির্দেশ দিয়েছি। তাহলে? তারপরেও কীভাবে হাইকোর্ট এমন নির্দেশ দেয়? আপনারা চাইলে আদালত অবমাননার মামলা করুন। আমরা দেখব।’ 
সুপ্রিম কোর্টে মূল ওবিসি মামলায় রাজ্যের দাবি, শংসাপত্রের বিজ্ঞপ্তি সংক্রান্ত মামলায় জটিলতার জেরে ৪০ হাজার পদে শিক্ষক নিয়োগ আটকে আছে। প্রোমোশন বন্ধ। ৯ লক্ষ আসনে ছাত্র ভর্তিতে জট কাটছে না। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর এই মূল মামলার শুনানি হবে। ততদিন পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ নির্দেশের উপর শীর্ষ আদালতের স্থগিতাদেশ রয়েছে। যদিও তারই মধ্যে হাইকার্টে মামলার জেরে গত ৭ আগস্ট জয়েন্টের ফল প্রকাশ আটকে গিয়েছে। তাই সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের দাবি, মূল ওবিসি মামলায় যখন শীর্ষ আদালত স্থগিতাদেশই দিয়েছে, তখন জয়েন্ট এন্ট্রান্সের ফল প্রকাশে কেন ২০১০ সালের আগের সংরক্ষণ তালিকা মানা হবে? ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, এদিন উল্লেখপর্বে রাজ্যের কথা শুনে প্রাথমিকভাবে সহমতই পোষণ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। এখন দেখার, আগামী কাল কী হয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ